ক্লাস চলছিল, সেই সময়ই এসএফআই নেতার আচরণে কাটল তাল। ইতিহাসের ফাস্ট সেমিস্টারের ক্লাস চলাকালীন ক্লাসের মধ্যে ঢুকে গায়ে কেরোসিন তেল ঢাললেন তিনি। পকেট থেকে লাইটার বের করে জ্বালাতে গেলেই রুখে দিলেন শিক্ষক। সোমবার দুপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri College) আনন্দ চন্দ্র কলেজে। ওই ছাত্র এসএফআই-এর লোকাল কমিটির সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
জানা গিয়েছে, প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রের নাম অর্ণব সরকার। আচমকা এই ঘটনায় হতচকিত হয়ে যান ক্লাস রুমে উপস্থিত পড়ুয়ারা। তবে শিক্ষকের তৎপরতায় অগ্নি সংযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কলেজের ভিতর একজন ছাত্র দাহ্য পদার্থ নিয়ে কীভাবে প্রবেশ করল? সেই প্রশ্ন উঠছে। এসএফআই-এর দাবি, এবিভিপিতে যোগদানের জন্য নিয়মিত অর্ণবের উপর অত্যাচার চালানো হত। এমনকী বাড়িতেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি গোটা ঘটনা পরিকল্পিত ও সাজানো বলে অভিযোগ করে এবিভিপি। তাদের দাবি, দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এসব করছেন এসএফআই নেতা।
আরও পড়ুন:
সোমবার দুপুরে কলেজের একটি ক্লাস রুমে ইতিহাসের ফাস্ট সেমিস্টারের ক্লাস চলছিল। ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক মলয় দাস। আচমকা ক্লাসে ঢোকেন অর্ণব। ব্যাগ থেকে কেরোসিনের বোতল বের করে গায়ে ঢেলে নেন। লাইটার বের করে জ্বালানোর আগেই ঝাপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা ব্যর্থ করেন শিক্ষক মলয় দাস। অর্ণবকে আটক করে অধ্যক্ষ দেবাশিস দাসের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিন পরিকল্পনা করে বাড়ি থেকে কেরোসিন তেল নিয়ে কলেজে ঢোকেন অর্ণব। তাঁর দাবি, সেলফ ডিফেন্সের জন্যই কেরোসিন তেল নিয়ে এসেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, নিয়মিত তাঁর উপর অত্যাচার চলছে। আজ তাঁর এক বন্ধুকে কলেজের বাইরে নিগ্রহ করা হয়। কলেজে এলে তাঁকেও মারা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এই অবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ক্লাসে আসেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, এর আগে একাধিক জায়গায় অভিযোগ করেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।
যদিও ছাত্রের দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবিভিপি। এবিভিপির ব্লক কনভেনর বিনায়ক দাসের দাবি,পুরোটাই পরিকল্পিত। দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। পুরোটাই ভিত্তিহীন অভিযোগ। কলেজ কর্তৃপক্ষকেই ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ঘটনায় হতবাক কলেজের অধ্যক্ষ দেবাশিস দাস। তিনি জানান, কলেজের ইতিহাসে এই ঘটনা নজিরবিহীন। কেউ ব্যাগে করে দাহ্য পদার্থ নিয়ে এলে তা পরীক্ষা করে দেখার মতো পরিকাঠামো কলেজের কাছে নেই। অভিভাবকদের এ ব্যাপারে দায়িত্ব নিতে হবে। ঘটনাটি আলাদা করে তদন্ত করে দেখবে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
Exclusive: ভাঙা তো দূর, নন্দীগ্রামে সামান্য চোটও পাননি মমতা! প্রকাশ্যে ২১-এর রিপোর্ট
-
জাহ্নবীর সঙ্গে গানের দৃশ্য বিকৃত! আইনি পথে জুনিয়র এনটিআর, বিজয় বললেন, ‘ডিজিটালি যৌন নিগ্রহ’
-
জনপ্রিয় মেকআপ শিল্পী ম্যাড সান্ধুকে গুলি করে খুন, ব্যাপক চাঞ্চল্য অমৃতসরে
-
হারেও উজ্জ্বল মনবীর-আনোয়াররা, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে পরাজয়েও যেখানে ‘জিতে গেল’ ভারত
-
সাপ ধরেই চ্যাংদোলা করে ঘোরাচ্ছেন! ‘নির্যাতনের’ ভিডিও ঘিরে বিতর্কে বিট অফিসার