অমিত সিংদেও, মানবাজার: এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি। অথচ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কৃষি পুকুর খননের কাজ! এমন বেনিয়মে কাঠগড়ায় শাসক দল তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত। ফলে ‘ভ্যানিশ’ পুকুর দেখতে এখন ভিড় জমছে পুরুলিয়ার বরাবাজার ব্লকের শুকুরহুটু গ্রামে। বিজেপির অভিযোগ, খোদ তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ও তার পরিবার ভুয়ো জব কার্ডের মাধ্যমে পুকুর খননের টাকা আত্মসাৎ করেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওই পঞ্চায়েত সদস্যের পরিবার। বরাবাজার ব্লকের বিডিও মাসুদ রাইহান বলেন, “তবে এই মর্মে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ জানালে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে।”
২০২০-২১ অর্থবর্ষে বরাবাজার ব্লকের শুকুরহুটু অঞ্চলের শুকুরহুটু গ্রামের প্রান্তিক চাষি পশুপতি মাহাতোর একটি ‘ফার্ম পন্ড’ বরাদ্দ হয়। সেই মোতাবেক পুকুর খননের কাজ শুরুর আগে একটি বোর্ড নিয়ে গিয়ে ওই চাষির জমিতে ছবি তুলে আনেন গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীরা। আর তারপর কেটে গিয়েছে দুটো বছর। ফলে সাড়ে ২২ শতক ওই জমিতে ধান চাষ করেছিলেন পশুপতি মাহাতো।
[আরও পড়ুন: দিল্লিতে ইডি দপ্তরে হাজিরার আগেই গুলিতে ঝাঁজরা রাজু! কয়লা মাফিয়া খুনে আরও রহস্য]
স্থানীয় বাসিন্দা অমর মুখোপাধ্যায়, সন্তোষকুমার মাহাতো, সুশান্ত মাহাতো জানালেন, “শুক্রবার গ্রাম পঞ্চায়েতর এক কর্মী ওই চাষির জমিতে একটি বোর্ড রেখে ছবি তুলছিলেন। ওই সময় গ্রামে কয়েকজন তাকে জিজ্ঞেস করে কিসের ছবি তুলছেন তিনি? এরপরই ওই পঞ্চায়েত কর্মীর কাছ থেকে জানা যায়, ওই জমিতে একটি পুকুর খনন হয়েছে। কিন্তু পুকুরটি হয়েছে কোথায়? ওই জমিতে তো এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে ভিড় জমান গ্রামের মানুষজন। ডাকা হয় জমির মালিককেও। জমির মালিক পশুপতি মাহাতো জানান, “আমার জমিতে একটি পুকুর খনন করা হবে বলে প্রায় দু’বছর আগে পঞ্চায়েত থেকে একটি বোর্ড বসিয়ে ছবি তুলে নিয়ে যায়। সেই বোর্ড আমার বাড়িতেই আছে। তারপর আর কিছুই জানি না।”
আর এর পরেই তৃণমূল পরিচালিত ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্নীতি ধরা পড়ে। পরের দিন ওই প্রকল্পের মাস্টাররোল বার করেন গ্রামের কয়েকজন। তাতে জানা গিয়েছে, ওই গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য গীতারানি মাহাতো এবং তার পরিবার-সহ প্রায় ৫০ জন ওই পুকুর খননের কাজ করেছে। যার দরুন তারা টাকাও তুলেছেন। অথচ কিছু কাজই হয়নি ওই জমিতে এমনই দাবি করেছেন পশুপতি। আর এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরেই তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি। বিজেপির বরাবাজার ১ মণ্ডল সভাপতি মানিকরাম মাহাতো বলেন, “গ্রামের মানুষজন হাতেনাতে একটি পুকুর চুরি ধরেছেন। প্রকৃত তদন্ত হলে এরকম আরও একাধিক চুরি ধরা পড়বে। তৃণমূলের চুরির কোনো সীমা নেই।” যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শুকুরহুটু গ্রামের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী স্বপন মাহাতো ও তার দাদা তপন মাহাতো। তাঁদের দাবি, “অভিযোগ ভিত্তিহীন। পঞ্চায়েত সদস্য-সহ আমার পরিবারের বেশ কয়েকজন একশো দিনের প্রকল্পে পুকুর খননের কাজ করেছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ‘ফার্ম পন্ড’ তৈরি জন্য ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ। মোট তিন ধাপে ছবি-সহ কাজের অনুপাতে মাস্টাররোলের মাধ্যমে টাকা দেওয়া। কিন্তু প্রশ্ন, প্রথম ধাপে কাজ না হওয়ায় কীভাবে ওই প্রকল্পের টাকা অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। গোটা বিষয়টি তদন্তের দাবি করেছেন পশুপতি মাহাতো। তৃণমূল কংগ্রেসের বরাবাজার ব্লক সভাপতি লম্বোদর মাহাতো বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি। তৃণমূল দুর্নীতিকে সমর্থন করে না। গোটা বিষয়টি প্রশাসনকে তদন্ত করে দেখার জন্য অনুরোধ।”
২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে শুকুরহুটু অঞ্চলের ১৩ টি আসনের মধ্যে ৭ টি পায় বিজেপি। তিনটি তৃণমূলের দখলে আসে। কিন্তু প্রধানের আসন তফসিলি উপজাতির মহিলা সংরক্ষিত থাকায় তৃণমূলের প্রধান ওই পঞ্চায়েতের কুর্শিতে বসে। পরবর্তী সময়ে বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূল যোগদান করেন।
[আরও পড়ুন: ‘CBI ডেকেছিল, নিশ্চয়ই বড় নাম বলেছে, তাই খুন’, শক্তিগড়ে কয়লা মাফিয়া খুনে বিস্ফোরক দিলীপ]
সর্বশেষ খবর
-
হুগলির ঘাসফুল শিবিরে বড় ভাঙন, কংগ্রেসে যোগ ২ নেতার, কোন্নগর পুরসভাও এবার ‘হাতে’র হাতে?
-
স্রেফ নিটের নম্বর নয়, চিকিৎসা প্রবেশিকায় চাই দ্বাদশের ফলাফলও! নিয়ম বদলের পথে কেন্দ্র?
-
পাঁচ মিনিটেই পৌঁছবে পুলিশ! আমেরিকার ৯১১-এর ধাঁচে বঙ্গে দ্রুত চালু হচ্ছে ১১২ হেল্পলাইন
-
৫৪ ফুটের দোসা, ১৪ টনের বিরিয়ানি! গিনেসবুকে নাম তোলা ভারতের এই ৬ ডিশ চেখেছেন?
-
ন’বছর পর শ্রীলঙ্কায় টেস্ট খেলতে যাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া, কবে কোথায় ম্যাচ?