BREAKING NEWS

১ আশ্বিন  ১৪২৭  শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

যোগ্যতার মাপকাঠিতেই চূড়ান্ত মমতার মন্ত্রিসভার তালিকা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 25, 2016 8:47 am|    Updated: May 25, 2016 8:47 am

An Images

কিংশুক প্রামাণিক: নিঃসন্দেহে বিরাট জয়৷ অভূতপূর্ব সমর্থন মানুষের৷ আগামী পাঁচ বছর আরও বড় দায়িত্ব৷ কিন্তু সমস্যা বাম আমলের বিপুল দেনার দায়৷ পাঁচ বছরে মিটিয়েছেন এক লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা৷ ২০১৭ সালে ঋণের উপর সুদের সেই ভার এতটাই বড় আকার নেবে যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে রাজ্যের রুটিন উন্নয়নের কাজ৷ কীভাবে সেই পরিস্থিতি সামলাবেন?

শপথ নেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীর মাথায় এখন এই চিন্তাগুলিই ঘুরপাক খাচ্ছে৷ একদিকে রাজ্যের মানুষের বিশাল রায়, অন্যদিকে সংসদে তৃণমূলের ৪৬ জন সাংসদ৷ বাংলার দাবি আদায় মমতার জোর এই ‘টিম বেঙ্গল’ই৷ আগামী দিনে তাই আর্থিক ইস্যুতে দিল্লির সঙ্গে লড়াইটা আরও বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ এখন থেকেই এ ব্যাপারে প্রস্তুতি শুরু করছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

খুব স্বাভাবিকভাবেই মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রেও মমতা এবার খুব সতর্ক৷ নতুন পুরনোর মিশেলে এমন একটি মন্ত্রিসভা তিনি গড়তে চাইছেন, যেটি তাঁর সঙ্গেই টগবগে ঘোড়ার মতো ছুটবে৷ পারফরম্যান্সই হবে যার শেষ কথা৷ শুক্রবার শপথ৷ কারা কারা মন্ত্রী হবেন মমতার তালিকা চূড়ান্ত৷ যেভাবে ভোট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ২৯৪ আসনের প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত ছিল৷ চূড়ান্ত ছিল ইস্তাহার ও প্রচারের প্রস্তুতি৷

নতুনদের মধ্যে আসছেন নন্দীগ্রাম থেকে নির্বাচিত তরুণ নেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ এছাড়া মন্ত্রী হচ্ছেন আলিপুরদুয়ার থেকে নির্বাচিত সৌরভ চক্রবর্তী ও জায়েণ্ট কিলার প্রদ্যোৎ ঘোষ৷ যিনি নারায়ণগড় আসনে হারিয়েছেন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রকে৷

কারা মন্ত্রী হবেন? সত্যি কথা বলতে কী, জনমানসে এ নিয়ে এখন প্রবল আগ্রহ৷ এমন কী, তৃণমূলের অন্দরেও৷ নেত্রীকে মন্ত্রিসভা চূড়়ান্ত করার দায়িত্ব দিয়েছে দল৷ বিদায়ী মন্ত্রিসভার অনেকেই ভাবছেন তিনি থাকবেন তো? আসলে এ ব্যাপারে বজ্রকঠিন শৃঙ্খলা কালীঘাটের অফিসে৷ তালিকায় কে কে তা একমাত্র জানেন নেত্রী৷ গোটা দলটাকে হাতের তালুর মতো চেনেন৷ মুখস্থ ২১১ বিধায়কের বায়োডাটা৷ সেই প্রেক্ষিতেই যেটুকু তথ্য পাওয়া গিয়েছে তা থেকে বলা যেতে পারে আট মন্ত্রী হারায় তাঁদের শূন্যস্থান পূরণে মুখ্যমন্ত্রী সচেষ্ট৷ মণীশ গুপ্তকে মন্ত্রী করে পরে জিতিয়ে আনা হবে৷ পুরনো যাঁরা ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিলেন তাঁদের সিংহভাগই মন্ত্রী হচ্ছেন৷ নতুনদের মধ্যে আসছেন নন্দীগ্রাম থেকে নির্বাচিত তরুণ নেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ এছাড়া মন্ত্রী হচ্ছেন আলিপুরদুয়ার থেকে নির্বাচিত সৌরভ চক্রবর্তী ও জায়েণ্ট কিলার প্রদ্যোৎ ঘোষ৷ যিনি নারায়ণগড় আসনে হারিয়েছেন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রকে৷ এর বাইরে মুখ্যমন্ত্রী এবার অঙ্ক কষেই কিছু সিনিয়র ব্যক্তিত্বকে ভোটে টিকিট দিয়েছিলেন৷ তাঁরা হলেন আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি, ওয়াকফ বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবদুল গনি, উদয়ন গুহ৷ এঁদের মধ্যে মন্ত্রিসভায় কারা? জল্পনা তুঙ্গে৷

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর তালিকায় জেলাভিত্তিক ভারসাম্য রাখছেন৷ দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, হাওড়া, হুগলিতে পুরনো মুখের সঙ্গে আসবে কয়েকটা নতুন মুখ৷ বর্ধমানের ফলাফল খুব ভাল৷ বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে৷ বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে রয়েছে৷ জঙ্গলমহলেও এবার তৃণমূল আসন বাড়িয়েছে৷ পারফরম্যান্স ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রতিনিধিত্ব থাকবে সেখানকার৷ মুর্শিদাবাদেও চারটি আসন জিতেছে তৃণমূল৷ খুবই ভাল ফল৷ তবে মালদহ কেউ না জেতায় মন্ত্রিসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকছে না৷ বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর মাথায় রয়েছে৷ সিনিয়র নেতাদের মধ্যে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে এবার মন্ত্রীর চেয়ারে দেখলে অবাক হওয়ার থাকবে না৷ স্পিকার থাকছেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ই৷

এবারের ভোটে যে প্রতিকূলতার বিরু‌দ্ধে মমতা লড়েছেন তা নজিরবিহীন৷ ফলে তিনি খুব কঠোর৷ তাঁর অভিজ্ঞতা, শেষ কথা মানুষই৷ ফলে কোনওরকম দলবিরোধী কাজ, পারফরম্যান্সে ঘাটতি, উপেক্ষা-অবহেলা তিনি বরদাস্ত করবেন না৷

এদিকে শপথের প্রস্তুতি তুঙ্গে৷ অরবিন্দ কেজরিওয়াল, নীতীশ কুমার, ফারুক আবদুল্লা, বেঙ্কাইয়া নায়ডু কনফার্ম করেছেন৷ এই তালিকাটি আরও দীর্ঘ হবে৷ আসছেন ভুটানের রাজা শেরিন টোবগেও৷ অন্যান্য জগতের বিশিষ্টরা আমন্ত্রিত৷  অনেকেই আসতে চান শুক্রবারে রেড রোডে শপথে৷

এদিকে বুধবার আবার দলীয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী৷ আজ ডাকা হয়েছে সাংসদদের৷ এ ছাড়া থাকবে জেলা সভাপতি, গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নেতৃত্ব ও কয়েকজন পরাজিত বিধায়ক৷ তৃণমূল সূত্রের খবর, বিধায়কদের পর এবার সাংসদদেরও কতকগুলি বিষয়ে কঠোর বার্তা দেবেন দলনেত্রী৷ পাশাপাশি সংসদে তৃণমূলের কী ভূমিকা হবে তা নিয়েও একপ্রস্থ আলোচনা হবে৷ এদিকে যে ৮২ জন প্রার্থী জিততে পারেননি, দু-এক জন বাদ দিলে তাঁদের প্রত্যেককেই দলের কাজে যুক্ত করা হবে৷ আজ কয়েকটি আসনে হারের ময়নাতদন্ত হতে পারে৷ জেলা সভাপতিদের রিপোর্ট জমা হয়েছে কালীঘাটের অফিসে৷

বস্তুত এবারের ভোটে যে প্রতিকূলতার বিরু‌দ্ধে মমতা লড়েছেন তা নজিরবিহীন৷ ফলে তিনি খুব কঠোর৷ তাঁর অভিজ্ঞতা, শেষ কথা মানুষই৷ ফলে কোনওরকম দলবিরোধী কাজ, পারফরম্যান্সে ঘাটতি, উপেক্ষা-অবহেলা তিনি বরদাস্ত করবেন না৷ কিছু লোককে শাস্তির মুখে পড়তেই হচ্ছে৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন কালিম্পঙের পরাজিত হরকা বাহাদুর ছেত্রী৷ তাঁর ভোটিং রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে কালিম্পঙ শহরে অধিকাংশ ওয়ার্ডে হরকা জিতলেও গ্রামে হেরেছেন৷ এর কারণ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সামনে রেখে রিগিং৷ মুখ্যমন্ত্রী এদিন হরকাকে বলেন, তৃণমূলের প্রতীক না নিয়ে তিনি ভুল করেছেন৷ সেই মাশুলই তাঁকে দিতে হল৷

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement