Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
Tiger

পুরুলিয়া থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে জিনাত সঙ্গী! পরিচয় জানতে ছবি গেল কেন্দ্রীয় সংস্থায়

জামশেদপুর বন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে ওই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ঘাটশিলা বনাঞ্চলেই রয়েছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২৫, ১৩:২৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২৫, ১৩:২৯

options
link
পুরুলিয়া থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে জিনাত সঙ্গী! পরিচয় জানতে ছবি গেল কেন্দ্রীয় সংস্থায় zoom
Advertisement

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: জিনাত সঙ্গীর পরিচয়-সহ বাসস্থান কোথায়? তা জানতে ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়া তার একাধিক ছবির নমুনা পাঠানো হল ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়াতে। রাজ্যের বন্যপ্রাণ শাখার তরফে ওই নমুনা পাঠানো হয়েছে। বাঘের গায়ের ডোরাকাটার দাগ দেখে বোঝা যাবে এই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আঁতুড়ঘর কোথায়।

কী করে তা সম্ভব? জানা যাচ্ছে, বাঘের স্বভাব, প্রকৃতির পাশাপাশি ডোরাকাটার দাগও পৃথক হয়। যা দেখে বোঝা যাবে বাঘটির কোথাকার। পাশাপাশি ওই ট্র্যাপ ক্যামেরার ছবি ওড়িশার সিমলিপাল থেকে ঝাড়খণ্ডের পালামৌ, হাজারিবাগ, বেতলা এলাকায় পাঠানো হয়েছে ওই রয়্যাল বেঙ্গল সেখানকার কিনা জানতে। তবে ওড়িশার সিমলিপাল জানিয়ে দিয়েছে এই বাঘ তাদের নয়। এ বিষয়ে ঝাড়খণ্ডের অন্যান্য ব্যাঘ্র প্রকল্প সঠিকভাবে কোনও কিছু জানাতে পারেনি বলে খবর। অরণ্য ভবন সূত্রে যে তথ্য মিলেছে, তাতে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় থেকেও ওই বাঘ আসতে পারে। ফলে দীর্ঘ পথ হেঁটে সে ঝাড়খণ্ড হয়ে বাংলায় ঢুকেছে কিনা সেই বিষয় খোঁজখবর চলছে। রাজ্যের মুখ্য বনপাল (পশ্চিম চক্র) সিঙ্গরম কুলানডাইভেল বলেন, “এই বাঘের ডোরাকাটা কোথাকার তা জানতে ছবি সমেত সবকিছু যথাস্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

Advertisement

এই বাঘটির রেডিও কলার থাকলে তার ঠিকানা কোথায় তা বুঝতে অসুবিধা হতো না। তবে রাজ্য বনবিভাগের ধারণা, ব্যাঘ্র প্রকল্প ছাড়াও কোন জঙ্গল থেকে এই বাঘটি চলে আসতে পারে। সেই আগমণের পথে কোথাও না কোথাও জিনাতের সঙ্গে পরিচিতি হওয়ার কারণেই সে তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে বলে মনে করছেন ব্যাঘ্র বিশেষজ্ঞরা। বান্দোয়ানে সাঁড়াশি অভিযান শেষ হলেও বাঘ-বন্দি অভিযানের নজরদারি চলছেই বান্দোয়ান ব্লক-সহ মানবাজার দুই বনাঞ্চলে। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের টিমও রয়েছে বান্দোয়ানে।

ওই এলাকাবাসীদের এই বন্যপ্রাণ সম্বন্ধে সাবধান ও সতর্ক থাকার জন্য রাজ্যের মুখ্য বনপাল (দক্ষিণ-পশ্চিম চক্র) বিদ্যুৎ সরকারের তত্ত্বাবধানে সোমবার রাতে পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকে ওই বাঘকে বাঁচানোর পাশাপাশি যাতে কারও কোনও কিছু ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বান্দোয়ানের আসনপানি, থরকাদহ, দুয়ারসিনি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটারের মধ্যে পাহাড়-জঙ্গল ঘেঁষে ওই বাঘ রয়েছে। মঙ্গলবার সকালের পদচিহ্ন সেই কথাই বলছে।

State wildlife wing sent the picture to Wildlife Institute of India to identify Tiger
বনদপ্তরের ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি। রাজ্য বনবিভাগ থেকে প্রাপ্ত।

ফলে দ্রুত সে বাংলায় চলে আসতে পারে এই শঙ্কাও রয়েছে বনদপ্তরের। আর সেই কথা মাথায় রেখেই যেমন নাইট ওয়াচিং চলছে। আধিকারিক স্তরেও চলছে তদারকি। বান্দোয়ান এক, বান্দোয়ান দুই, যমুনা ও মানবাজার দুই বনাঞ্চলের রেঞ্জ আধিকারিক ও বিট আধিকারিকরা যৌথ বন পরিচালন সমিতির সঙ্গেও বৈঠক করেন। কারণ নাইট ওয়াচিংয়ে তাঁরাও রাত পাহারা দিচ্ছেন। রাজ্যের মুখ্য বনপাল (দক্ষিণ-পশ্চিম চক্র) বিদ্যুৎ সরকার বলেন, “হঠাৎ করে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ঢুকলে যাতে আমাদের বিভীষিকার মধ্যে না পড়তে হয়, তার জন্য আমাদের নজরদারি ও তদারকি জারি রয়েছে।”

এদিকে জামশেদপুর বন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে ওই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ঘাটশিলা বনাঞ্চলেই রয়েছে। যেখান থেকে বান্দোয়ানের দুয়ারসিনির দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। বনবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ঘাটশিলা বনাঞ্চলের কালাঝোর থেকে পূর্বদিকে ১১ কিমি গিয়ে বেকো, কুদলং, ডালাপানি হয়ে দুয়ারসিনি-গালুডি রাস্তা পার হয়ে দুমকাকোচা ঢোকে। সেখান থেকে যায় মৃগীটাড়। ওই দুই জায়গাতেই সাইটিং-র পাশাপাশি পায়ের ছাপ পাওয়া যায়। ফলে ওই বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে ট্র্যাপ ক্যামেরা পাতছে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর বনবিভাগ। পুরুলিয়ার ঝাড়খণ্ড সীমানাতেও কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগ ট্র্যাপ ক্যামেরা বসিয়েছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.