BREAKING NEWS

১১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৯  সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আফরাজুলের খুনির প্রশংসা, দেখেও নীরব বিজেপি সাংসদ

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: December 10, 2017 7:34 am|    Updated: September 20, 2019 2:15 pm

Rajasthan hacking: WhatsApp group hail killer in presence of BJP MP, MLA

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাবার এমন অমানবিক মৃত্যু যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না মেয়ে। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে তার। ডুকরে কেঁদে উঠছে আর বলছে, এমনভাবে তো কোনও পশুকেও হত্যা করা হয় না। রাজস্থানে বাঙালি মহম্মদ আফরাজুল খুনের ঘটনা এখনও তাজা। নৃশংস হত্যাবাকণ্ডের প্রতিবাদে তোলপাড় কালিয়াচক-সহ গোটা রাজ্য। আর কয়েনের উলটো পিঠের মতোই রাজস্থানের ছবিটা। শোনা যাচ্ছে, রাজস্থানের বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আফরাজুল খুনে অভিযুক্ত শম্ভুলাল রেগারের দারুণ দারুণ প্রশংসা করা হচ্ছে। যার মধ্যে একটি গ্রুপে নাকি রয়েছেন রাজসামান্দের বিজেপি সাংসদ হরিওম সিং এবং বিধায়ক কিরণ মাহেশ্বরী।

লাভ জেহাদের কারণকে সামনে রেখে অমানবিকভাবে রাজস্থানে হত্যা করা হয় মালদহের মুসলিম শ্রমিক আফরাজুলকে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে তাঁকে আঘাত করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গোটা ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তারপর থেকেই উত্তাল বাংলা। মৃতের পরিবারকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই আফরাজুলের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যাওয়া তরুণী নিজেই লাভ জেহাদের তত্ত্ব অস্বীকার করেন। সাফ জানিয়ে দেন, মালদহের ওই প্রৌঢ়র সঙ্গে তাঁর কখনওই কোনও সম্পর্ক ছিল না। ব্যবসায়িক শত্রুতাতেই হত্যা করা হয় বলে দাবি তরুণীর।

[বসা হল না বিয়ের পিঁড়িতে, প্রেমিক সেনার মৃত্যুতে আত্মঘাতী তরুণী]

তা সত্ত্বেও ৩৬ বছরের শম্ভুলালের ‘কীর্তি’র ভূয়সি প্রশংসা করা হচ্ছে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। জানা যাচ্ছে, রাজসামান্দের এক বিজেপি বুথকর্মী প্রেম মালি ‘স্বচ্ছ রাজসামান্দ, স্বচ্ছ ভারত’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিলেন। যেখানে একটি মেসেজ খানিকটা এরকম- ‘লাভ জেহাদের রাস্তায় যারা হাঁটছ, তারা সাবধান! শম্ভুলাল জেগে উঠেছে। জয় শ্রীরাম।’ অনেকে আবার তাকে ন্যায় পাইয়ে দিতেও তৎপর। অভিযুক্তের হয়ে আইনজীবী সুখদেব সিং লড়বেন, তাও আবার বিনা পারিশ্রমিকে। সে ব্যবস্থার আলোচনাও হচ্ছে।

তবে গোটা ঘটনা অস্বীকার করে সুখদেব জানিয়ে দেন, এমন কোনও মামলা তিনি নিচ্ছেন না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যে গ্রুপে সাংসদ, বিধায়করা রয়েছেন, সেখানে কীভাবে খুনে অভিযুক্ত ব্যক্তির গুণগান গাওয়া হচ্ছে? এই পরিপ্রেক্ষিতে বিধায়ক কিরণ মাহেশ্বরী বলছেন, “হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিনিয়ত কী ঘটে চলেছে এত খবর রাখি না। তাছাড়া আমাকে উদ্দেশ করে তো কেউ কিছু লেখেনি। আর এধরনের মেসেজেই প্রমাণিত মানুষ কেমন বিকৃত মস্তিষ্কের হয়।” গ্রুপের অ্যাডমিন মালির আবার বক্তব্য, “গ্রুপে প্রত্যেকের ভিন্ন বিশ্বাস ও মতামত থাকে। তাই এ বিষয়ে আমার কিছু বলা চলে না।”

[বিমানে ‘শ্লীলতাহানি’র শিকার, চোখে জল অভিনেত্রী জায়রা ওয়াসিমের]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে