সুরজিৎ দেব, ডায়মন্ড হারবার: পুলিশ যে সাধারণ মানুষের শত্রু নয় বন্ধু, তা বোঝাতে শিক্ষকের ভূমিকায় দেখা গেল প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক তথা ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিওকে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কচিকাঁচাদের ক্লাসে হঠাৎই ঢুকে পড়ে তাদের পড়াতে শুরু করেন তিনি। বোঝালেন সমাজে পুলিশের ভূমিকা। কারণ, বর্তমান সমাজে পুলিশের সম্বন্ধে সাধারণ মানুষের ধারণা নানা কারণে অনেকটাই নিম্নমুখী।
শনিবার ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ ক্যাম্পগুলি পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন ডায়মন্ডহারবারের এসডিপিও শ্যামল মণ্ডল। নেতড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সুলতানপুরে একটি পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করছিলেন তিনি। হঠাৎই তাঁর নজরে পড়ে পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। সটান ঢুকে পড়েন তৃতীয় শ্রেণিতে। ক্লাসে স্যারেদের পরিবর্তে পুলিশ! কেউ কেউ পালাতে পারলে বাঁচে, দু’একজন তো কেঁদেই ফেলল ভয়ে। সকলকে মিষ্টি কথায় আশ্বস্ত করে ‘পুলিশকাকু’ তখন শিক্ষকের ভূমিকায়।
এসডিপিও শিশুদের বলেন, “সবসময় গুরুজনদের শ্রদ্ধা করবে তোমরা। কখনও কোনও শিক্ষককে অসম্মান করবে না।” শুধু তা-ই নয়, শরীরকে সুস্থ রাখতে খাওয়ার আগে ভাল করে হাত ধোওয়া, মশাবাহিত রোগের হাত থেকে বাঁচতে মশারি খাটিয়ে শোওয়ার পরামর্শও তাদের দিলেন ‘নতুন স্যার’। সাত বছর আগের বীরভূমের রতনপুর হাইস্কুলের কথা মনে পড়ে গেল এসডিপিও-র। ছাত্রদের কত সমস্যার সমাধান নিমেষেই করে দিয়েছেন তিনি। বুঝিয়ে বলতেন, কোনটা করা উচিৎ আর কোনটা নয়। সাত বছর পর শিক্ষকের ভূমিকায় নেমে ছাত্র-ছাত্রীদের সেই একইভাবে বুঝিয়ে দিলেন কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায় কাজ।
[আরও পড়ুন: আসানসোলে শুটআউট, দুষ্কৃতীদের গুলিতে জখম এসআই-সহ ২]
শ্যামলবাবু জানান, “২০০৪ সালে শিক্ষকতা করার জন্য নির্বাচিত হই। ২০০৫-এ বীরভূমের রতনপুর যোগেন্দ্র নারায়ণ ইনস্টিটিউশনে ইতিহাসের শিক্ষক হিসেবে কাজে যোগ দিই। ওই স্কুলেই ২০১২ সাল পর্যন্ত ইতিহাসের শিক্ষক ছিলাম। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি সব সময়ই আলাদা একটা টান অনুভব করি।” ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় সুযোগ পেয়ে ২০১২-১৩ সালে পুলিশের ট্রেনিং নিয়ে পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, কোচবিহারের তুফানগঞ্জ, মালদহ ঘুরে বর্তমানে তিনি ডায়মন্ড হারবারে। এসডিপিও বলেন, “ওদের সঙ্গে কথা বলে দারুণ লাগল। পুরোনো অভ্যাসটাকে আরেকবার ঝালিয়ে নিলাম। সুযোগ পেলাম শিশুমনে পুলিশ সম্পর্কে ধারণাটা একটু হলেও বদলে দেওয়ার। পুলিশকে যাতে ওরা বন্ধু ভাবে সেভাবেই বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটালাম ওদের সঙ্গে। দারুণ অনুভূতি। আমি যেন ফিরে গিয়েছিলাম সাত বছর আগের রতনপুর হাইস্কুলের সেই দিনগুলোতেই।”
সর্বশেষ খবর
-
আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের
-
এবার সপ্তাহে ৬ দিনই শান্তিনিকেতনে ‘হেরিটেজ ওয়াক’, দ্রুত টিকিট মিলবে অনলাইনেও
-
লরি চাপা পড়ে মাইকেল ক্লার্কের গাড়ি! আইপিএল শেষে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
-
নিজের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা! এবার এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ‘মাছ চোর’ শওকত
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ