অভ্রবরণ চট্টোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: পঞ্চায়েত নির্বাচনকে (Panchayat Polls 2023) ঘিরে সন্ত্রাস ও হিংসা নিয়ে ফের প্রশাসনকে তোপ রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের। এবার শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়ে রাজ্যপাল বলে দিলেন, তাঁর কাছে ছাড়াই-বাছাই করে সন্ত্রাসের রিপোর্ট পাঠানো হয়। তাই উত্তরবঙ্গে যেখানে ভোট-অশান্তি, সেসব এলাকা সরেজমিনে খতিয়ে দেখবেন তিনি।
মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছিল ক্যানিং। সেসময় সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল (CV Anand Bose)। এবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েও সিভি আনন্দ সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেই আসল পরিস্থিতিটা জানতে চান। শিলিগুড়ির স্টেট গেস্টহাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল বলে দেন, “উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তাই আমি গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়ে দেখতে চাই সন্ত্রাস আর হিংসার ছবিটা কতখানি ভয়ংকর। আহত এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চাই। ভোটের অশান্তিতে তাঁদের জীবন কতটা প্রভাবিত, জানতে চাই। স্থানীয়দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের থেকে সমস্যাগুলো না শুনলে পুরোটা বোঝা যাবে না। কারণ আমার কাছে সন্ত্রাসের যে রিপোর্ট এসে পৌঁছায়, তা ছাড়াই-বাছাই করে পাঠানো হয়।”
[আরও পড়ুন: ‘সারা রাত পার্টি করে পরের দিন ২৫০ করেছিল কোহলি’, বিরাট বন্দনায় ইশান্ত]
তিনি আরও জানান, শুধু দার্জিলিং নয়, যেখানেই ভোট-অশান্তি হয়েছে, সেখানেই তিনি পৌঁছে যেতে চান। আপাতত দার্জিলিংয়ের পাশাপাশি দুই দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, জলপাইগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি। তবে রাজ্যপালের এই সফরকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে আক্রমণ করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার। তাঁর দাবি, যেখানে বিরোধী দলের কেউ আক্রান্ত হয়েছেন, সেসব জায়গায় বেছে বেছে যাচ্ছেন রাজ্যপাল। যেন বিজেপি তাঁকে বলে দিচ্ছে কোথায় কোথায় যেতে হবে। পক্ষপাতদুষ্ট কাজ করছেন তিনি। এভাবে রাজনৈতিক সফর করলে তাঁর সম্মান থাকবে না। তিনি বিজেপির এজেন্ট কিংবা মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন মনে হবে।
এদিকে, এদিন শিলিগুড়ি পা রেখেই উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে যান তিনি। এক্সিকিউটিভ বৈঠক চলাকালীন হঠাৎই ঢুকে পড়েন রাজ্যপাল। নতুন উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেন। সেই সঙ্গে জানান, আগামী ২৮ জুন উত্তরবঙ্গের সব উপাচার্যকে নিয়ে বৈঠক করবেন তিনি। তবে বিশ্ববিদ্যলয় থেকে বেরনোর মুখে সিভি আনন্দকে কালো পতাকা দেখায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।