পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে (Tulu Mondal) ঘিরে মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই তার জাল ছড়িয়ে পড়ছে! এবার তা বীরভূমের গণ্ডি পেরিয়ে মুর্শিদাবাদে। ধৃতদের জেরা করে একাধিক ঘটনায় মুর্শিদাবাদ-যোগের সন্ধান মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। অন্যদিকে প্রবীর কুমার দাস ও সেহগাল হোসেনকে জেরা করে ইতিমধ্যে একাধিক তথ্য সামনে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
সেহগালের সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠতার কথা আগে থেকেই প্রকাশ্যে। গরু পাচার মামলায় অনুব্রতের সঙ্গে সেহগালকে তিহার জেলেও থাকতে হয়েছে। ফলে টুলু মণ্ডলের সঙ্গে সেহগালের কোনও আর্থিক বা ব্যবসায়িক যোগসূত্র প্রমাণিত হলে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারীদের দাবি, সিউড়ির কল্পতরু পল্লি থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সদর মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রবীর কুমার দাসকে জেরা করে বেশ কিছু নথির হদিস সামনে আসে। সেই সূত্রে প্রবীরকে সঙ্গে নিয়ে বহরমপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। দীর্ঘ তল্লাশির পর সেখান থেকে টুলু মণ্ডলের পাথর ব্যবসা সংক্রান্ত একাধিক নথি উদ্ধার করা হয় বলে খবর। সেই তদন্তের সূত্রেই ভোররাতে প্রবীরকে সঙ্গে নিয়েই ডোমকলে অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সেহগাল হোসেনের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। সেখান থেকেও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতে এসেছে বলে খবর।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, প্রবীরকে সঙ্গে নিয়ে সেহগালের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর প্রয়োজন কেন হল? প্রবীরের স্ত্রী ইতিমধ্যেই আদালতে অভিযোগ করেছেন, তাঁর বাপের বাড়ির একটি ফাঁকা ঘরে পুলিশই টুলু মণ্ডল সংক্রান্ত পাথরের নথি রেখে দিয়েছে। তাঁর দাবি, প্রবীরকে মামলায় ফাঁসাতেই এমন করা হচ্ছে। একই ভাবে কয়েক দিন আগে আদালত চত্বরে সেহগালও দাবি করেন, তাঁর কাছ থেকে কিছু উদ্ধার হয়নি, অথচ তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
এই দুই বক্তব্যের পর তদন্তের আসল অভিমুখ নিয়েই জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেহগালের সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠতার কথা আগে থেকেই প্রকাশ্যে। গরু পাচার মামলায় অনুব্রতের সঙ্গে সেহগালকে তিহার জেলেও থাকতে হয়েছে। ফলে টুলু মণ্ডলের সঙ্গে সেহগালের কোনও আর্থিক বা ব্যবসায়িক যোগসূত্র প্রমাণিত হলে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। এর পাশাপাশি উঠে আসছে বড়ঞার প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার নামও। চাকরি চুরি মামলায় অনুব্রতের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছিল। তাঁর এলাকায় বেআইনি বালি খাদান নিয়েও অতীতে নানা অভিযোগ উঠেছে। আবার জীবনকৃষ্ণের সঙ্গে বীরভূমের যোগও রয়েছে। সাঁইথিয়ায় তাঁর বাবা ও পিসির বাড়ি রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণভাবে, সাঁইথিয়া ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন প্রবীর দাস। ফলে টুলু-কাণ্ডের তদন্তে প্রবীর, সেহগাল, জীবনকৃষ্ণ ও অনুব্রতকে ঘিরে একাধিক সূত্র সামনে আসছে। বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের এই যোগসূত্র শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীদের কোনও বড় চক্রের কাছে পৌঁছে দেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।
সর্বশেষ খবর
-
প্রেমিকের গাড়িতে ৩৪০০ চুমু প্রেমিকার! গোয়ালিওরের ‘চুম্বন গাড়ি’র ভিডিও ভাইরাল, চালন কাটল পুলিশ
-
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ও আজকের বাংলাদেশ, কলকাতায় প্রকাশিত ‘ধানমণ্ডি ৩২, পোড়াবাড়ির সংলাপ’
-
‘ভারত পিছিয়ে পড়েছে’, গম্ভীরের দল নিয়ে আদৌ আশা দেখছেন প্রাক্তন হেডস্যর দ্রাবিড়?
-
আরও বাড়ল বার্ধক্য-বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতা, এবার কত টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে?
-
‘বাপের বাড়ি যেতে স্বামীর অনুমতির প্রয়োজন নেই’, নির্দেশ কর্নাটক হাই কোর্টের