সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: নিরাপদ রক্ত সংগ্রহের জন্য এবার সরকারি হাসপাতালের মতন বেসরকারি হাসপাতালেও চালু হল ক্রেডিট কার্ড। গোটা রাজ্যের মধ্যে দুর্গাপুরেই প্রথম চালু হল ব্যবস্থা৷ গোটাই হয়েছে দুর্গাপুর সাবডিভিশন ভলেন্টিয়ারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের নিরন্তর প্রচেষ্টায়।
[ আরও পড়ুন: স্কুলে ২ মাসের ছুটি কমিয়ে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত হোক, আবেদন শিক্ষক সংগঠনের ]
সরকারি হাসপাতালে রক্তদান করলে দাতাকে যে ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয়, পরে তা দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি হাসপাতাল থেকেই রক্ত সংগ্রহ করতে পারেন তিনি। এতদিন এই পরিষেবা সীমাবদ্ধ ছিল সরকারি হাসপাতালের মধ্যে৷ এবার থেকে সেই পরিষেবা চালু হল বেসরকারি হাসপাতালেও। সেখানে ভরতি রোগীর পরিজনেরাও প্রয়োজনে এবার সেই হাসপাতাল থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে৷ আগে অর্থের বিনিময়ে দাতা সংগ্রহের উপর নির্ভর থাকতে হতে। এই পদ্ধতি নিরাপদ নয় বলেই ২০০৯-এ একটি নির্দেশিকা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ‘ভিশন ২০২০’ নামক ওই নির্দেশিকায় বিশ্বের সমস্ত ব্লাড ব্যাংককে একশো শতাংশ স্বেচ্ছায় রক্তদাতা নির্ভর পরিষেবা প্রদান করতে হবে বলে জানানে হয়। তাই পরিবর্ত রক্তদাতা ও অর্থের বিনিময়ে দাতা সংগ্রহকে নির্মূল করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশকে হাতিয়ার করে আন্দোলনে নামেন রক্ত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন। সেই নির্দেশিকাকে যথাযথভাবে সফল করতে বেসরকারি হাসপাতাল গুলিকেও এগিয়ে আসতে হবে বলেই মনে করেন সংগঠনের সদস্যরা।
[ আরও পড়ুন: বিজেপি কর্মীদের বাড়িতেই পুলিশি অভিযান! আউশগ্রামে জোট বেঁধেছেন মহিলারা ]
দুর্গাপুরেও শুরু হয় বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে আলোচনা। দুর্গাপুরে মোট ছয়টি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে পাঁচটিতেই কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ন্যাশানল ব্লাড ট্রান্সমিশন কাউন্সিল’ ও ‘ন্যাশানাল এইডস কন্ট্রোল অথরিটি’ অনুমোদিত ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতাল ও দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক সরাসরি এই দুই কেন্দ্রীয় সংস্থার আর্থিক সহযোগিতায় চলে। তাই বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে রক্তদানের বিনিময়ে ক্রেডিট কার্ড চালু করা না গেলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকার সফল রূপায়ণ হবে না বলেই মনে করে দুর্গাপুর ভলান্টিয়ারি ব্লাড ডোনার্স ফোরাম। ব্লাড ব্যাংক থাকা পাঁচটি বেসরকারি হাসাপাতালের মধ্যে চারটি হাসপাতাল চালু করেছে ক্রেডিট কার্ড। দুটি হাসপাতাল ২০১৫ থেকে এই পরিষেবা চালু করলেও অন্য দুটি বেসরকারি হাসপাতাল গত বছর থেকে চালু করেছে ক্রেডিট কার্ড। এই চারটি বেসরকারি হাসপাতাল ২০১৮ পযর্ন্ত মোট ২৫৮৬টি ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করেছে বলে ফোরাম সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্য একটি হাসপাতাল এখনও রক্তের বিনিময়ে এই কার্ড ইস্যু করতে রাজি নয় বলেই জানা গিয়েছে। দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালও ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করে না। এখনও পরিবর্ত রক্ত দিয়েই হাসপাতাল চলছে বলে সূত্রের খবর। দুর্গাপুর মহকুমা ভলান্টিয়ারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেশ পালিত বলেন, “পরিবর্ত রক্তদাতা বা অর্থের বিনিময়ে দাতার রক্ত রোগীর শরীরের পক্ষে নিরাপদ নয়। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই নির্দেশিকা। বেসরকারি হাসপাতালগুলি সরকারি হাসপাতালের মতন ক্রেডিট কার্ড দিলে স্বেচ্ছা রক্তদাতা নির্ভর পরিষেবা বৃদ্ধি পাবে। রাজ্যের প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালেই এই নয়া পরিষেবা চালু করা উচিত। তবেই বিশ্বে একশো শতাংশ স্বেচ্ছা রক্তদাতার রক্ত মিলবে।’’
সর্বশেষ খবর
-
এবার মাদ্রাসাতেও জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা, নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্যদপ্তরের
-
বিশ্বকাপের ‘দ্বিতীয়’ উদ্বোধনী মঞ্চে আগুন ধরালেন নোরা, কানাডা কাঁপালেন ‘বাংলাদেশি’ ডিজে
-
জুটত না থালাভর্তি ভাতও! অভাবকে পরাস্ত করে আকাদেমি পুরস্কার পাচ্ছেন ২ ছৌ শিল্পী
-
‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যেতেই পদ খোয়ালেন মালা রায়, মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী কে?
-
সড়কপথে ৩৫০ কিমি পাড়ি, বাংলাদেশ পৌঁছলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী