বিক্রম রায়, কোচবিহার: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হুঁশিয়ারিতেও কাজ হল না! তিনি উপস্থিত থাকাকালীনই তৃণমূলে নবজোয়ার কর্মসূচিতে ফের চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। ব্যালট লুট, ব্যালট বাক্স ভাঙচুর এমনকী, হাতাহাতিতে গড়িয়ে গেল পরিস্থিতি। প্রকাশ্যে চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি করতেও দেখা যায় তৃণমূল কর্মীদের।
দিনভর জনসংযোগের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মাথাভাঙার টেন্টে বুথ অধিবেশনে অংশ নেন। যেখানে ৭৫টি পঞ্চায়েত এলাকা থেকে আসা তৃণমূল (TMC) নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেই সভার শেষে ৭৫টি আলাদা তাঁবুতে ৭৫টি পঞ্চায়েত এলাকার জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ হচ্ছিল। প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য কড়া নিরাপত্তারও বন্দোবস্ত করা হয়। কিন্তু সেই নিরাপত্তা উপেক্ষা করেই শুরু হয়ে যায় বিশৃঙ্খলা। জানা গিয়েছে, পচাগড়, শিকারপুর এবং ভোটবাড়ি, চ্যাংড়ানান্দা, গিতালদহ ১ এলাকায় প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা হয়। পরিস্থিতি এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে দলীয় কর্মীরা হাতাহাতিতে পর্যন্ত জড়িয়ে পড়েন। একাধিক তাঁবুতে ব্যালট লুট হয়, কোথাও ব্যালট বাক্স ভেঙে দেওয়া হয়। তখনও ওই শিবিরেই উপস্থিত ছিলেন অভিষেক।
[আরও পড়ুন: কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল, রিপোর্ট তলব মুখ্যসচিব ও ডিজির কাছে]
এর আগে সিতাইয়ের সভা শেষ করে অভিষেক বেরোতেই ব্যালট পেপার নিয়ে হুড়োহুড়ি, কাড়াকাড়ি পড়ে গিয়েছিল অতি উৎসাহীদের মধ্যে। শেষে ব্যালট পেপার রাখার বাক্স ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। ভেঙেচুরে যায় বাক্স। যা নিয়ে শিতলকুচির সভা থেকে অভিষেকের বলেন, “অতি উৎসাহী কিছু মানুষ বাক্স ভেঙে ফেলেছে। এই জন্যই আমি জনমত নিতে বলেছিলাম। কেউ যদি মনে করে নিজের নাম ঢুকিয়ে প্রার্থীর নাম বদলে দেবে, আমি আপনাদের পাহারাদার।” এর পরেই তিনি নির্দেশ দেন, বুধবার ওই এলাকাগুলিতে নতুন করে ভোট হবে। দুঘণ্টার ভোট হবে ৭ ঘন্টা ধরে। সেই সঙ্গেই বারবার অভিষেক মনে করিয়ে দেন, “কোনও দাদাগিরি গা জোয়ারি চলবে না। যারা সেটা করবেন তারা হয় বাড়ি বসে যাবেন, নয়তো অন্য দল করবেন।”
[আরও পড়ুন: সভা শেষ হতেই ব্যালট লুঠ-বিশৃঙ্খলা, ‘আবার হবে ভোট’, ঘোষণা অভিষেকের]
একেবারে সন্ধ্যার অধিবেশনে বুথ সভাপতিদের সামনে অভিষেক ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের কথা তোলেন। বলেন, “২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নিয়ে অনেকে অনেক কিছু বলে। ৩৪% আসনে বিনা প্রতদ্বন্দ্বিতায় জয়ের কথা বলে। ত্রিপুরায় কী হয়েছিল? আমি ৩৪% জয়কে ডিফেন্ড করছি না। কিন্তু ত্রিপুরায় ৯৮% আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হয়েছে।কিন্তু এই পঞ্চায়েত ভোটে এবার ১০০% আসনের কোনও আসনে কোনও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হবে না।” সঙ্গে বলে দেন, “ভোটে বিশৃঙ্খলা হলে সেই ভোট বাতিল। কিন্তু তাতে কেউ যদি ভাবে প্রার্থী ঠিক করা গেল না, তাহলে ভুল ভাবছেন।” এত কিছুর পরও মাথাভাঙার বুথ অধিবেশনে সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি হল।
সর্বশেষ খবর
-
আটকে ১০ উদ্যোপতির আবেদন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্তা, শহরে নয়, গ্রামেই করতে হবে মেডিক্যাল কলেজ
-
সুজানকে ৪০০ কোটির খরপোশ হৃত্বিকের! বিচ্ছেদের ১২ বছর পর প্রকাশ্যে চরম সত্য
-
তেহরানে শুরু আয়াতোল্লা খামেনেইর অন্ত্যেষ্টি, ইরানে পৌঁছেই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ভারতীয় প্রতিনিধি দলের
-
শিক্ষায় ডিজিটাল ভারতের উৎকর্ষ! শিক্ষাগত তথ্য স্থানান্তর হল আরও সুরক্ষিত
-
মমতার হয়ে আপনি, অভিষেকের কৌঁশলী কে? এজলাসে বিচারপতির প্রশ্নে ‘নির্বাক’ কল্যাণ