৫ শ্রাবণ  ১৪২৬  রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এক সপ্তাহর দীর্ঘ টানাপোড়েন৷ রাজ্যজুড়ে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরে একেবারে থমকে গিয়েছিল স্বাস্থ্য পরিষেবা৷ যাঁরা হাসপাতালে ভরতি ছিলেন, মাঝপথে আটকে গিয়েছিল তাঁদের চিকিৎসা৷ রোগীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়ে ফিরে আসছিলেন৷ আজ থেকে সেসব ছবি অতীত৷ মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় সমস্ত জটিলতা কেটে এক সপ্তাহ পর ফের সচল রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা৷ সকাল থেকেই হাসপাতালের আউটডোরে রোগীর ভিড়৷ নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে ফের রোগী দেখা শুরু করেছেন চিকিৎসকরা৷ জরুরি বিভাগেও কাজ শুরু হয়েছে তৎপরতার সঙ্গে৷

[আরও পড়ুন: নবান্নে বৈঠক চলাকালীনই সিউড়িতে ডাক্তারকে হেনস্তা, গণধোলাইয়ের পর ধৃত যুবক]

কলকাতার এনআরএস, ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজ, আরজি কর থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালগুলিতে এই ক’দিনের আন্দোলনের ছবিটা ফিকে হয়েছে৷ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই রোগীদের বেশ নিশ্চিন্ত দেখাল৷ দূরদূরান্ত থেকে কলকাতা এবং সংলগ্ন সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা লাইনে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সুরেই জানালেন, আজ আর ফিরে যেতে হবে না৷ ডাক্তারবাবুরা রোগী দেখছেন৷ এবার সব ঠিক হয়ে যাবে, সুস্থ হয়ে উঠবেন তাঁদের প্রিয়জন৷

প্রায় একই ছবি দেখা গেল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে৷ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, যার উপর রাজ্যের উত্তরাংশের জেলাগুলির অধিকাংশ চিকিৎসা পরিষেবাই নির্ভরশীল, সেখানেও এতদিন অচলাবস্থা চলছিল৷ মঙ্গলবার সকাল থেকে সবটাই স্বাভাবিক হচ্ছে বলে খবর৷ খুলেছে আউটডোর, এমারজেন্সি এবং অন্যান্য বিভাগ৷ রোগীরা নিশ্চিন্তে লাইনে দাঁড়িয়েছেন৷ পাশাপাশি কাজ থমকে যাওয়া মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালও আজ সকাল থেকে ছন্দে ফিরেছে৷ কাজ চলছে নিজস্ব গতিতে৷

[আরও পড়ুন: তৃণমূলের ‘ডার্টি পলিটিক্স’এ থমকে কাজ, সংসদের প্রথমদিনই অভিযোগ বাবুল সুপ্রিয়র]

এনআরএসের জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে গত এক সপ্তাহ ধরে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে কর্মবিরতি ডেকেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ যথাযথ সুরক্ষা না পাওয়া পর্যন্ত আউটডোরে পরিষেবা মিলবে না বলে সাফ জানিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল৷ এমারজেন্সি খোলা থাকলেও, পরিষেবা ঠিকঠাক মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে বারবার৷ কোথাও আবার জরুরি বিভাগেও তালা পড়ে গিয়েছিল৷ আর এসবের জেরে গত সাতদিনে শুধুমাত্র চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর সংখ্যাটা নিতান্ত কম নয়৷ তবে তার মধ্যেও প্রতীকী কর্মবিরতির পর ব্যতিক্রমী নজির তুলে ধরে কেউ কেউ  স্বাভাবিক রেখেছিলেন চিকিৎসা পরিষেবা৷

মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা মেটাতে তৎপর হলেও, প্রাথমিকভাবে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে আন্দোলনকারী ডাক্তাররা তাতে সাড়া দেননি৷ তবে সপ্তাহখানেক কেটে যাওয়ার পর তাঁরা নিজেরাই নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবার আলোচনায় বসেন৷ প্রত্যাশামতো সেখান থেকে বেরিয়ে আসে সমাধানসূত্র৷ মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যার কথা মেনে দ্রুত তা সমাধানের আশ্বাস দেন৷ বরফ গলে সোমবার রাতেই আন্দোলনকারীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিষেবা চালু হয়ে যাবে৷ সেইমতো সাতদিনের থমকে থাকা স্বাস্থ্য পরিষেবা মঙ্গলবার থেকে সচল হল৷  

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং