সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগে তিন বছর আগেকার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের কাউন্সিলর স্বামী। মঙ্গলবার দুপুরে রিষড়ার বাড়ি থেকে সাকির আলি নামে ওই কাউন্সিলরকে এনআইএ গ্রেপ্তার করার পর বিকেলে পুলিশের সাহায্যে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করার সময় কার্যত আছড়ে পড়ল জনবিক্ষোভ। কাউন্সিলরের গ্রেপ্তারি আটকাতে বাড়ি থেকে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ধরলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, অন্যায়ভাবে কাউন্সিলর সাকির আলিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। দাঙ্গায় উসকানি নয়, তিনি দাঙ্গা থেকে গোটা পাড়াকে বাঁচিয়েছিলেন বলে দাবি মহিলা, পুরুষ নির্বিশেষে সকলের।
স্বামীর এমন অতর্কিত গ্রেপ্তারি মেনে নিতে পারছেন না প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। মহিলা পুলিশদের সঙ্গে তিনিও কিছুটা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ক্ষোভের সুরে অপরূপা বলছেন, ‘‘অন্যায়ের কাছে মাথানত করিনি, করব না। ৩ বছর আগের মামলায় এভাবে নিয়ে যাওয়াটা অন্যায়। ঈশ্বর, আইন আর সাধারণ মানুষ এর বিচার করবেন। আমরা বিচারব্যবস্থার উপর ভরসা রাখি।”
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার সকালে আচমকাই আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের রিষড়ার বাড়িতে পৌঁছে যায় এনআইএ টিম। জানা যায়, ২০২৩ সালে রিষড়ায় রামনবমী ঘিরে যে বড়সড় অশান্তি হয়েছিল, সেই মামলার ভিত্তিতে এনআইএ তদন্ত করতে এসেছে। রিষড়ার গান্ধী সড়কের ওই বাড়িতেই থাকেন প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা পোদ্দার ও তাঁর স্বামী রিষড়া পুরসভার কাউন্সিলর সাকির আলি। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বাড়ি ঘিরে ফেলে ভিতরে যান এনআইএ আধিকারিকরা। কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর সাকির আলিকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। এই খবর বাইরে আসতেই বাড়ির সামনে জড়ো হন অপরূপা ও সাকিলের অনুগামীরা। গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান।

জনতার এই বিক্ষোভ চরমে ওঠে বিকেলে, পুলিশের সাহায্যে সাকির আলিকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময়। পুলিশ এবং পুলিশের গাড়ি ঘিরে ধরেন তাঁরা। দাবি একটাই, কাউন্সিলরকে নিয়ে যাওয়া যাবে না। এক মহিলার কথায়, ‘‘উনি আমাদের ত্রাতা। উনি আমাদের বাড়ি দিয়েছেন। ওঁকে কেন এভাবে নিয়ে যাচ্ছে? আমরা যেতে দেব না।” আরেকজন বলেন, ‘‘যারা এটা করল, তাদের পাপ হবে।” স্থানীয় এক ব্যক্তির বক্তব্য, ‘‘বলা হচ্ছে উনি দাঙ্গায় উসকানি দিয়েছেন। সেটা তো ভুল কথা। উনি তো দাঙ্গা থেকে রিষড়াকে, আমাদের বাঁচিয়েছেন। প্রত্যেক পাড়ায় গিয়ে উনি সবাইকে বুঝিয়েছেন যে এভাবে অশান্তি করতে নেই।” তাঁদের কথায় স্পষ্ট, কতটা জনপ্রিয় ছিলেন সাকির আলি।
স্থানীয়দের এই প্রতিবাদের মাঝে দেখা গেল অপরূপা পোদ্দারকেও। তিনিও স্বামীকে যেতে দিতে নারাজ। এনআইএ-র এই ভূমিকায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ। বারবারই তিনি বলেন, তিন বছর আগেকার মামলায় এভাবে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া অন্যায়। তা মেনে নেবেন না, আইনের দ্বারস্থ হবেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এ কেমন স্বাধীনতা! তেরঙ্গা যাত্রায় যোগে বাধা অনশনকারী দেবেন্দ্রকে, টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেল হেমন্তর পুলিশ
-
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের মা-বাবার সঙ্গে ‘প্রেমিকা’ তৃষা, বিচ্ছেদ গুঞ্জনকে কাঁচকলা!
-
‘কাল থেকেই ধর্মতলা সাফ করুন’, স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে কাদের সতর্ক করলেন শমীক?
-
‘নীরবতাই সর্বোত্তম পথ’, পিতৃশোকে কাতর মেসিকে নিয়ে বিশেষ বার্তা ইন্টার মায়ামি কোচের
-
বোল্ড হয়ে বেল তুলে বসিয়ে দিলেন ‘হতাশ’ হেড, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হার মেনেই নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া?