সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: টানা বৃষ্টি। সঙ্গে দোসর ঝোড়ো হাওয়া। আর তার জেরেই সপ্তাহের প্রথম দিন রাস্তায় বেরিয়ে নাস্তানাবুদ রাজ্যবাসী। শহর-শহরতলিতে একাধিক জায়গায় ভাঙল গাছ। ট্রেন চলল দেরিতে। বাসের জন্যও যাত্রীদের বৃষ্টিতে ভিজেই দাঁড়িয়ে থাকতে হল দীর্ঘক্ষণ। ফলে টানা ছুটির আলসেমি মুহূর্তে উধাও হল আপিসবাবু থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের। প্যান্ট উঠল হাঁটুর উপর। অফিসে পৌঁছতেও রীতিমতো দেরি। অঝোর বৃষ্টির জেরে শহরের বেশ কিছু জায়গায় জল জমে যাওয়ায় গাড়ি চলাচলেও ঘটল ব্যাঘাত। আবহাওয়ার হালচাল দেখে নিত্যযাত্রীদের চোখেমুখে চরম বিরক্তি। এই পরিস্থিতি আগামী ৪৮ ঘণ্টাতেও বদলের বিশেষ সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। ফলে দুর্ভোগ আরও দু’দিন চলার আশঙ্কা।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, উত্তর বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। কলকাতা থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সাগরে তা অবস্থান করছে। যার ফলে কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি জেলাতে বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। সঙ্গী হবে ঝোড়া হাওয়া। উপকূলের জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪৫-৫০ কিলোমিটার বেগে এবং স্থলভাগে ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার কথা জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। এদিন কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের উপ-মহা নির্দেশক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে সরে ঝাড়খণ্ডের দিকে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। এরকম আবহাওয়া আগামী ৪৮ ঘণ্টা থাকবে। ইতিমধ্যে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে।
[তুমুল চাহিদা সত্ত্বেও ভরল না যুবভারতী, আভাস টিকিট দুর্নীতির]
রবিবার থেকেই আকাশ মেঘে ঢাকা। মাঝে-মধ্যেই দমকা হাওয়া। গরমের ক্লান্তি কাটিয়ে হঠাৎই একটু ঠান্ডার আমেজ। কিন্তু সেই আমেজই বিপত্তি ডাকল স্বাভাবিক জনজীবনে। ইতিমধ্যেই বিটি রোড, শ্যামবাজার, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের বেশ কিছু এলাকায় জল জমে। জল জমে পাতিপুকুর এবং দমদম আন্ডারপাসেও। তবে পুরসভার তরফে পাম্প চালিয়ে দ্রুত জল নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে একাধিক জায়গায় রাস্তার উপর গাছ ভেঙে যাওয়ায়। গড়িয়াহাট রোড, ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, ডিপিএস রোড এবং এজেসি বোস রোডের সংযোগস্থল, নারকেলডাঙা মেন রোড, লেকটাউন-সহ একাধিক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে। গাছ সরাতে বেশকিছুক্ষণ লেগে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে কর্তব্যরত ট্রাফিক গার্ডদের। তবে বেলার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
[রোজ পাঁচ থেকে ছয় জন করে জঙ্গি খতম করছে সেনা: রাজনাথ সিং]
এদিকে, নিউটাউনের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য তৈরি হওয়া দুটি তোরণ ভেঙে পড়ে বিপত্তি ঘটে। বেলার দিকেও আকাশের চেহারা পরিষ্কার হয়নি। ফলে দিনভর ভোগান্তি চলেছেই। আগামী দু’দিন যা তাড়া করে বেড়াতে পারে আমআদমিকে।
[গোধরা কাণ্ডে ১১ দোষীর মৃত্যুদণ্ড রদ গুজরাট হাই কোর্টে]
সর্বশেষ খবর
-
এবার উদয়ন গুহর বেআইনি নির্মাণেও বুলডোজার? মাপজোক করে কী নির্দেশ ভূমি সংস্কার দপ্তরের
-
ভুয়ো নথিতে ভিনরাজ্যের ক্রিকেটারদের সুযোগ দেন সিএবি কর্তা! বিতর্কে কী সাফাই অভিযুক্তর?
-
কোন রূপরেখায় বিশ্বকাপ খেলতে পারে ভারত? কানাডায় অ্যাকাডেমি খুলে কী উপলব্ধি ইস্টবেঙ্গল প্রাক্তনীর?
-
আধারের এই তথ্য পরিবর্তন বিনামূল্যেই করুন বাড়িতে বসে! জানুন কীভাবে
-
ফুটন্ত গরম চা সত্যিই প্রাণঘাতী? নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রমৃত্যুতে কী বলছেন চিকিৎসকরা?