Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Burdwan

অস্পষ্ট পৃথিবীতে আলো দেখালেন স্যর! ১৩ বছর পর নতুন জীবন পেল বর্ধমানের রামকৃষ্ণ

ভেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিষয়ের শিক্ষক রামপ্রসাদ গরাই বলেন, ''ছেলেটা স্কুলে আসার পর থেকেই লক্ষ্য করতাম ও ভালোভাবে চোখে দেখতে পাচ্ছে না।''

ধীমান রায়
ধীমান রায়

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ২০:৫৩

link
ধীমান রায়
ধীমান রায়

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ২০:৫৩

options
link
অস্পষ্ট পৃথিবীতে আলো দেখালেন স্যর! ১৩ বছর পর নতুন জীবন পেল বর্ধমানের রামকৃষ্ণ zoom
সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রামকৃষ্ণ টুডু।
Advertisement

জন্মের পর থেকেই পৃথিবীটা ছিল তার কাছে আবছা। বাবা মায়ের মুখটা পর্যন্ত স্পষ্ট দেখার সৌভাগ্য হয়নি। অত্যন্ত ক্ষীণ দৃষ্টি। তবুও পড়াশোনার ইচ্ছাটা ছিল প্রবল। তাই বন্ধুদের হাত ধরেই স্কুলে যাতায়াত করত। পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম থানার ভেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রামকৃষ্ণ টুডু কখনও ভাবতে পারেনি সে আর পাঁচটা ছেলের মতন এই প্রকৃতিকে দেখতে পাবে। জনমজুর বাবার সামর্থ্য হয়নি ছেলেকে বড় কোনও জায়গায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাবে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর স্কুলের প্রধান শিক্ষক নবকুমার ঘোষের প্রচেষ্টায় পৃথিবীর আলো দেখতে পেল ওই স্কুলের ছাত্র রামকৃষ্ণ টুডু।

জানা গিয়েছে, প্রায় একবছর ধরেই রামকৃষ্ণর যথাযথ চিকিৎসার জন্য প্রধান শিক্ষক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। নিজে সঙ্গে করে বোলপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, কর্নিয়া প্রতিস্থাপন ছাড়া উপায় নেই।

গত সোমবার নবকুমারবাবু আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত গরিব পরিবারের ওই ছাত্রকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন কলকাতার একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে। সেখানে রামকৃষ্ণর চোখে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন হয়েছে। নবকুমার ঘোষ বলেন, ” অপারেশন ১০০ শতাংশ সফল। চিকিৎসকরা গ্যারান্টি দিয়েছেন। আপাতত এক দেড় মাস খুব নিয়মে থাকতে হবে ছেলেটাকে। যাতে চোখে সংক্রমণ না হয়।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
প্রধান শিক্ষক নবকুমার ঘোষ।

আউশগ্রামের সুন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা পেশায় জনমজুর গোপাল টুডুর দুই মেয়ে ও এক ছেলে। সবার ছোট রামকৃষ্ণ। গোপাল টুডু বলেন, “ছেলেটা ছোট থেকে চোখে তেমন দেখতে পেত না। তবুও ছেলের ইচ্ছাতেই স্কুলে ভর্তি করি। কয়েকবার সরকারি হাসপাতালে দেখিয়েছি। দু’চারজন চিকিৎসকের কাছেও দেখিয়েছিলাম। কিন্তু সকলেই বলেছিলেন কিছু করার নেই। তাই আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নিজে দেড় লক্ষাধিক টাকা খরচ করে আমার ছেলের চোখে আলো এনে দিয়েছেন। উনিই আমাদের কাছে সাক্ষাৎ ভগবান।”

ভেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিষয়ের শিক্ষক রামপ্রসাদ গরাই বলেন, ” ছেলেটা স্কুলে আসার পর থেকেই লক্ষ্য করতাম ও ভালোভাবে চোখে দেখতে পাচ্ছে না। সেজন্য তার লিখিত পরীক্ষা সেভাবে নেওয়া হয়নি। মৌখিকভাবে পরীক্ষা নেওয়া হত। আমাদের প্রধান শিক্ষক শুধুমাত্র ওই ছেলেটার জন্যই নয়, যে কোনও ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা অসুবিধায় তিনি এগিয়ে আসেন। পাশে থাকেন।” জানা গিয়েছে, প্রায় একবছর ধরেই রামকৃষ্ণর যথাযথ চিকিৎসার জন্য প্রধান শিক্ষক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। নিজে সঙ্গে করে বোলপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান কর্নিয়া প্রতিস্থাপন ছাড়া উপায় নেই। এরপর তিনি যোগাযোগ করেন কলকাতার একটি হাসপাতালে। এযাবৎ কর্নিয়ার দাতার খোঁজ চলছিল। তারপর একসপ্তাহ আগে কলকাতার ওই হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়েই রামকৃষ্ণকে সঙ্গে করে স্কুলের শিক্ষক অনিরূদ্ধবাবু রওনা দেন সেখানে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত সোমবার রামকৃষ্ণর একটি চোখে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয় স্কুল সূত্রে খবর আর একমাস পরেই শিক্ষকতা থেকে অবসর নিতে চলেছেন প্রধান শিক্ষক। তিনি তাঁর সহশিক্ষক ও সহশিক্ষিকাদের কাছে অনুরোধ করেছেন যাতে সুযোগ হলে রামকৃষ্ণর অপর চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করতে তাঁরা সহযোগিতা করেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.