Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ৭ জুলাই ২০২৬

গ্রামে উড়ে আসছে সেনাবাহিনীর গোলা, আতঙ্কে তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা

গভীর জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৮, ২১:২৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৮, ২১:২৩

options
link
গ্রামে উড়ে আসছে সেনাবাহিনীর গোলা, আতঙ্কে তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা zoom

সঞ্জীব মণ্ডল, শিলিগুড়ি: গোলায় গণ্ডগোল!

একের পর এক গোলা এসে পড়ছে গ্রামে। আর সেই আতঙ্কে গ্রামছাড়া হয়ে অন্যত্র পাড়ি দিয়েছেন বাসিন্দারা। উড়ে গিয়েছে রাতের ঘুম। কখন কী হয়! সেই আতঙ্কেই সিঁটিয়ে রয়েছেন তাঁরা। শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে। সেবক যাওয়ার পথে ডান-হাতে তিস্তাপাড়ের গ্রাম চমকডাঙি-লালটং বস্তি। মহানন্দা অভয়ারণ্যের সাত মাইলের জঙ্গল পেরিয়ে পৌঁছতে হয় লালটংয়ে। অহরহ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত গোলাগুলি ছিটকে আসায় জঙ্গল লাগোয়া ওই গ্রামের বাসিন্দারা দু’দিন ধরে কার্যত গ্রামছাড়া। কখনও আশ্রয় নিচ্ছেন গভীর জঙ্গলে। আবার কখনও বন দপ্তরের বিট অফিস লাগোয়া জাতীয় সড়কে। ছুটছেন বিট অফিস থেকে পঞ্চায়েত অফিসে। কেউ বলেছেন লিখিত জানাতে, আবার কেউ বলছেন পুলিশে অভিযোগ করতে। হাতির উপদ্রবের সঙ্গে ঘর করতে অভ্যস্ত মানুষগুলি এখন সেনার গোলার ভয়ে আতঙ্কিত। ফলে দৈনন্দিন কাজ লাটে উঠেছে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় সেই অপেক্ষাতেই চলছে দিন গোনা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[বাতাসে রং আর আকাশে আতসবাজি, ফের রঙের উৎসব কুলটির মিঠানি গ্রামে]

লালটং-চমকডাঙির উলটোদিকে তিস্তার ওপারে ওদলাবাড়ির কাছে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জ। ওই রেঞ্জ থেকে গত দু’দিন ধরে নিয়মিত উড়ে আসছে গোলা-গুলি, মর্টারের শেল। তা কখনও পড়ছে বাড়ির পাশে। কখনও বা নদীর পাড়ে। আছড়ে পড়েই মুহূর্তে আগুন ধরে যাচ্ছে তাতে। এতেই আতঙ্ক আরও বেড়েছে। বাড়িতে ওই গোলা এসে পড়ার আশঙ্কায় সোমবার দল বেঁধে গ্রামের বাসিন্দারা এলাকা ছাড়েন। স্থানীয় বাসিন্দা কৃষ্ণ ছেত্রী, অঞ্জন শেরপা, গৌতম ছেত্রীরা বলেন, “সোমবার ৬-৭টি গোলা এসে পড়েছে গ্রামে। বেলা এগারোটা থেকে শুরু হয়েছে এই গোলা বর্ষণ। সাতমাইল বিট অফিসে জানানো হয়েছে। পঞ্চায়েত অফিসেও বলা হয়েছে। মঙ্গলবারও গোলা এসে গ্রামে পড়েছে।”

গ্রামবাসীদের অনেকে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ রাতে বাড়ি ফিরলেও সকাল হতেই আবার গ্রাম ছাড়ছেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য প্রেমলক্ষ্মী শেরপা বলেন, বিষয়টি তিনিও জানেন। তবে গ্রামবাসীদের পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। এভাবে যখন তখন একের পর এক গোলা উড়ে এলে যেকোনও সময় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর। ওই বস্তিতে ৪০টি পরিবার রয়েছে। বাসিন্দার সংখ্যা শতাধিক। এর মধ্যে অনেকেই স্কুলপড়ুয়া। ভয়ে পড়াশোনা কার্যত শিকেয় ওই এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের। রোমা তামাং শালুগাড়া জুনিয়র হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার মতো অনেকেই জানিয়েছে, গোলার ভয়ে পড়াশোনা কার্যত শিকেয় উঠেছে।

[টিকিট পরীক্ষকদের সিট বিক্রিতে ক্ষতি ১৫০ কোটি, দুর্নীতি রুখতে তৎপর রেল]

সুকনার এডিএফও জয়ন্ত মণ্ডল বলেন, “রেঞ্জের বাইরে এসে কোনও গোলা জনবস্তি এলাকায় পড়লে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাতে হবে। কাদের গোলা এসে পড়ছে, তা দেখতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তাদের জানানো হবে।” যদিও সুকনার ত্রিশক্তির কপর্সের কর্নেল বিজয় কুমারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.