Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
SIR in West Bengal

SIR-এ বাদ পড়া অধিকাংশই হিন্দু! মুসলিম কত? কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশ্যে নয়া অঙ্ক

সাংগঠনিক স্তরে এসআইআরের গোড়া থেকে রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের কাছে এই হিসেব রেখেছে। তার ভিত্তিতেই প্রকাশ্যে এল তথ্য।

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ২১:১৩

link
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ২১:১৩

options
link
SIR-এ বাদ পড়া অধিকাংশই হিন্দু! মুসলিম কত? কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশ্যে নয়া অঙ্ক zoom
ফাইল ছবি।
Advertisement

এসআইআরে (SIR in West Bengal) ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর রাজ্যের মোট ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এঁদের মধ্যে প্রচুর মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটার রয়েছে। বাকি যাদের নাম বাদ পড়েছে, বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ধরে সেসব তথ্য বিশ্লেষণ করে অঙ্ক কষে নয়া তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। অঙ্কের ফলাফল অবশ্য বেশ বিস্ময়কর। দেখা যাচ্ছে, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে সিংহভাগ হিন্দু! এই সংখ্যাটা ৬৩ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে, নাম বাদ পড়া মুসলিম ভোটারের হার ৩৪ শতাংশ। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকেই অভিযোগ করছিল, বিজেপি হিন্দু-মুসলিম – কারও বন্ধু নয়। এই এসআইআরে মুসলমান তো বটেই, হিন্দুদেরও ক্ষতি হবে বলে দাবিও করেছিলেন নেতারা। নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রকাশিত ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের এই হিসেবে তৃণমূলের সেই অভিযোগেই সিলমোহর পড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভবানীপুরের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪৫ লক্ষের বেশি। এর মধ্যে নাম বাদ পড়েছে মোট ৫০ হাজার ৯৮৭ জনের। বাদ পড়াদের মধ্যে হিন্দু ভোটার ৩৭ হাজার ২২৭, মুসলিমের সংখ্যা মাত্র ১২ হাজার। আরও চুলচেরা হিসেব করলে দাঁড়াচ্ছে, মৃত-স্থানান্তরিত ৪৪ হাজার ৭৭০ জনের মধ্যে ১০,৪৬০ জন মুসলিম এবং ৩২,৮৭১ জন হিন্দু। চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়া ২৩৪২ জনের মধ্যে হিন্দুদের সংখ্যা ২২৯২ এবং মুসলিম মাত্র ২৩ জন! আর যাঁদের নাম বিচারাধীন ছিল, সেই ৩৮৭৫ জনের মধ্যে বাদ পড়েছেন ২০৬৪ জন হিন্দু ও ১৬০১ জন মুসলিম।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর অন্তত ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ছিল বিচারাধীন। সেসব নামের তথ্য যাচাই করে গত ৭ এপ্রিল সমস্ত নামের নিষ্পত্তি ঘটিয়েছে কমিশনের নির্দেশে তৈরি বিচারপতিদের ট্রাইব্যুনাল। তাতে দেখা যাচ্ছে, ৬০ লক্ষের মধ্যে অর্ধেকের বেশি বা ৩২ লক্ষ ভোটার বৈধ। আর বাদ পড়েছেন ২৭ লক্ষ। এবার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এর মধ্যে কতজন হিন্দু, কত মুসলিম – সেই হিসেব এল হাতে। তা থেকে জানা যাচ্ছে, এসআইআরের একদম প্রথম পর্বে যে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল, তার মধ্যে ৪৪ লক্ষই ছিল হিন্দু। ১৩ লক্ষের একটু বেশি ছিল মুসলিম নাম। তবে পরবর্তী তালিকাগুলিতে দেখা গিয়েছে, হিন্দুদের নাম বেশি বাদ পড়েছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এ প্রসঙ্গে ভবানীপুর কেন্দ্রের পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখা যাক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪৫ লক্ষের বেশি। এর মধ্যে নাম বাদ পড়েছে মোট ৫০ হাজার ৯৮৭ জনের। বাদ পড়াদের মধ্যে হিন্দু ভোটার ৩৭ হাজার ২২৭, মুসলিমের সংখ্যা মাত্র ১২ হাজার। আরও চুলচেরা হিসেব করলে দাঁড়াচ্ছে, মৃত-স্থানান্তরিত ৪৪ হাজার ৭৭০ জনের মধ্যে ১০,৪৬০ জন মুসলিম এবং ৩২,৮৭১ জন হিন্দু। চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়া ২৩৪২ জনের মধ্যে হিন্দুদের সংখ্যা ২২৯২ এবং মুসলিম মাত্র ২৩ জন! আর যাঁদের নাম বিচারাধীন ছিল, সেই ৩৮৭৫ জনের মধ্যে বাদ পড়েছেন ২০৬৪ জন হিন্দু ও ১৬০১ জন মুসলিম।

এহেন হিসেবনিকেশ দেখে বিজেপি প্রশ্ন তুলছে, কোথা থেকে ধর্মভিত্তিক এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেল? তবে কি  বিএলও-রাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে এসব তথ্য তুলে দিয়েছেন? ওয়াকিবহাল মহলের মত, প্রথম থেকে বুথভিত্তিক এই তথ্য রাখা হচ্ছিল। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, বিজেপি যে বারবার মুসলমানদের অনুপ্রবেশকারী বলে দাবি করছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উলটোদিকে, বাদ যাওয়া এত সংখ্যক হিন্দুর মধ্যে বেশিরভাগ মতুয়া রয়েছেন বলে দাবি।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.