একাধিকবার চম্পাহাটির একাধিক বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের (Champahati Blast) ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে হয়েছে বিতর্কও। কিন্তু বিস্ফোরণের পর রাতারাতি প্রমাণ লোপাটে সমস্ত কিছুই সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে বিস্ফোরণের পর জানা যায় না, সেখানে ঠিক কি তৈরি হচ্ছিল। বাজি নাকি ‘বড় বাজি’ তৈরি করা হচ্ছিল তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকেই। ঠিক যেমন ঘটনাটি ঘটল শনিবার। সেদিন ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চম্পাহাটির একটি বাজি কারখানা। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনজন। মৃত্যু হয়েছে একজনের। নাম গৌড়হরি গঙ্গোপাধ্যায়। তবুও কারখানায় কি বাজি তৈরি হচ্ছিল তা সঠিকভাবে জানাতে পারল না পুলিশও। সাধারণত রং মশাল তুবড়ি বা চরকাবাজিতে এত বড় বিস্ফোরণ হওয়া সম্ভব নয়! বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই ছিল যে, উড়ে যায় কারখানার চারটি দেওয়াল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাশের আরও দুটি কারখানাও। আর তাতে সন্দেহ আরও তীব্র হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) চম্পাহাটির বাজি ব্যবসায়ীদের জন্য বাজি হাব তৈরি করে দিয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগেই। সেই কাজ সম্পন্নও হয়ে গিয়েছে। অথচ সেই সমস্ত জায়গাতে বাজি ব্যবসায়ীরা এখনও পর্যন্ত তাদের ব্যবসা স্থানান্তরিত করেনি। জনবহুল এবং বসতিপূর্ণ স্থান হওয়ার সত্ত্বেও সেখানেই চলছে বাজি কারখানা। রমরমিয়ে প্রায় প্রতিটি বাড়ির অলিগলিতেই ছোট ছোট কারখানা গড়ে উঠেছে। আর কারখানা গড়ে ওঠার কারণেই যখন বিস্ফোরণ ঘটে তখন আহত বা নিহতের সংখ্যা এক লাফে খানিকটা বেড়ে যায়। তবুও বিস্ফোরণের পর জানা যায় না আহত বা নিহতের সংখ্যাটা ঠিক কত। কারণ বাজি ব্যবসায়ী সমিতির চাপেই স্থানীয় মানুষজন মুখ খুলতে পারেন না। শুধু তাই নয় পরিবারের লোকজনকে মুখ বন্ধ রাখতে বলা হয়।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় মানুষের দাবি, প্রতিবার ভোট আসলেই এই কারখানাগুলোতে বড় বড় সাইজের চকলেট বানাতে দেওয়া হয়! তবে সেগুলো ‘বোম’ কিনা তা নিয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। কারণ প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের কাছ থেকেই তাদের কাছে এই ‘বড় বাজি’ তৈরির অর্ডার আসে। যার এক একটির বড়বাজির বিস্ফোরণ ক্ষমতা একাধিক মানুষকে আহত বা নিহত করতে পারে। পুলিশ বা প্রশাসনের চক্ষু এড়িয়েই ছোট ছোট কারখানা গুলিতে চলে এই ‘বড় বাজি’ তৈরির কারবার। আর সেগুলি যখন বিস্ফোরণ ঘটে তখনই বেড়ে যায় হতাহতের সংখ্যা। শনিবার বিস্ফোরণে সেরকম কিছুই তৈরি হচ্ছিল বলে অনুমান পুলিশের একাংশের। না হলে নেহাত চরকা বা রং মশালে এত বড় বিস্ফোরণ হওয়া সম্ভব নয়। সাধারণ মানের তুবড়িতেও এরকম বিস্ফোরণ নাও ঘটতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, যে সমস্ত কারখানাগুলোতে বাজি তৈরি অনুমতি আছে সেই সমস্ত কারখানাগুলিতে নিষিদ্ধ বাজি তৈরি হয় অধিকাংশ সময়ে। আর কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে পুলিশ এসে বন্ধ করে দেয় যে সমস্ত ছোট ছোট অনুমতিহীন কারখানা আছে সেগুলোই। কিন্তু বড় বড় ব্যবসায়ীদের কে কিছু বলে না। অথচ বড় বড় ব্যবসায়ীদের কারখানাগুলোতে এই বেশিরভাগ সময় এই বড় বাজি তৈরি হয়। কালী পূজার আগে মাঝেমধ্যেই নিয়মমাফিক কিছু তল্লাশি হলেও বাকি সময় বারুইপুর হারাল থেকে যায় পুলিশ প্রশাসনের লোক চক্ষুর অন্তরালে। সেখানে কি বাজি তৈরি হচ্ছে তা কোথায় যাচ্ছে তার খবর প্রায় কেউই রাখে না। এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটে নিয়ম করেই। আবার তা চাপাও পড়ে যায় কয়েকদিনের মধ্যেই।
সর্বশেষ খবর
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ
-
‘কলাকুশলীরা বেশি ভুগেছেন…’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে কী বলছেন ‘বাজিগর’ অনির্বাণ?
-
তামিলনাড়ুতে বিজেপিতে মহাভাঙন! আন্নামলাই, নাগার্জুনের পর দল ছাড়লেন সুমতি
-
অস্তাচলে তৃণমূলের সূর্য! ২৮ বছর পর ‘ছুটি’ পেলেন মমতার ‘বক্সীদা’
-
সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে যাচ্ছেন রোহিত, ইংল্যান্ড সিরিজেও কোহলিকে নিয়ে অনিশ্চয়তা