রাহুল চক্রবর্তী: অস্ত্রের প্রদর্শন। নয়তো ঢাক, ঢোল, কাঁসরের শব্দে! হে রাম। নয়তো জয় শ্রীরাম! এভাবেই গত কয়েকদিন ধরে রাম নবমীর মিছিলকে ঘিরে উত্তাল বাংলার রাজ্য-রাজনীতি। যা নিয়ে দ্বন্দ্ব বেধেছে শাসক-বিরোধীর মধ্যে। প্রশাসন কড়া বার্তায় আগেই জানিয়েছিল, মিছিলে অস্ত্র নয়। কিন্তু তারপরও অস্ত্র মিছিল হয়েছে। গন্ডগোল বেধেছে রাজ্যের একাধিক জায়গায়। এসবের মধ্যেই রাজনীতির অঙ্কে রাম নবমীর দিনটা বাংলার ক্যালেন্ডারে চিহ্নিত হয়েছে উৎসব পালনের দিন হিসাবেই। এ বছরে যা ঘটেছে তা দেখে হতবাক রাজ্যবাসী। প্রশ্ন এখানেই, আগামী বছর কী হবে? মানে! আগামী বছর লোকসভা নির্বাচন। তখন তো রাজনীতির হাওয়া আরও টালমাটাল থাকবে!
[পারফিউম বিক্রির ছদ্মবেশে ‘বান্টি-বাবলি’র ডাকাতি, সোনারপুরে শোরগোল]
প্রশ্নটা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে রাম নবমীর কথা মাথায় রাখলে। কারণ সাধারণত নির্বাচন হয় মে-জুন মাসে। আর রাম নবমী উদযাপনের পালা ঠিক তার আগেই। ফলে ভোটের আবহ পুরোদস্তুর ধর্মীয় ভাবাবেগকে গ্রাস করবে, এমন আশঙ্কা নানা মহলে। ইংরেজি ২০১৯ বা বাংলা ১৪২৫ সনে রাম নবমী পড়েছে ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ ৩০ চৈত্র। ঘটনাচক্রে যেটা পয়লা বৈশাখ অর্থাৎ বাংলা নববর্ষের ঠিক আগের দিন। পঞ্জিকা বলছে, পয়লা বৈশাখ কোনও বছর পড়ে ১৪ এপ্রিল। কোনও বছর ১৫ এপ্রিল। চলতি ইংরেজি বছরে পয়লা বৈশাখ পড়েছে বা বাংলা সন শুরু হচ্ছে ১৫ এপ্রিল। ২০১৯ সালেও তাই। এই পঞ্জিকা ঘাঁটতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, আগামী বারের রাম নবমী ১৪ এপ্রিল। ওই দিন আবার চড়ক পুজোও রয়েছে।
এ বছরে রাম নবমী ছিল ২৫ মার্চ। কিন্তু সামনের বছর রাম নবমীর দিনে অনেকগুলি অনুষ্ঠান থাকায় এখনই প্রশ্ন উঠেছে, কী হবে? সামনের বছর ১৫ এপ্রিল বাংলা নতুন বছর শুরু হবে। যার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে ১৪ এপ্রিল থেকে। একাধিক সংগঠন, প্রতিষ্ঠান বাংলা বর্ষবরণের উৎসব পালন করে আগের দিন থেকেই। কোথাও প্রভাতফেরি হয়। কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা, রক্তদান শিবির-সহ একাধিক সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলা সন বর্ষবরণের জন্য আগের দিন থেকেই মেতে ওঠেন রাজ্যবাসী। ওইদিন রাম নবমী হওয়ায় দুইয়ে মিলে কী দাঁড়াবে তা নিয়ে এখনই জল্পনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী বছর ১৪ এপ্রিল চড়ক পুজো। রাজ্যের একাধিক জায়গায় চড়ক মেলা বসে। ফলে উৎসবের মিশ্রণ ঠিক কী চেহারা নেয় তা ভেবেই চিন্তিত প্রশাসন। এ বছর প্রশাসনের নির্দেশিকাকে অনেক জায়গায় মানা হয়নি। ফলে আগামী বছর প্রশাসনের কড়াকড়ি আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
[মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র বর্ধমান, তৃণমূলের বাধায় পালটা মার সিপিএমের]
সর্বশেষ খবর
-
ইটিএফ না মিউচুয়াল ফান্ড, বিনিয়োগের জন্য কোনটি বাছবেন? জেনে নিন বিস্তারিত
-
পরকীয়ার জের? ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার পর নিখোঁজ, পরে ক্লাবে মিলল বধূর দেহ!
-
ইজরায়েলের হানায় প্যালেস্টাইনের গোলরক্ষকের মৃত্যু! এখনও নীরব কেন ফিফা? চরমে বিতর্ক
-
আর্থিক অনটন? সংসারে ফিরবে মা লক্ষ্মীর কৃপা, ঘরে রাখুন মাটির তৈরি এই জিনিসগুলি
-
আসানসোল পুরবোর্ড ভেঙে দিল রাজ্য, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে প্রাক্তন পুর কমিশনার অদিতি চৌধুরী