‘কমিউনিকেশন ইজ দ্য কি’ বলে থাকেন সম্পর্ক বিশারদরা। অর্থাৎ, কথা বললেই মনের যাবতীয় তালাবন্ধ কুঠুরির চাবি খুঁজে পাওয়া যায়। প্রেম সহজ হয়, সহজ হয় সম্পর্ক-সংসার টেকানো। আগেকার দিনে প্রেম জানাতে চিঠি লিখত বেশিরভাগ মানুষই। আলেকালে দেখা হত, বড় ভাগ্য করে দু’দণ্ড গল্প করার সুযোগ জুটে যেত কপালে।
এখন সময় বদলেছে। সোশাল মিডিয়ার দৌলতে চাইলেই জুড়ে থাকা যায় মনের মানুষটির সঙ্গে। সারাদিনে কী কী ঘটছে, তা মুহূর্তে জানানো যায় সঙ্গীকে। কোনও বিষয়ে তার মতামত চাওয়া যায়। অনেকদিন দেখা হয়নি মনে হলেই ভিডিও কল করে নেওয়া যায়। উপহার দিতে চাইলে, পাঠিয়ে দেওয়া যায় অনলাইন অ্যাপের সাহায্য নিয়ে। ফলে দূরত্ব সব অর্থেই ঘুচে গিয়েছে বলা চলে। অথচ এই পরিস্থিতিতেই এক নতুন সমস্যা দেখতে পাচ্ছেন রিলেশনশিপ কোচরা। অতি ঘনিষ্ঠতায় (over communication) নাকি ভাঙনের মাত্রা বাড়ছে সম্পর্কে! এমনটা কেন জানতে গেলে খুঁজে পাওয়া যায় বেশ কিছু কারণ।
আরও পড়ুন:

১। কোনও মেসেজ পাঠানো হলে, উলটোদিকের মানুষটি কত দ্রুত অনলাইন হয়ে তার উত্তর দিতে পারছে, তা-ই বর্তমানে হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’-এর সংজ্ঞা। সঙ্গী যদি প্রয়োজনের সময় অনলাইন না থাকে, কোনও বিষয়ে মতামত চেয়ে যদি অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়, তবে অপরপ্রান্তে থাকা মানুষটি ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ধরে নেয়, সঙ্গী তাহলে আগ্রহী হয় এ বিষয়ে।
২। সর্বক্ষণ ‘কানেক্টেড’ থাকাই প্রেমের একমাত্র পরিভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে একজন যদি আজ কী খেয়েছে, কারও সঙ্গে কী নিয়ে কথা বলেছে তা জানাতে ভুলে যায় সঙ্গীকে, তাতেই সঙ্গী অধৈর্য হয়ে পড়ে। প্রত্যাখ্যাত অনুভব করে। আর এতে হয়তো না জানিয়েই মনে মনে দূরত্ব তৈরি করে নেয় অপরজনের সঙ্গে। এরপর ব্রেক-আপ কেবল সময়ের অপেক্ষা!
৩। অন্তর্মুখী মানুষেরা অবশ্য অন্য ধরনের সমস্যায় পড়েছেন এ অবস্থায়। এমন অনেকেই রয়েছেন যারা সঙ্গীকে ভালোবাসেন নিঃসন্দেহে। কিন্তু খানিকটা সময় নিজের মতো সময় কাটাতে পছন্দ করেন। কী করছেন না করছেন, নিরন্তর অন্যকে তার আপডেট দিতে ইচ্ছে করে না তাঁদের। বরং সারাক্ষণ জবাবদিহি করতে হলে হাঁপিয়ে ওঠেন একটা সময়ের পর।

কী করা যায় তবে?
মনোবিদরা বলছেন, দুই পক্ষকেই ধৈর্যের অভ্যেস করতে হবে। ‘কানেক্টেড’ থাকা অন্যায় নয়, তবে অন্যজনকে সারাক্ষণ জেরা করতে থাকা, প্রেমের পরিচয় হতে পারে না। একটি সম্পর্কে অন্যজনের যাতে দমবন্ধ না লাগে, সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে দুজনকেই। সর্বোপরি, সোশাল মিডিয়ার গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে সামনাসামনি কথা বলতে হবে। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমে, সহজ হয় অন্যের মনের ভাব আন্দাজ করা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হামের মারণ হানা বাংলাদেশে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ৬০৫
-
পশুপাখির ঘর কেড়ে ১০ হাজার কক্ষের রিসর্ট! ট্রাম্পের জামাইয়ের বিরুদ্ধে জনগর্জন আলবেনিয়ায়
-
অফিসে জোর করে ধর্মান্তর! টিসিএসের পর উইপ্রো, বিস্ফোরক অভিযোগে ফের উত্তাল মহারাষ্ট্র
-
নেত্রী নাকি পরামর্শদাতা? মমতার ভূমিকা নিয়ে এবার ‘আসল তৃণমূলে’ও ফাটল!
-
সকাল থেকে নেই সাড়া! দিঘায় হোটেল থেকে উদ্ধার দম্পতির দেহ