BREAKING NEWS

১৪ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

এক যুগ নিরুদ্দেশ, মায়ের কুশপুতুল দাহ করে শ্রাদ্ধ পরিবারের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: December 15, 2017 6:21 am|    Updated: September 19, 2019 2:31 pm

An Images

অংশুপ্রতিম পাল, খড়গপুর: রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কুশপুতুল দাহ করা আকছার ঘটে। কারও উপর ক্ষোভ দেখাতে তার পুতুল পোড়ানো হয়। তবে এসবই নেহাত প্রতীকী। নিখোঁজ মায়ের সন্ধান না পেয়ে কেউ কুশপুতুল পোড়াতে পারে! এমনও ঘটল এ বঙ্গে।

বারো বছর আগের কথা৷ সময়টা ছিল দুর্গাপুজোর মহালয়ার আগের দিন৷ সে দিন আচমকা খড়গপুর শহরের কুমোরপাড়া এলাকার এক বৃদ্ধা নিখোঁজ হয়ে যান৷ দুপুরের পর থেকে ৭৫ বছরের মানুষটির খোঁজ মিলছিল না৷ অনেক চেষ্টা করেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। এভাবেই এক যুগ পার। এরইমধ্যে ওই বৃদ্ধার মেজো ও ছোটো ছেলেরও মৃত্যু হয়েছে৷ পরিবারে এখন বেঁচে বৃদ্ধার বড় ছেলে৷ আর রয়েছেন চার বিবাহিতা মেয়ে৷ এই অবস্হায় সত্তর ছুঁই ছুঁই বড় ছেলের মনে হয়েছে মা যখন এতদিনেও ফেরেননি তখন তিনি নিশ্চয়ই আর ইহ জগতে নেই৷ সুতরাং কিছু একটা করা প্রয়োজন৷

[বৃদ্ধা প্রাপ্য না পেলে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের মাইনে বন্ধ, তোপ আদালতের]

কী করা উচিত? এর উত্তর খুঁজতে তিনি পাড়া, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে বামুন ঠাকুরের দ্বারস্থ হন৷ তখন সবাই তাঁকে নিদান দেন মায়ের আদলে একটি কুশপুতুল তৈরি করে সেটার শেষকৃত্য করার জন্য৷ সেই হারিয়ে যাওয়া মায়ের কুশপুতুলের শেষকৃত্য হল খড়গপুর শহরের খরিদা মন্দিরতলা শ্মশানঘাটে৷ একেবারে রীতি-আচার মেনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। কুশপুতুলটিকে মৃতদেহের মতো করে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়৷ হরিবোল ধবনি, নাম সংকীর্তনের মধ্যে দিয়ে রাস্তায় খই ছড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মৃতদেহ৷ মৃতদেহ যেভাবে দাহ করা হয় ঠিক সেইভাবে কাঠের চুল্লির উপর রেখে দাহ করা হয়েছে৷ এমনকী তিনদিন পর মায়ের শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠানও করা হবে৷ সেখানে থাকবে সমস্ত শ্মশান যাত্রীদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা৷ আর এই অভিনব ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা খরিদা লোকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে৷

[ব্যক্তিগত আক্রোশেই কি যৌনাঙ্গ ছেদ? বৃদ্ধ খুনে রহস্য ঘনাল সল্টলেকে]

নিখোঁজ বৃদ্ধার একমাত্র জীবিত বড় ছেলে শম্ভু ভুঁইয়া জানান “মা হারিয়ে গিয়েছেন আজ থেকে বারো বছর আগে৷ অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি৷ কিন্তু সন্ধান পাওয়া যায়নি৷ তাই আমরা ধরেই নিয়েছি মা আর নেই এই জগতে৷” তারসঙ্গে এই দিনমজুরের আরও সংযোজন “আমারও বয়স হয়েছে৷ এদিকে দুই ভাইও গত হয়েছে। আচমকা যদি আমার কিছু হয়ে যায় তাহলে মায়ের আত্মার শান্তির কাজটি করার আর কেউ থাকবে না৷ তাই পাড়ার সবার পরামর্শ মেনে নিয়ে মায়ের শেষকৃত্যের কাজটি করে ফেললাম৷” ওই এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ রনবামের মতে শম্ভুবাবু একদম ঠিক কাজ করেছেন৷ প্রতিবেশীরা তাঁর পাশে আছেন৷ এমন কাজ করে শম্ভুবাবু অনেক পূণ্য করেছেন বলেও মনে করেন প্রতিবেশীরা। শম্ভু ভুঁইয়া খড়গপুরের খরিদা এলাকার একটি মিষ্টির দোকানে পরিচারকের কাজ করেন৷ খুবই গরিব পরিবার৷ এই পুরো কাজের খরচের একটা অংশ এলাকাবাসী জুগিয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

ছবি: সৈকত সাঁতরা

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement