BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

চিঠি পেয়েই শচীনের ২০ লাখ এল গোপীবল্লভপুরের স্কুলে

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 17, 2016 10:53 am|    Updated: June 17, 2016 5:03 pm

An Images

সুনীপা চক্রবর্তী: বাংলার স্কুলের জন্য শচীনের দ্বিতীয় ছক্কার বলটি পড়ল গোপীবল্লভপুরে৷ এল কুড়ি লক্ষ টাকার সাহায্য চিঠি৷ কী করে সম্ভব? শচীন কী করে জানলেন গোপীবল্লভপুরের এক প্রত্যন্ত স্কুলের দৈন্যদশার কথা?
কয়েকহাজার কিলোমিটার দুর থেকে তাঁকে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষই৷ স্কুলকে ভালবেসে মুম্বইয়ে নিজের পরিচিতিকে ব্যবহার করে শচীনের ঠিকানা জোগাড় করেন স্কুলের সভাপতি৷ গোবিন্দপুর-মকরামপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ভাল সম্পর্ককে কাজে লাগান স্কুলের প্রধান শিক্ষক৷ আর স্কুলকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসা তো রয়েছেই৷ এই ত্রিফলা হাতিয়ারকে সম্বল করে লিখে ফেললেন চিঠি৷ ‘টু, মিস্টার শচীন তেণ্ডুলকর, অনারেবল মেম্বার অব পার্লামেন্ট৷’ জঙ্গলমহলের পাড়াগাঁয়ের স্কুলের সাফল্য তুলে ধরে স্কুলের উন্নয়নে আর্থিক সাহায্য চেয়ে স্পিডপোস্টে চিঠি পাঠালেন মাস্টার ব্লাস্টারকে৷ উত্তর এল৷ আবেদন মঞ্জুর৷ গোপীবল্লভপুর এক নম্বর ব্লকের আসুই পল্লিমঙ্গল স্কুলের উন্নয়নে শচীন তাঁর সাংসদ কোটার টাকা থেকে ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছেন৷ নারায়ণগড়ের পরে গোপীবল্লভপুরের স্কুলের সঙ্গেও জড়িয়ে গেল শচীনের নাম৷ ‘থ্যাঙ্ক ইউ স্যার’ বলে শচীনকে ধন্যবাদজ্ঞাপন চিঠিও পাঠাচ্ছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক৷ এই স্কুলের উন্নয়নেই গতবছর মুখ্যমন্ত্রীও ১০ লক্ষ টাকা সাহায্য করেছিলেন৷
গোপীবল্লভপুরের পল্লিমঙ্গল স্কুলে বারোশোরও বেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে৷ কিন্তু এত ছাত্রছাত্রীকে সুষ্ঠুভাবে বসিয়ে ক্লাস করার পরিকাঠামো নেই৷ উঁচু ক্লাসের জন্য আলাদা আলাদা ক্লাসরুম থাকলেও, নিচু ক্লাসের অবস্থা অনেকটা ‘গাদাগাদি গোয়ালঘর’৷ সে কথা জানিয়েই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর স্পিড পোস্টে চিঠি পাঠান মাস্টার ব্লাস্টারকে৷ কিন্তু ঠিকানা পেলেন কোথায়?
স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, “স্কুলের সভাপতি কৃষ্ণগোপাল সেনাপতি কাজের সূত্রে দীর্ঘকাল মুম্বইয়ে থাকতেন৷ তিনি তাঁর সেখানের বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে সাংসদ শচীনের অফিসিয়াল ঠিকানা জোগাড় করেন৷ সেই ঠিকানা পেয়ে আমি নারায়ণগড়ের গোবিন্দপুর-মকরামপুর স্বর্ণময়ী শাসমল শিক্ষানিকেতনের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ঠিকানাটি কনফার্ম করি৷ তার পর, স্কুলের কথা ভেবে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম৷”
চলতি বছরের মার্চে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাশাসক ও স্কুলের কাছে অশোকস্তম্ভ স্ট্যাম্প মারা শচীন তেণ্ডুলকরের প্যাডে লেখা একটি চিঠি আসে৷ তাতে লেখা স্কুলের ছাত্রাবাসের জন্য কুড়ি লক্ষ টাকা সাহায্য করছেন সাংসদ শচীন তেন্ডুলকর৷ ভোটের জন্য কিছুটা বিলম্ব হলেও, ১৯ মে স্কুল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে নির্দেশ দেয় জেলাশাসকের অফিস৷ জুনের প্রথম দিনেই স্কুলের কাজের টেন্ডার ডাকার অনুমতি দেয় জেলাশাসকের অফিস৷
ভারতীয় ক্রিকেটের আইকন শচীন তেণ্ডুলকর শুধু রাজ্যসভার সাংসদ নন, রাষ্ট্রপতি মনোনীত সাংসদও৷ ফলে রাজ্য, রাজনীতির বেড়াজালে আবদ্ধ নন৷ তিনি চাইলে দেশের যে কোনও প্রান্তে উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর সাংসদ কোটার টাকা খরচ করতে পারেন৷ যেমন করেছেন নারায়ণগড়ে, যেমন করলেন গোপীবল্লভপুরে৷ আসুই পল্লিমঙ্গল বিদ্যাপীঠে যে ধরনের অসুবিধা রয়েছে, তা গ্রামবাংলায় নতুন কিছু নয়৷ কিন্তু স্কুলের আবেদনে সাড়া দিয়ে, স্কুলের উন্নয়নে শচীনের বারবার এই স্টেপ আউট করে ছক্কা, ভারতের জার্সি পরে লর্ডস, ইডেন বা ওভালের সেই ছক্কাগুলিকেও ছাপিয়ে যাবে বলে মত পল্লিমঙ্গলের ছাত্রছাত্রীদের৷ তাদের একটাই আবেদন, “হস্টেল উদ্বোধনে একবার তাঁকে আসতে হবে৷” আর শুধু হেডস্যার নন, সবাই মিলে আমন্ত্রণপত্র লিখে শচীনকে পাঠাবে বলে ইতিমধ্যেই ঠিক করে ফেলেছে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement