সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে প্রথমবার লোকসভা ভোট হতে চলেছে সাত দফায়। ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট শুরু হবে ১১ এপ্রিল, শেষ ১৯ মে। প্রথম দিন রাজ্যের মাত্র ২টি আসনে ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় দফায় ১৮ এপ্রিল রাজ্যের ৩টি আসনে এবং তৃতীয় দফা ২৩ এপ্রিল,৫টি আসনে হবে ভোট। চতুর্থ দফা ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে রাজ্যের ৮টি আসনে। পঞ্চম দফা ৬ মে রাজ্যের ৭টি আসনে ভোট। ষষ্ঠ দফা, ১২ মে ভোট নেওয়া হবে রাজ্যের ৮টি আসনে। এবং শেষ দফা ১৯ মে বাকি ৯টি আসনে ভোটগ্রহণ।
প্রথম দফায় ভোট হবে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে। দ্বিতীয় দফায় জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, রায়গঞ্জে ভোটগ্রহণ। তৃতীয় দফায় মালদহ দক্ষিণ, মালদহ উত্তর, বালুরঘাট, জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে ভোট। চতুর্থ দফায় ভোট হবে বহরমপুর, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, আসানসোল, বর্ধমান পূর্ব, বর্ধমান দুর্গাপুর, বোলপুর, বীরভূমে। পঞ্চম দফায় হাওড়া, উলুবেড়িয়া, আরামবাগ, হুগলি, শ্রীরামপুর, বারাকপুর, বনগাঁয় ভোট। ষষ্ঠ দফায় ভোট দেবেন তমলুক, কাঁথি, ঘাটাল, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, পুুরুলিয়া, বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া কেন্দ্রের ভোটাররা। শেষ দফায় বারাসত, বসিরহাট, দমদম, জয়নগর, যাদবপুর, কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবারে ভোট। এসবের মধ্যে আবার ২৯ এপ্রিল কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের পর সেই আসনটি শূন্য হওয়ায় উপনির্বাচন হবে।
মনে করা হচ্ছে, রাজ্যে এর আগে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনী পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা জানিয়েছেন, ভোটপর্ব নিরাপদে সম্পন্ন করতে সর্বত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার জন্য এত দফায় নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৪ সালে এরাজ্যের ৪২টি আসনে ৫ দফায় ভোট হয়েছিল। তাতে অশান্তি, প্রাণহানির সংখ্যা কম ছিল না। পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ পুরভোট, পঞ্চায়েত ভোট এবং বিধানসভা ভোটে অশান্তি, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। তাতে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুপস্থিতিতে এসব ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন বিরোধীরা।
দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল, শোভন-বৈশাখিকে কটাক্ষ অনুব্রতর
রবিবার ভোট ঘোষণার গোড়াতেই নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছিলেন, ১০০ শতাংশ স্বচ্ছ, অবাধ নির্বাচন করাই এবার তাদের লক্ষ্য। তার জন্যে যে কোনওরকম ব্যবস্থা নিতে চায় কমিশন। রাজনৈতিক মহলের মত, সেক্ষেত্রে এরাজ্যের আগেকার নির্বাচনী পরিস্থিতি কথা বিবেচনা করে, স্পর্শকাতর বিভিন্ন জায়গাগুলিতে যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে যথেষ্ট উত্তেজনাপ্রবণ বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। যাতে এখানকার কোনও বুথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী নেই, এই অভিযোগের সুযোগ না থাকে। প্রথম দফায় মাত্র ২টি আসনে ভোট হবে এরাজ্যে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, এই দফায় রাজ্যের সবচেয়ে স্পর্শকাতর দু’টি কেন্দ্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কমিশনার সুনীল অরোরা বারবারই উল্লেখ করেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশের প্রতিটি রাজ্যে তা ঠিকমতো মোতায়েন করা কমিশনের কাছেও চ্যালেঞ্জের বিষয়। তাই ভেবেচিন্তেই পশ্চিমবঙ্গে ৭ দিন ভোট করতে চায় কমিশন।
বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে আহত ৩, আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম
পশ্চিমবঙ্গের মতো স্পর্শকাতর রাজ্য হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে বিহার, উত্তরপ্রদেশকেও। এই দুই রাজ্যেও একইভাবে ৭ দফায় ভোট হবে। প্রতিটি বুথে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইভিএমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে ভিভিপ্যাট। এবছর ইভিএমে দলীয় প্রতীক ছাড়াও থাকবে প্রার্থীদের নাম। সবমিলিয়ে রাজ্যের ৪২টি, বিহারের ৪০টি এবং উত্তরপ্রদেশের ৮০টি আসনে অবাধ, সুষ্ঠু এবং যথাযথ নিরাপত্তার সঙ্গে ভোট করতে বদ্ধপরিকর জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
সর্বশেষ খবর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার
-
টিটাগড়-বারাকপুর পুর-দুর্নীতিতে স্পেশাল অডিটের দাবি, মেট্রো নিয়েও তৎপর কৌস্তভ