সুরজিৎ দেব, ডায়মন্ড হারবার: সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছিল শিশুর। প্রাণ ফেরার আশায় বুক বেঁধে কলার ভেলায় মৃত শিশুকে নদীতে ভাসিয়েছিলেন পরিবারের প্রিয়জনেরা। খবর পেয়ে পুলিশ মৃত শিশুর দেহ নদী থেকে উদ্ধার করে সৎকারের নির্দেশ দেয়। কুসংস্কারের সাক্ষী দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ থানার বুদাখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রসাদপুর এলাকা।
বুদাখালি পঞ্চায়েতের প্রসাদপুরে মঙ্গলবার বিষাক্ত সাপের কামড়ে প্রাণ যায় বছর চারেকের শিশু তুষার দাসের। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু প্রাণ বাঁচানো যায়নি ছোট্ট শিশুটির। বিষাক্ত সাপের ছোবলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ওই শিশু। পরিবারের ছোট্ট সদস্যের মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই শোকের ছায়া নেমে আসে। সাপের কামড়ে মৃতের প্রাণ ফেরাতে গ্রামেগঞ্জে এখনও দেহ কলার মান্দাসে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার চল আছে। আর সেই অন্ধবিশ্বাসে দেহ সৎকার না করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় খুদের দেহ।
[আরও পড়ুন: টাকার বিনিময়ে বেআইনি গর্ভপাত? নদীর ধার থেকে ভ্রূণ উদ্ধারে বিতর্কে বালুরঘাটের হাসপাতাল]
মৃত শিশুর কাকা বিভীষণ দাস এখনও বিশ্বাস করেন সেই অবৈজ্ঞানিক ধারণাকেই। তিনি বলেন, “আমাদের বিশ্বাস, সাপের কামড়ে মৃতকে কলার ভেলায় নদীতে ভাসিয়ে দিলে মা মনসার কৃপায় কোনও না কোনও দিন তার দেহে প্রাণ ফিরবেই। সেইমতো গ্রামবাসী এবং পরিবারের সদস্যরা সকলে মিলে আলোচনা করেই ছোট্ট তুষারকে সাজিয়ে গুজিয়ে নদীর জলে ভাসানো হয়েছিল। মান্দাস ভাসতে ভাসতে গিয়ে ঠেকবে কোথাও না কোথাও। ওই মান্দাসে থাকা মৃত শিশুর দেহে প্রাণ ফিরলে যাতে ওই এলাকার মানুষ শিশুটিকে বাবা-মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে পারেন সেজন্য মান্দাসে সেঁটে দেওয়া হয়েছিল আমাদের ফোন নম্বর ও ঠিকানা-সহ একটি চিরকুটও। মান্দাস নদীতে ভাসানো হলেও পরে পুলিশ তা উদ্ধার করে। সৎকারের নির্দেশ দেয়।”

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত শিশুকে সৎকার না করে কলার ভেলায় নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়ামাত্রই দেহটিকে উদ্ধার করা হয়। মৃতের মা-বাবা ও প্রিয়জনেদের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বোঝানোও হয় বিজ্ঞানের যুগে এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ও কুসংস্কারমাত্র। মৃত মানুষের শরীরে প্রাণ ফেরানো যে কখনওই সম্ভব নয়, এমন চিন্তাধারা যে একেবারেই অবাস্তব তা অনেকবার বোঝানোর পর শোকার্ত পরিবারটি পুলিশের কথামতো মৃত শিশুর সৎকার করে।
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ এই ঘটনায় একশ্রেণির মানুষের অশিক্ষা ও অবৈজ্ঞানিক চিন্তাধারাকেই দায়ী করেছেন। বিজ্ঞানমঞ্চের ডায়মন্ড হারবার শহর কমিটির সভাপতি তাপস কুমার হালদার বলেন, “বিজ্ঞানের যুগে আজও যে মানুষ এমন ভ্রান্ত ধারণায় বিশ্বাসী তা দুর্ভাগ্যজনক। বিজ্ঞানমঞ্চ গ্রামেগঞ্জে কুসংস্কার বিরোধী লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে। তা সত্ত্বেও একটি অংশের মানুষ এখনও যে কুসংস্কারে বিশ্বাসী এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এজন্য বিজ্ঞানমঞ্চের সদস্যরা গ্রামেগঞ্জে কুসংস্কার বিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারের উপর আরও অনেক বেশি জোর দেবে।”
[আরও পড়ুন: ব্যর্থতা থেকে ইতিহাস, ৪ বছরে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াল ইসরো? চন্দ্রযানের গতিপথই বা কেমন ছিল?]
সর্বশেষ খবর
-
আসল তৃণমূল কারা? ২১ জুলাইয়ের আগেই ভাগ্য নির্ধারণের ডেডলাইন চূড়ান্ত করলেন স্পিকার
-
ট্রাম্পের রক্তচক্ষু ফেল, মার্কিন মুলুকে জয়ী ফুটবল! গ্রুপ পর্বেই বিশ্বকাপে সর্বকালীন রেকর্ড দর্শক
-
‘প্লিজ ইস্তফা দিন’, জন্মদিনে শিক্ষামন্ত্রীকে ‘উপহার’ ককরোচ পার্টির, ১৪ মৃত পড়ুয়ার তালিকা পাঠাল কংগ্রেস
-
গুগলের ৪ কোটির চাকরি ছেড়ে খোলেন রেস্তরাঁ, প্রাক্তন টেককর্মীর বর্তমান আয় জানলে চমকে যাবেন!
-
রুশ মাটিতে রবীন্দ্র-জয়যাত্রা, কবিগুরুর হাতে আঁকা ছবির প্রদর্শনী শুরু মস্কোয়