পলাশ পাত্র, তেহট্ট : নিকাশির ব্যবস্থা নেই, স্কুল চত্বরে হাঁটুজল। ক্ষোভের বশে সাতসকালেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তালাবন্ধ ঘরে আটকে রাখলেন অভিভাবকরা। এর জেরে প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ ঘরে থাকতে হল শিক্ষিকা-সহ পাঁচজন শিক্ষককে। ঘটনাস্থল তেহট্টর নাকাশিপাড়ার পাটিকাবাড়ি জুপার্ট বেসিক স্কুল চত্বর। পরে পুলিশ ও পঞ্চায়েতের প্রচেষ্টায় মুক্তি পান তাঁরা। তারপরেও শিক্ষকদের রেহাই দেননি স্থানীয়রা। কীভাবে সরবে স্কুল চত্বরের জমা জল, তার বিধান দিলেই ছেড়ে দেওয়া হবে শিক্ষক শিক্ষিকাদের। পরে পুলিশের তরফে আশ্বাস মিললে উঠে যায় বিক্ষোভ।
[রাতভর বর্ষণে জলমগ্ন কলকাতা, ঘূর্ণাবর্তের জেরে বাড়বে বৃষ্টির দাপট]
জানা গিয়েছে, স্কুলের পাশেই ছিল কালভার্ট। বর্ষার সময় জল জমলে সেখান থেকেই তা পাস হয়ে যেত। জমিটি স্থানীয় বাসিন্দার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। বছর দু’য়েক তা বিক্রি হয়ে যায়। এদিকে হস্তান্তরের পর নতুন মালিক জমিতে থাকা কালভার্টটি বন্ধ করে দিতেই বিপত্তি। এলাকার জল সরতে না পেরে স্কুলের মাঠেই জমা হতে থাকে। বর্ষা আসলেই প্রমাদ গোনেন পড়ুয়ার অভিভাবকরা। কেননা ওই জমা জল পেরিয়েই বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছাতে হচ্ছে। জামাকাপড় ভেজার পাশাপাশি দু’বেলা জল ঘেঁটে ঠান্ডাও লেগে যাচ্ছে। তাই বৃষ্টি হলেই জ্বর-সর্দিকাশির প্রাদুর্ভাব ঘটছে। আগেও শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে তাতে কোনও কাজ হয়নি। জমা জলের কারণে দুর্ভোগে পড়তে হয় তাঁদেরও। সেই জমা জল পেরিয়ে স্কুলে যেতে গিয়ে তাঁরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এনিয়ে শিক্ষকদের তরফেও বিডিও-র কাছে দরবার করা হয়। তবে পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি।
‘হুমায়ুন মৃত্যুশয্যায় বাবরকে বলেছিলেন, গরুকে সম্মান করো’, বিজেপি নেতার মন্তব্যে বিতর্ক
বুধবার রাতের টানা বর্ষণে এদিন সকালেও জল থইথই করতে থাকে স্কুল চত্বর। বাসিন্দারা তৈরিই ছিলেন। শিক্ষক, শিক্ষিকারা স্কুলে ঢুকতেই দরজায় তালা লাগিয়ে দেন। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিডিও সমর দত্ত বলেন, আটক শিক্ষক শিক্ষিকাকে মুক্ত করার কথা বলেছি এলাকার পঞ্চায়েত প্রধানকে। একই সঙ্গে স্কুল চত্বরে জমা জল নিকাশিরও ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান বৃত্তিশ মজুমদার। তিনি বলেন, স্কুলের আশপাশে জনবসতি এলাকা। তাই এই জমা জলকে সরাতে হলে বাসিন্দাদের সহযোগিতা লাগবে। তাঁদের কারোর বাড়ির উপর থেকেই পাস করতে হবে জল। বাসিন্দারা ঠিক করুক কার বাড়ির উপর থেকে জল সরবে। বাকিটা পঞায়েত করে দেবে। কিন্তু শিক্ষকদের আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখালেও জমা জল সরানোর রাস্তা দেখাতে পারছেন না তাঁরা। উলটে শিক্ষকদের আটকে রেখে বিক্ষোভ করছেন। এমনকী, যখন জমির মালিক দীর্ঘদিনের কালভার্ট মাটি দিয়ে বন্ধ করেদিলেন, তখনও রা কাড়েননি বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। খুব শিগগির সমাধানের রাস্তা পাওয়া যাবে।
সর্বশেষ খবর
-
মারাদোনার বিশ্বজয়ের মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ী মেক্সিকো, ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে চর্চায় রেফারি
-
‘ভয়ংকর হামলা’র হুমকি দিয়েও ইউ টার্ন! ইরানের সঙ্গে ‘সন্ধি’র পথে ট্রাম্প, আপাতত আক্রমণ স্থগিত
-
‘আইপ্যাকই ভরাডুবির কারণ’, হারের পর বিস্ফোরক নির্বাচনে ‘নিষ্ক্রিয়’ অনুব্রত
-
শাকিরার পাওয়ার, মেক্সিকোর ঐতিহ্যে বিশ্বকাপের বোধন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতালেন আর কারা?
-
সাড়ে ৫ ঘণ্টা সিআইডির জেরার পর ভবানী ভবন থেকে মমতার বাড়িতে অভিষেক, ১৪ জুন ফের তলব