সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: “দু’দিনের মধ্যে আমার মোটরবাইক চাই।” রবিবারই জানিয়েছিল নবম শ্রেণির ছাত্রটি। কে জানত ৪৮ ঘণ্টা পর এমন মর্মান্তিক পরিণতি দেখতে হবে বাড়ির লোকেদের। মোটরবাইক না পেয়ে সিলিং ফ্যানে গলায় দড়ি দিল ১৫ বছরের তরতাজা কিশোর। ছেলের দেহের পাশে বসে বুক চাপড়ে ডুকরে উঠলেন মা, “একটু অপেক্ষা করতে পারলি না বাবা।”
[রানাঘাটে তৃণমূল নেতার অস্বাভাবিক মৃত্যু, বাগান থেকে উদ্ধার ক্ষতবিক্ষত দেহ]
সোনারপুরের কামালগাজি লাগোয়া কারবালার বাসিন্দা শেখ শাহিদ। ডায়মন্ড হারবারে একটি বেসরকারি স্কুলে ক্লাস নাইনে পড়ে সে। বাড়ির লোকেরা জানিয়েছেন, ক্লাস নাইনে ওঠার পর থেকেই দুটো জিনিস নিয়ে বায়না করতে থাকে শাহিদ। একটি স্মার্ট ফোন অন্যটি মোটরবাইক। স্মার্ট ফোনটি তাকে কিনে দেওয়া হয়েছিল কিছুদিন আগে। আর মোটর বাইক? মা-বাবার আশঙ্কা ছিল, এই বয়সে মোটর বাইক দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। “রাস্তায় কোনও দুর্ঘটনা ঘটিয়ে আসবে, এই ভয়েই মোটরবাইক কিনে দিইনি। ভেবেছিলাম একটু বড় হোক। তারপর না হয়..।” কিন্তু সে সময় দিল না শাহিদ। অভিমানে তার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল সে। ১২ ডিসেম্বর তার পরীক্ষা শেষ হয়। তারপর থেকেই মোটরবাইকের জন্য জেদ করতে থাকে শাহিদ। রবিবার সে রীতিমতো চিৎকার বলে, “আর দু’দিনের মধ্যে যদি মোটরবাইক না পাই। দেখো কি করি।”
[দেরিতে ট্রেন আসায় দীর্ঘক্ষণ অবরোধ গুসকরায়, ভোগান্তিতে নিত্যযাত্রীরা]
বাড়িতে তিনতলায় শাহিদের ঘর। বুধবার সকালে ঘরের দরজা না খোলায় চিন্তায় পড়েন বাড়ির লোকেরা। শাহিদের নাম ধরে ডাকাডাকি করেন তারা। তাতেও দরজা না খোলায় বাড়ির লোক ভাবেন অভিমান করেছে সে। মোটরবাইক না কিনে দেওয়াতেই দরজা খুলছে না। শত কাকুতি-মিনতিতেও লাভ হয়নি। দরজা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন শাহিদের মা-বাবা। দরজা ভাঙতেই চোখ কপালে ওঠে। মায়ের ওড়নার ফাঁসে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে বাড়ির আদরের শাহিদ। শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। বায়না না মেটানোয় পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত! কিশোরের এহেন আচরণে চমকে গিয়েছেন অনেকেই। মনোবিদ স্মরণিকা ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, বয়ঃসন্ধিক্ষণে কিশোরদের মধ্যে সবসময় একটা অদৃশ্য প্রতিযোগিতা কাজ করে। অমুক বন্ধুর আছে আমার নেই কেন? এমন প্রশ্ন মনের মধ্যে চলতে থাকে। শাহিদের ক্ষেত্রেও তেমনটি হয়েছিল। মনোবিদের কথায়, “এসমস্ত ক্ষেত্রে পরিবারের উচিত বাড়ির খুদে সদস্যটির সঙ্গে বন্ধুর মতো মেশা। তাকে বোঝাতে হবে জীবনে কোন জিনিসটি বিলাসিতা, কোনটা প্রয়োজন। সন্তানকে বোঝাতে হবে, বায়না করলেই সমস্ত কিছু পাওয়া যায় না। জীবনে কিছু জিনিস অর্জন করতে হয়।”
[পড়ুয়াদের জন্য সুখবর, এবার বিনামূল্যেই মিলবে মান্থলি]
সর্বশেষ খবর
-
আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অটুট বন্ধুত্বের বার্তা মোদির
-
কানাডার স্বপ্নের সফর শেষ, আজেদিনের জোড়া গোলে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো
-
‘বাংলায় সব সম্পদ আছে’, শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
-
বৈভবের অভিষেকেও এল না জয়, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে পিছিয়ে পড়ল ভারত
-
রাস্তা তৈরিতে এবার ব্যবহার হবে ‘ম্যাস্টিক অ্যাসফল্ট’! বড় উদ্যোগ সিকিম সরকারের