রাজা দাস, বালুরঘাট: দুই শিক্ষিকার কাজিয়া। আর তাদের অশান্তির মাসুল দিতে হল দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের। দুই শিক্ষিকা প্রশ্নপত্র বের করলেন। কোন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে? এটা বুঝতেই কেটে গেল পাক্কা এক ঘণ্টা। দুজনেই নিজেদের প্রশ্নপত্র পরীক্ষা নিতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। শেষপর্যন্ত পরীক্ষা হলেও বিভ্রান্তির শিকার হল বালুরঘাটের আরসিডি গার্লস স্কুলের ছাত্রীরা।
[সকালে মৃতপ্রায় সন্তানসম্ভবা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন বিকেলে]
ঠিক কী হয়েছিল? পড়ুয়ারা জানায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা স্বপ্না চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুইটি টুডুর আকচাআকচি দীর্ঘদিনের। এই নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত হয়েছিল। সুযোগ পেলেই দুজনেই একে অপরকে টাইট দেওয়ার চেষ্টা করেন। তার ফলশ্রুতি এদিনের ঘটনা। মঙ্গলবার স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষা ছিল। সংস্কৃত পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল সকাল ১০টায়। কিন্তু পরীক্ষার্থীরা জানতে পারে দুটি প্রশ্নপত্র হয়েছে। শিক্ষিকা সুইটি টুডু নিজের মতো করে একটি প্রশ্নপত্র আনেন। আর প্রধান শিক্ষিকা স্বপ্না চক্রবর্তীর সঙ্গে ছিল এবিটিএ প্রশ্নপত্র। যা নিয়ে রীতিমতো বিভ্রান্তি তৈরি হয় পড়ুয়াদের মধ্যে। তার ফলে বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে পরীক্ষা। কোন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে তা নিয়ে দুই শিক্ষিকার মধ্যে বচসা শুরু হয়। সুইটি টুডুর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষিকা তাঁর খেয়াল খুশি মতো প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেন। প্রধান শিক্ষিকার এবিটিএ-এর প্রশ্নপত্র নিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষিকাও প্রতিবাদ জানান। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষিকা জানান নিয়ম মেনেই সব হয়েছে। অবশেষে কাজিয়া থামিয়ে প্রায় ঘন্টা খানেক বাদে এবিটিএ-এর প্রশ্নপত্র দিয়ে শুরু হয় পরীক্ষা।
[মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের গেরো, অ্যাম্বুল্যান্স ছেড়ে হেঁটে হাসপাতালে রোগী]
অভিভাবকদের অভিযোগ দুই দিদিমণির গণ্ডগোলে প্রতিদিনই স্কুলে নানা সমস্যা লেগে থাকে। ব্যাহত হয় পঠন-পাঠন। পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে তাদের সন্তান। মৌসুমি মিনজি নামে এক অভিভাবকের বক্তব্য, বার্ষিক পরীক্ষা মিটে গেল তাদের সন্তানকে অন্য স্কুলে নিয়ে যাবেন। বালুরঘাটের স্কুলটিতে ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত পড়ানো হয়। ওই বিদ্যালয়ে মূলত তপশিলি জাতি এবং উপজাতি পরিবারের মেয়েরা পড়াশোনা করে। পড়ুয়াদের অভিযোগ দুই শিক্ষিকার বিবাদে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্ষতি হচ্ছে স্কুলের পরিবেশ। হস্টেলে থাকার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। মিড ডে মিলও ঠিকমতো মিলছে না। স্কুল সূত্রে খবর দুই শিক্ষিকার গণ্ডগোল ঠেকাতে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তর হস্তক্ষেপ করেছিল। তাতেও শেষরক্ষা হল না।
ছবি: রতন দে
সর্বশেষ খবর
-
‘নরক উৎখাত হল’, খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের দিনই গর্জন ট্রাম্পের, পালটা তোপ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে
-
রিয়ালিটি শোয়ের চিত্রনাট্যকারের সঙ্গে প্রেম অদিতির! দেবরাজের হাজতবাসের মাঝেই বিস্ফোরক সৌম্য
-
দানের সোনা গলিয়ে বিস্কুটে রূপান্তর! রাম মন্দিরে চুরির তদন্তে চাঞ্চল্যকর দাবি সিটের
-
অবশেষে জানা যাচ্ছে অন্নপূর্ণার স্টেটাস! অ্যাকাউন্টে ৩০০০ ঢুকবে কি না কীভাবে জানবেন?
-
বিশ্বজোড়া নজির গড়বে ভারতীয় আয়ুর্বেদ! বাঙালি অর্থনীতিবিদের তৈরি নীল নকশা