সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: এ যেন উলটপুরাণ! রাজ্যজুড়ে যেখানে গোঁজ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়ে একের পর এক সাসপেন্ড করা হচ্ছে। সেখানে পুরুলিয়ায় জেলা-সহ ব্লক স্তরে নির্বাচনী কমিটি গড়ে দিয়ে ‘বিদ্রোহী’ গোঁজদের রাগ ভাঙিয়ে মন জয় করার নির্দেশ দেওয়া হল। কারণ, জঙ্গলমহলের এই জেলায় জেলা পরিষদ স্তরে গোঁজদেরকে দল থেকে ছেঁটে ফেলা হলেও পঞ্চায়েত ও সমিতির স্তরে গোঁজের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। তাই তাদেরকে সাসপেন্ড করলে ভোটে প্রভাব পড়তে পারে। তাই বুঝেশুনে চলছে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই কারণেই নির্বাচনী প্রচার কমিটির বৈঠক থেকে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব প্রচার কমিটিতে থাকা সদস্যদের এই বার্তা দিয়েছে।
পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা পুরুলিয়া জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ স্থায়ী সমিতির বিদায়ী কর্মাধ্যক্ষ সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, “আমরা আগেই বলেছিলাম এবার জেলা ও বিভিন্ন ব্লক স্তরে নির্বাচনী প্রচার কমিটি গড়া হবে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক কমিটি গড়ে কমিটিতে থাকা নেতানেত্রীদের একগুচ্ছ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম যারা দলের সদস্য কিন্তু টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রতীকে লড়াই করছেন। তারা যাতে দলের ছত্রছায়ায় এসে প্রার্থীর হয়ে ভোটের কাজ করেন সেই বিষয়টি দেখতে হবে। প্রয়োজনে তাদেরকে বুঝিয়ে নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া আরও একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
[আরও পড়ুন: কোচবিহারে লাগাতার অশান্তি, ভোটের মুখে বাড়ল নিশীথের নিরাপত্তা]
পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে এই জেলায় এখনও খাতায়-কলমে তৃণমূলের গোঁজ রয়ে গিয়েছেন ৯৬ জন। পঞ্চায়েত সমিতিতে সেই সংখ্যাটা ৫২। জেলা পরিষদে একজন। যদিও জেলা সভাপতি বলেন, “দলের নির্দেশ মেনে আমাদের জেলাতেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জেলা পরিষদে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতিতেও এমন উদাহরণ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আমরা গোঁজদেরকে বুঝিয়ে দলের ছত্রছায়ায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। পঞ্চায়েত ও সমিতিতে আমরা অনেক জনকেই বোঝাতে পেরেছি। গ্রাম পঞ্চায়েতে গোঁজের যে সংখ্যাটা ৯৬ ছিল সেটা ৩০শে নেমে এসেছে। সমিতিতে ৫২ থেকে পাঁচ-ছয়ে।”
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, গোঁজ বা তার সঙ্গে সম্পর্কিত এমন মোট সাতজনকে এই জেলায় সাসপেন্ড করা হয়েছে। মধ্যে ৬ জন জেলা পরিষদের। একজন পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী। নির্বাচনী প্রচার কমিটির বৈঠক থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিজেদের মধ্যে যাতে কোথাও কোনও মনোমালিন্য না থাকে। মন কষাকষি মিটিয়ে নির্বাচনী প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ ও কুড়মিদের উন্নয়নে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা তুলে ধরে বাড়ি বাড়ি প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
[আরও পড়ুন: মিলেমিশে একাকার ইদ-দুর্গাপুজো, মুসলিম কিশোরীকে কুমারী রূপে পুজো করল এই ক্লাব]
সর্বশেষ খবর
-
কৃষ্ণনগরে হস্টেলের শৌচালয়ে খুদে ছাত্রীর দেহ! খুনের অভিযোগ পরিবারের
-
হতশ্রী ফুটবল! এবার তাজিকিস্তানের কাছেও হার খালিদ জামিলের ভারতের
-
‘যা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণাতেই…’, স্বরূপের গ্রেপ্তারির পর স্বস্তিতে ঋত্বিক!
-
সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী! ১০ জুন নেহরুর রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির গড়বেন মোদি
-
নদিয়ায় ‘পুরুষ অন্নপূর্ণা’র খোঁজ, গ্রামীণ চিকিৎসকের অ্যাকাউন্টে ঢুকল টাকা