স্টাফ রিপোর্টার: তৃণমূলের চার প্রার্থী এবং তৃণমূল সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী–প্রত্যেকেরই জয় নিশ্চিত। তবু কোনওরকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয় রাজ্যের শাসক দল। একেবারে আর পাঁচটা নির্বাচনের মতো প্রস্তুতি। কোন প্রার্থীকে কীভাবে ভোট দিতে হবে তা বিধায়কদের টেলিফোন মারফত একাধিকবার বুঝিয়ে দিয়েছেন পরিষদীয়মন্ত্রী ও সরকারি মুখ্য সচেতক। আর আজ, শুক্রবার রাজ্যসভা নির্বাচন শুরুর আগে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেই ভোট দিতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সঙ্গে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপট আলাদা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্রস ভোটিং হয়েছিল। তৃণমূলের কয়েকজনের ভোট পড়েছিল বিজেপি প্রার্থীর ভোট বাক্সে। এবার সেই সম্ভাবনা যাতে না থাকে তার জন্য আগেভাগেই একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। রাজ্যসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসনে তৃণমূলের চার প্রার্থী শুভাশিস চক্রবর্তী, আবির বিশ্বাস, নাদিমুল হক ও শান্তনু সেনের জয় একপ্রকার নিশ্চিত। ২৯৩ জন (বিধায়ক কস্তুরী দাস কিছুদিন আগে প্রয়াত হয়েছেন) বিধায়কের ভোটেই নির্বাচিত হবেন রাজ্যসভার পাঁচ প্রার্থী। দলীয় সূত্রে খবর, জয়ের জন্য ৪৯টি করে ভোট লাগলেও ৫০-এর অধিক ভোটে তৃণমূল প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে শুভাশিস, আবির ও নাদিমুলকে ৫২টি করে ভোট দিয়ে জেতাবেন তৃণমূল বিধায়করা। ৫১টি ভোট পাবেন শান্তনু সেন। তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ের পর অতিরিক্ত ভোট কংগ্রেস প্রার্থী অভিষেক মনু সিংভিকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমাদের অতিরিক্ত ভোট দেওয়া হবে তৃণমূল সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থীকে। কোন বিধায়ক কাকে ভোট দেবেন তা বলে দেওয়া হয়েছে। এবং ভোট শুরুর আগে আমার সঙ্গে দেখা করে যেতে বলা হয়েছে।”
[রাজ্যসভায় শান্তনু সেন, আবির বিশ্বাসকে প্রার্থী করে চমক মমতার]
এরপরও যাতে বিধায়কদের কোনও ভুল না হয় তারজন্য রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ককে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। একজন ভোট কাউন্ট করবেন, একজন কাকে ভোট দিতে হবে বলে দেবেন, কে এল না তার খোঁজ রাখবেন আর একজন। কংগ্রেস থেকে যাঁরা তৃণমূলে এসেছেন, সেই সমস্ত বিধায়কদের কংগ্রেস প্রার্থীকেই ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বামফ্রন্ট থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে আসা দুই বিধায়ককে অনুপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। একটি ভোটও যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিধানসভায় কংগ্রেসের ঘরে গিয়ে বৈঠক করেন আবদুল মান্নান ও অভিষেক মনু সিংভির সঙ্গে।
[ভুল থেকে শিক্ষা, আগেভাগে মনোনয়ন পেশ রবীন দেবের]
সিংভি মনোনয়নপত্রে তথ্য ভুল দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাম প্রার্থী রবীন দেব। নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন। যদিও সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দেননি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার। যেহেতু স্ক্রুটিনি হয়ে গিয়েছে ফলে বাম প্রার্থীর অভিযোগ গ্রাহ্য নয় বলে জানিয়েছে কমিশন। সিংভির পাশে দাঁড়িয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “হেরে যাওয়ার ভয়ে মিথ্যা অভিযোগ আনছেন বাম প্রার্থী। যা বাস্তবের সঙ্গে কোনও মিল নেই। আর সিংভি প্রথিতযশা আইনজীবী, ফলে তিনি সব তথ্য দেখেই দিয়েছেন।” মিথ্যা অভিযোগ আনার জন্য বাম প্রার্থীর বিরুদ্ধে মানহানি মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিংভি। এদিন সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু। চলবে ৪টে পর্যন্ত। ৫টায় ভোট গণনা। বিজেপি জানিয়েছে তারা ‘নোটা’য় ভোট দেবে। মোর্চা বিধায়করা তৃণমূলকে সমর্থন দিচ্ছে। এই রাজনৈতিক অঙ্কের মধ্যে প্রশ্ন একটাই, এত প্রস্তুতির পরও যদি কোনও বিধায়ক ভুল করে বসেন? তাহলে কী হবে? উত্তর মিলবে আজ সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ।
[বিধানসভায় এলেন মনু সিংভি, মমতার সাক্ষাৎ চান কং-প্রার্থী]
সর্বশেষ খবর
-
রাজ্যে ফের শিক্ষক নিয়োগ, কাউন্সিলিংয়ের দিন ঘোষণা, কী জানাল কমিশন?
-
রণবীরের ‘রামায়ণ’ ব্লকবাস্টার করাতে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ করণ জোহরের! করলেন ২৫৯ কোটির চুক্তি
-
মুম্বইয়ের রাস্তায় হেঁটে বেড়াচ্ছে বিশাল কুমির, দেখেই চক্ষু চড়কগাছ এলাকাবাসীর, ভাইরাল ভিডিও
-
শোকজে জেরবার আসানসোল পুরনিগম, কালীঘাট ছেড়ে ঋতব্রতর দরবারে মেয়র বিধান !
-
বর্ষাকে ‘সোয়্যাগে’ স্বাগত সলমনের, পানভেলের খেত থেকেই বিতর্কিত ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে বড় ঘোষণা!