BREAKING NEWS

০৮ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৯  মঙ্গলবার ২৪ মে ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

ঘনিষ্ঠরাই সুপারি কিলার দিয়ে খুন করিয়েছে শ্রীনুকে!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: January 12, 2017 5:03 pm|    Updated: January 12, 2017 5:03 pm

সম্যক খান ও অংশুপ্রতিম পাল: পুরোপুরি হাড়হিম করা বলিউডি ফিল্মের অ্যাকশন থ্রিলার সিনের মাফিয়া খুনের চিত্রনাট্য৷ প্রথমে বোমা, পরে অটোমেটিক পিস্তল থেকে গুলিবৃষ্টি, মাথা ও বুক টার্গেট করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া প্রতিপক্ষের ‘ক্যাপ্টেন’-কে৷ খড়গপুরের শ্রীনু নায়ডু খুনের পর জখম ব্যক্তিদের বয়ান রেকর্ড করার পর এমনই তথ্য পেল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ৷ পাঁচজনকে আটক করার পাশাপাশি একই সঙ্গে খুনের নেপথ্য ও খুনিদের পরিচয়ও অনেকটা জেনে ফেলেছেন তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা৷

শ্রীনু নায়ডু খুনে শুট আউটের অপারেশন চালিয়েছে জামশেদপুর থেকে ভাড়া করা শার্প শুটার সুপারি কিলাররা৷ খুনের ছক সাজানোর আগে বেশ কয়েকবার শ্রীনুর বাড়ি, অফিস-সহ অন্যান্য আস্তানা রেইকি করে খুনিরা৷ মোটা টাকার বিনিময়ে শ্রীনুর ঘনিষ্ঠরাই সমস্ত তথ্য দিয়েছে খুনিদের৷ প্রাথমিক তদন্তের পর এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে৷

কিন্তু ঘটনার সত্যতা, বিচার-বিশ্লেষণ চলার কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি খড়গপুর পুলিশ৷ তবে গোটা ঘটনায় যে পেশাদার অপরাধীদেরই হাত সে বিষয়ে নিশ্চিত পুলিশ৷

খড়গপুরের ‘বেতাজ বাদশা’ শ্রীনু নায়ডুর খুনের ঘটনা যেন কোনও হিন্দি সিনেমার শুট আউটের দৃশ্য৷ শ্রীনুকে যারা খুন করতে এসেছিল তারা যে চরম পেশাদার তার অনেক প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ৷ বোমা মেরে টার্গেটকে হতভম্ব করে ডেরায় ঢুকে খুন৷ অটোমেটিক পিস্তল দিয়ে পরপর গুলি৷ সব কিছুতেই পেশাদারিত্বের ছাপ৷ কপালে গুলি লেগে মৃত্যু হয়েছে শ্রীনুর৷ পেশাদার শার্প শুটার ছাড়া টার্গেটের মাথা লক্ষ্য করে গুলি করা অসম্ভব ব্যপার৷ এমনটাই ধারণা তদন্তকারীদের৷ প্রায় ৪০ রাউন্ড গুলি চলেছে বলে দাবি শ্রীনুর আহত অনুগামীদের৷ এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গুলির খোল দেখে জানা যায়, অত্যাধুনিক নাইন এমএম এবং সেভেন এমএম অটোমেটিক পিস্তল দিয়েই গোটা অপারেশন চালানো হয়েছে৷

ঠিক কী ঘটেছিল বুধবার?

ঘটনার দিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ খড়গপুর টাউন থানার নিউ সেটেলমেন্ট এলাকার তৃণমূল কার্যালয়ে সঙ্গীদের নিয়ে বসেছিল শ্রীনু৷ আচমকাই গাড়ি করে এসে দুষ্কৃতীরা অফিসের সামনে বোমাবাজি শুরু করে৷ বোমা মারতে মারতেই ঢুকে পড়ে অফিসে৷ বোমার আওয়াজে শ্রীনু ও অফিসে বসা বাকি ব্যক্তিরা তখন হতভম্ব৷ সেই সুযোগে অফিসে ঢুকে পরপর গুলি চালাতে থাকে তারা৷ গুলিতে লুটিয়ে পড়েন শ্রীনু-সহ চারজন৷ কিন্তু কী কারণে এবং কে খুন করল শ্রীনুকে?

সন্দেহের তালিকায় অনেকে৷ তবে রাজনৈতিক কারণ, নাকি ক্ষমতা দখল, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় পুলিশ৷ পুলিশের একাংশের বক্তব্য, গত কয়েক বছরে রেল শহর খড়গপুরের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি শ্রীনুর বিরুদ্ধে রাহাজানি, ছিনতাই, তোলাবাজি, গুলি চালানোর অনেক অভিযোগ রয়েছে৷ খড়গপুরের এক সময়ের মাফিয়া ডন বাসব রামবাবুর একটি খুনের মামলায় জেল হওয়ার পর বাড়বাড়ন্ত হয় শ্রীনুর৷ এক সময়ের রেল ওয়ার্কশপের কর্মী ও এলাকার ছোটখাটো মস্তান হিসাবে পরিচিত শ্রীনুর হাতে চলে আসে খড়গপুরের দখল৷ ২০১০ সালে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের ৩১ লক্ষ টাকা ডাকাতির ঘটনাতেও জড়ায় শ্রীনুর নাম৷ ২০১১ সালে জামিনে মুক্ত হয়ে খড়গপুরে ফিরে আসে রামবাবু৷ রামবাবুকে খুনের চেষ্টায় নাম জড়ায় শ্রীনুর৷ একদা খড়গপুরের ত্রাস রামবাবু বুঝতে পারে এলাকা হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে৷ তাই নিজেকে গুটিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে নিজের বাড়িতে ফিরে যায় সে৷ ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জিতে কাউন্সিলর হন শ্রীনুর স্ত্রী পূজা নায়ডু৷ যদিও পরে স্ত্রীকে নিয়ে তৃণমূল ফিরে যায় শ্রীনু৷ তৃণমূল অভিযোগের তির ছুড়েছে বিজেপির দিকে৷ যদিও এই খুনের পিছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগ থাকার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা৷ ঘটনার পিছনে যেই থাক, পাকাপোক্ত ছক সাজিয়ে অপারেশন চালানো হয়েছে৷ কোন সময় এবং কোথায় হামলা চালালে প্রত্যাঘাতের সম্ভাবনা থাকবে না তা জেনেই প্ল্যান সাজায় খুনিরা৷ দুপুরের যে সময় হামলা হয়েছে, সেই সময় হাল্কা মেজাজেই থাকত শ্রীনু৷ যে অফিসে হামলা চালানো হয়েছে সেটি ছিল ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শ্রীনুর স্ত্রী পূজা নায়ডুর কার্যালয়৷ মাঝে মধ্যেই দুপুরের সময় সেখানে যেত শ্রীনু৷ তবে শ্রীনু কখন কোথায় থাকবে সে খবর তার খুব ঘনিষ্ঠ ছাড়া আর কেউ জানত না৷ সূত্রের খবর, তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে ওই দিন ওই সময় শ্রীনু ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কমিটির কার্যলয়ে থাকবে সে খবর খুনিদের দিয়েছিল তাঁর ঘনিষ্ঠরাই৷ তার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকাও পেয়েছে তারা৷

খড়গপুরে তৃণমূল কার্যালয়ে গুলি, নিহত কুখ্যাত ডন শ্রীনু নায়ডু

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে