মনিরুল ইসলাম, উলুবেড়িয়া: ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে সপরিবার ভোট দিলেন তিনি। বললেন, দেশের নাগরিক হিসাবে তাঁর কর্তব্য পালন করেছেন। তিনি মিতা সাঁতরা। শহিদ বাবলু সাঁতরার স্ত্রী। মাস কয়েক আগে কাশ্মীরে গাড়ি করে স্থানান্তরের সময় পুলওয়ামায় জঙ্গিদের গাড়ি বিস্ফোরণে শহিদ হন বাবলু। পরনে সালোয়ার-কামিজ। সঙ্গে একরত্তি মেয়ে। পথে দেখা মিতার সঙ্গে। তিনি জানালেন, অন্যান্য বারের মতো এবার সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে তিনি ভোট দিয়েছেন। বাউড়িয়ার চককাশী এলাকায় নিজের বুথে ভোট দিয়েছেন মিতা।
মাসখানেক আগেও তিনি ছিলেন অন্যরকম। জানিয়েছিলেন, ভোট দেবেন কি না ঠিক করেননি। যাই হোক বদলে যাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি ভোট দানের পক্ষেই সিদ্ধান্ত নেন এবং পরিবারের অন্যদের সঙ্গে ভোটদানও করেন। তবে আসন্ন সরকারের কাছে তাঁর দাবি, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক দেশের সৈনিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আঁটসাঁট করুক। যাতে করে তাঁর স্বামীর মতো অসহায় অবস্থা অন্য কারও না হয়। কথা বলার সময় তিনি বেশ উত্তেজিতই ছিলেন। পুলওয়ামার ঘটনার কথা বলতেই তাঁর চোখ থেকে যেন ঝরে পড়ল ক্ষোভের আগুন। পুলওয়ামার ঘটনার কথা যে তাঁরা কখনওই ভুলতে পারবেন না। তবু নিজেকে সংবরণ করে মিতা তাঁর দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, বালাকোটে আক্রমণ নিয়ে তিনি মন্তব্য করবেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন। পুলওয়ামার ঘটনার তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি আগামী দিনের সরকারের প্রতি আস্থা রেখেছেন। এদিন তিনি বললেন, যে সরকারই আসুক না কেন সেই সরকারের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। আশা করি তদন্তের ব্যাপারে সরকার যেটা ঠিক মনে করবে সেটাই করবে। তাই বলাই বাহুল্য মিতা কার্যত সরকারের কোর্টেই বল ঠেলে দিয়েছেন। তাঁর কথার অর্থ এই যে, তিনি তাঁর কর্তব্য করছেন। সরকার তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুক। যদিও বাবলুর মৃত্যুর পর কয়েকমাস কেটে গেলেও এখনও মিতা সরকারি কোনও চাকরি পাননি। কিছু আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন মাত্র। নেতারা জানিয়েছেন, ভোট মিটলে চাকরির বিষয়টা দেখবে তারা। সেই আশাতেই তিনি রয়েছেন।
সবেমাত্র শেষ হয়েছে পঞ্চম দফার ভোট গ্রহণ পর্ব। ৬ মে ভোট হয়েছে হাওড়ায়। ভোটের আগেই মিতার বাড়িতে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীই গিয়েছেন। তৃণমূল প্রার্থী সাজদা আহমেদ, বিজেপি প্রার্থী জয় বন্দ্যোপাধ্যায়, বাম প্রার্থী মাকসুদা খাতুন, কংগ্রেস প্রার্থী সোমা রানিশ্রী রায়, সকলেই মিতার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। বিদায়ী সাংসদ সাজদা আহমেদ বলেন, “রাজ্য সরকার তো মিতার পরিবারের পাশে রয়েছে। আমিও মিতার নানা সুবিধা অসুবিধায় পাশে থাকব।” পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক প্রার্থী ইদ্রিশ আলিও। এই কেন্দ্রেই মিতাদের বাড়ি। আগামী ২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ। তারপর দেশে গঠিত হবে নতুন সরকার। এখন দেখার, সেই সরকার বা নেতারা কতটা মিতার পাশে থাকেন।
সর্বশেষ খবর
-
‘টোটো অবৈধ, এ বার ই-রিকশা’, ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের
-
বিচ্যুতি দেখলেই ‘অ্যাকশন’, ‘তোলাবাজ’ ধরতে জেলা পর্যবেক্ষকদের গুরুদায়িত্ব শমীকের!
-
যশের দ্বৈত চরিত্রে ঘায়েল দর্শক, ‘টক্সিক’-এর ট্রেলারে উঠে এল নয়ের দশকের অন্ধকার জগৎ
-
মক্কায় তৈরি মুসলিম ন্যাটো ‘কাগুজে বাঘ’! যুদ্ধ বাঁধলে সত্যিই কি পাকিস্তানে সেনা পাঠাবে তুরস্ক-সৌদি?
-
খিচুড়ির সঙ্গে ডিম, বোনাস গজা, শনিবারের মিড-ডে মিলে খুশি পড়ুয়ারা