ঘুরে দাঁড়াতে গিয়েও ধাক্কা! তাই পরিস্থিতির চাপে জঙ্গলমহলে সিপিআই (মাওবাদী)-র সশস্ত্র সংগ্রাম থেকে ইতি টানলেন। দীর্ঘ আড়াই দশক পর সিপিআই (মাওবাদী)-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সামরিক বাহিনী নিজের হাতে ভেঙে জঙ্গল ছাড়লেন বৃদ্ধ আকাশ ওরফে অসীম মন্ডল। মনোজ নাম নিয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু একের পর এক স্কোয়াড সদস্যের যৌথ বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু, গ্রেপ্তার সর্বোপরি আত্মসমর্পণ-এ নতুন ছক করছেন ৬৪ বছরের ওই শীর্ষ মাও নেতা। এমন তথ্যও বাংলা-ঝাড়খন্ড পুলিশের হাতে এসেছে।
২০১৮ পর্যন্ত বাংলা ছুঁয়ে থাকা ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলায় পার্টিকে ধরে রেখেছিলেন। তারপর একাধিক ডেরা বদল করে পশ্চিম সিংভূম জেলার সারান্ডা। সম্প্রতি সেখান থেকে ফিরে এসে ফের এই তল্লাটে সংগঠন সাজানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি।
আরও পড়ুন:
৮০-র দশকে কলেজ জীবন থেকে অতিবামপন্থী আন্দোলনে যুক্ত তিনি। সিপিআই (মাওবাদী) প্রতিষ্ঠা-সহ ৪০ বছর জঙ্গলে থেকে অবশেষে বাহিনীর সাঁড়াশি চাপে জঙ্গলে একে ৪৭ লুকিয়ে শহরে ডেরা বাঁধলেন এক কোটি টাকার ইনামির সিপিআই (মাওবাদী)-র একমাত্র সক্রিয় জীবিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা এই রাজ্যের সম্পাদক আকাশ। আর তারপরেই এই রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকদের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন আকাশের ছায়া সঙ্গী শচিন, মিতা ও জবা। তবে রবিবার পর্যন্ত বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েই আত্মগোপন করে রয়েছেন ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থানার বিদরি গ্রামের সমীর সিং সর্দার ওরফে মঙ্গল এবং গোপীবল্লভপুরের বাসিন্দা তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মু। ঝাড়খণ্ড পুলিশ তাদের মাথার দাম রেখেছে যথাক্রমে ৫ লাখ ও ২ লাখ। তবে বাংলা-ঝাড়খণ্ডের পুলিশ সহ গোয়েন্দাদের অনুমান শচিন, মিতা ও জবার আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের পর তারাও সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসবেন। কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার উত্তর ফুলচকের বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজ কোন ভাবেই আত্মসমর্পণের করবেন না। হেফাজতে থাকা বঙ্গ ব্রিগেডের তিন মাও নেতা -নেত্রীর কাছ থেকে এমনই তথ্য পেয়ে তাজ্জব বনে গিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
সহযোদ্ধাদের ভালো থাকার পরামর্শ দিয়ে ১৩-১৪ অগাষ্ট পুরুলিয়া ছুঁয়ে থাকা ঝাড়খণ্ডের দলমা রেঞ্জের জঙ্গল থেকে তিনি সাধারণ পোশাকে বেরিয়ে যান। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন ৬৪ বছর বয়সী আকাশের শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। তিনি উচ্চ রক্তচাপ সমস্যায় ভুগছেন। তাছাড়া এই বয়সে বাহিনীর তাড়া খেয়ে একের পর এক পাহাড় ডিঙিয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটতে হাঁপিয়ে পড়ছিলেন। জঙ্গলমহল থেকে অস্ত্র ছেড়ে আকাশের শহরে চলে যাওয়ার খবরে বাহিনী যেমন স্বস্তি পেয়েছে তেমনই আরেকটা বিষয়ে নাড়া দিয়েছে। কারণ তিনি ৪ আগষ্ট দলমা পাহাড় ও সন্নিকটে ঝাড়খণ্ড পুলিশের কাছে চার সহযোদ্ধা গ্রেপ্তারের সময় আকাশ সহ ৬ জন ঘণ্টাখানেকের দূরত্বে পাহাড়ের অন্য একটি ডেরায় ছিলেন। যদিও পরে গোটা দলমা প্রায় হাজার ২ বাহিনী ঘিরে ফেলে। তবে বরাবর মতোই ক্ষুরধার রণকৌশলের কারণে বাহিনীর ঘেরা ভেঙে নিঃশব্দে তিনি তার স্কোয়াডকে নিয়ে অন্যত্রে পৌঁছে যান। সেখানে এক সপ্তাহ পর পর্যালোচনা সেরে স্কোয়াড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপশি তিনি সেখানে থাকলে বাংলা-ঝাড়খণ্ডের পুলিশ সহ বিভিন্ন এজেন্সির ফোকাস সেখানে থাকবে। আর এই পরিস্থিতিতে বাকিদের ক্ষতি হতে পারে। তাই শেষ বারের মতো প্রত্যেকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একদা ঘাঁটি এলাকা পাহাড়ি জঙ্গলে থেকে নেমে মোটরবাইকে চেপে অজানা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে একেও সামরিক কৌশল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। কারণ ২০১১ সালে সিপিআই (মাওবাদী)-র পলিটব্যুরোর নেতা কিষেনজির মৃত্যুর পর চতুর্থ রাজ্য সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন আকাশ।
কিন্তু সেই সময় থেকেই বাংলায় জনভিত্তি হারিয়েছিল মাওবাদীরা। ২০১৮ পর্যন্ত বাংলা ছুঁয়ে থাকা ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলায় পার্টিকে ধরে রেখেছিলেন। তারপর একাধিক ডেরা বদল করে পশ্চিম সিংভূম জেলার সারান্ডা। সম্প্রতি সেখান থেকে ফিরে এসে ফের এই তল্লাটে সংগঠন সাজানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। তিনিই এক মাত্র রাজ্য সম্পাদক যিনি টানা ১৫ বছর ধরে অধরা থেকে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শহরে ডেরা বাঁধার বিষয়ে ২০১১ সালের এক সাক্ষাত্কারের একটি বিষয় খুব প্রাসঙ্গিক বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন ” জঙ্গলমহলের বাইরে ছড়িয়ে পড়ায় আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য!”
সর্বশেষ খবর
-
‘ট্রফিচোর নকভি’, এশিয়া কাপ ফাইনালে গ্যালারি থেকে তুমুল কটাক্ষ, পালিয়ে বাঁচলেন পাক বোর্ড প্রধান!
-
দেশেই আক্রান্ত কার্গিল যুদ্ধের বীর! অপারেশন সফেদ সাগরের ‘হিরো’কে বেধড়ক মারধর দুষ্কৃতীদের
-
স্ত্রীর মাথা কেটে ফ্রিজে, চলন্ত পুলিশভ্যান থেকে লাফ দিয়ে মৃত্যু অসমের সেই যুবকের
-
কালীঘাট মন্দিরে গয়না চুরিতে সিবিআই তদন্তের দাবি! এবার ‘সুপ্রিম’ দরবারে সাবর্ণ পরিবার
-
শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসন, ‘গুরুকুল’ শিক্ষাব্যবস্থার প্রাণভ্রমর