Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৪ জুলাই ২০২৬

বাবাকে তাড়িয়ে বাড়িতে তালা ছেলের, চাবি চাইল আদালত

ছেলের আচরণে রীতিমতো ক্রুদ্ধ বিচারপতির ধমকের মুখে পড়লেন তার আইনজীবীরা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯, ১৬:৫১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯, ১৬:৫১

options
link
বাবাকে তাড়িয়ে বাড়িতে তালা ছেলের, চাবি চাইল আদালত zoom

শুভঙ্কর বসু: আদালতের নির্দেশের পরও বাবাকে ঘর ফিরিয়ে দেয়নি ছেলে। এবার তাই ঘরের চাবি নিয়ে ছেলেকে হাই কোর্টে দেখা করতে বললেন বিচারপতি। একইসঙ্গে আদালত কক্ষের মধ্যেই ছেলের আচরণে রীতিমতো ক্রুদ্ধ বিচারপতির ধমকের মুখে পড়লেন তার আইনজীবীরা। বিচারপতির মন্তব্য, “আপনার মক্কেলকে যদি সামলাতে না পারেন তাহলে লাইসেন্স জমা দিয়ে ওকালতি ছেড়ে দিন।”

কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে বিচারপতির ধমকের মুখে পড়লেন আইনজীবী? ঘটনার সূত্রপাত বছর কয়েক আগে। ২০০৭ সালে স্ত্রীর মৃত্যুর পর একরকম অথৈ জলে পড়েন উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার বাসিন্দা পঁচাত্তর বছরের বৃদ্ধ অমল দাস। নিজের দেখভালের জন্য পুত্র ও কন্যার মুখাপেক্ষী হন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মী অমলবাবু। কিন্তু দু’জনের কেউই বিপত্নীক বৃদ্ধ বাবার দায়িত্ব নিতে চাননি বলে অভিযোগ। এরপর একরকম বাধ্য হয়েই সত্তর বছর বয়সে দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন তিনি। ছেলে-মেয়ে এবিষয়ে আপত্তি জানালে বলেন, “তোরা তো আমায় দেখবি না। বাধ্য হয়েই এটা করলাম।” হাবড়ায় অমলবাবুর একটি দোতলা বাড়ি রয়েছে। সস্ত্রীক সেখানেই থাকত পুত্র জয় দাস। ২০০৭ সালে মার মৃত্যুর পর সত্তরোর্ধ্ব বাবাকে ফেলে জয় সপরিবারে দিদির বাড়িতে চলে যায়। কিন্তু অমলবাবু দ্বিতীয়বার বিয়ে করার খবর পেতেই তড়িঘড়ি স্ত্রীকে নিয়ে ফের বাবার বাড়িতে ফিরে আসে। অভিযোগ, ফিরে আসার কিছুদিন পর থেকেই বাবার উপর জয় মানসিক নির্যাতন শুরু করে। সেই অত্যাচার ক্রমে শারীরিক নিগ্রহে পৌঁছয়। অমলবাবুর অভিযোগ, বাড়ি তার নামে লিখে দেওয়ার চাপ দিতেই ছেলের এই অত্যাচার।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

চাকরি করতে চাপ স্বামীর, আত্মঘাতী গৃহবধূর সুইসাইড নোট ঘিরে চাঞ্চল্য

এরপরই হাবড়া থানায় ছেলের নামে লিখিত অভিযোগ করেন অমলবাবু। কিন্তু পুলিশ কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন বৃদ্ধ। মামলার শুনানি হয় বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে। তাঁর আইনজীবী অরবিন্দ চট্টোপাধ্যায় ও কাকলি দত্ত জানিয়েছেন, ঘটনাটি শোনার পর বিচারপতি বসাক নির্দেশ দেন, বাড়ির একটি তলায় ছেলে থাকবে। অন্য তলা ছেড়ে দিতে হবে বাবাকে। এবং কোন তলায় থাকবেন, তা বাবা নিজেই বেছে নেবেন। সেই অনুযায়ী ঘর ছেড়ে দিতে হবে ছেলেকে। এই নির্দেশের পরও টনক নড়েনি গুণধর ছেলের। বাবাকে ঘর পছন্দ করার কোনও সুযোগ না দিয়েই গোটা বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয় জয়। বাধ্য হয়ে শুক্রবার ফের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে বিষয়টি উল্লেখ করেন অমলবাবুর আইনজীবীরা। পাল্টা উত্তর দিতে শুরু করেন জয় দাসের আইনজীবী। তাঁকে থামিয়ে পিছন থেকে জয় দাস চেঁচিয়ে বলতে শুরু করেন, “আমার কিছু বলার আছে। আমি বলতে চাই…।” এতেই চটে যান বিচারপতি বসাক। ছেলের আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “সবাই পোশাক পরে আইনজীবী হতে পারে। কিন্তু মর্যাদা দিতে পারে না। যদি মক্কেলকে সামলাতে না পারেন, তাহলে লাইসেন্স জমা দিয়ে ওকালতি ছেড়ে দিন।” বিচারপতি আরও বলেন, “আপনার মক্কেলের আচরণ দেখুন! আপনি দাঁড়িয়ে থেকে ওই ঘর খালি করতে চাইলেও পুলিশ ছাড়া আমি আপনাকে সেখানে পাঠাতে পারব না। যারা নিজের বাবার সঙ্গে এমন করে তারা সব পারে।” এরপরই বিচারপতি, সোমবারের মধ্য ঘর খালি করে সেটিতে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে ছেলেকে আদালতে আসতে নির্দেশ দেন। আদালতই বৃদ্ধ বাবাকে ঘরের চাবি তুলে দেবে।

[রোগীর মসুর ডালে বিছে, কাঠগড়ায় শহরের নার্সিংহোম]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.