Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
Suvendu Adhikari

সীমান্তে বসবে স্মার্ট কাঁটাতার, তৈরি হবে ১০টি ফাঁড়ি, শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে ঘোষণা শাহের

সীমান্তের জুম্মাগছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোজা পৌঁছে যান শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায়।

Advertisement
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২৬, ২১:৪৮

link
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২৬, ২১:৪৮

options
link
সীমান্তে বসবে স্মার্ট কাঁটাতার, তৈরি হবে ১০টি ফাঁড়ি, শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে ঘোষণা শাহের zoom
মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পরিদর্শনে শাহ।

পাখির চোখ ‘চিকেনস নেক’ অর্থাৎ ‘শিলিগুড়ি করিডরে’র নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। রাজ্যে পালাবদলের পর সীমান্তে জমি জট কেটেছে। কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করার ব্লু-প্রিন্ট চূড়ান্ত। কোনও ভাবেই যেন অনুপ্রবেশ না ঘটে সেজন্য বসবে অত্যাধুনিক ত্রিস্তরীয় ফেন্সিং অর্থাৎ স্মার্ট কাঁটাতারের বেড়া। শনিবার জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়ির জুম্মাগছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিএসএফ আউটপোস্ট পরিদর্শন করে একথা স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে নিয়ে এদিন সীমান্তে দাঁড়িয়ে রাজ্যে দশটি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি। তার মধ্যে দু’টি উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারে হবে। এছাড়াও ৭৭.০৬ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরজমিনে খতিয়ে দেখতে ওয়াচ-টাওয়ার পরিদর্শন করেন। পরে উত্তর কন্যায় উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা বিষয়ে বৈঠকে অমিত শাহ জানিয়ে দেন, নদী এলাকায় স্মার্ট ভার্চুয়াল ফেন্সিং এবং উন্নত থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম বসানো হবে। যেন জলপথেও ‘পাখি গলার’ সুযোগ না থাকে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে তিস্তা নদীতে ব্যারাজ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে চিনা ইঞ্জিনিয়ার ও কারিগরি কর্মীদের গতিবিধি বেড়েছে৷ ওই এলাকা ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর পাল্টা হিসেবে দিল্লি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বলয়কে আরও নিশ্ছিদ্র করতে চাইছে।

দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘চিকেনস নেক’ অর্থাৎ ‘শিলিগুড়ি করিডর’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এহেন পরিস্থিতিতে এদিনে শাহের উত্তরবঙ্গ সফর ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে নিয়ে সীমান্ত নিশ্ছিদ্র করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএসএফ-এর উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজিকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও মহানন্দার উন্মুক্ত নদীপথে অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। তার আগে আউটপোস্টে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন অমিত শাহ। এছাড়াও ৭৭.০৬ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ওয়াচ-টাওয়ারে ওঠেন। বাইনোকুলারে চোখ রেখে মহানন্দা নদীপথে নিরাপত্তার সমস্যা বুঝে নেন। এরপর চারাগাছ রোপণ করে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে চা-চক্রে অংশ নেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কিন্তু সীমান্তে এত আউট পোস্ট থাকতে কেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিদর্শনের জন্য জুম্মাগছ বেছে নেওয়া হয়েছে? গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জুম্মাগছ গ্রামটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এখান থেকে সরাসরি রাবভিটার দূরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার। এই অঞ্চলের মাথাব্যথার কারণ মহানন্দা নদী। বিস্তীর্ণ এলাকা উন্মুক্ত। বর্ষাকালে নদীপথে বাংলাদেশ থেকে এই চিকেনস নেক এলাকায় অনায়াসে ঢুকে পড়ার একটা বড় ঝুঁকি থাকে। ওই সমস্যা বোঝাতে এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জুম্মাগছে নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিষয়ে বিএসএফের পদস্থ কর্তাদের কেউ মুখ না খুললেও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির লাইফলাইন। ওই কারণে নতুন বিওপি ও ত্রিস্তরীয় ফেন্সিংয়ের মাধ্যমে সীমান্তকে সম্পূর্ণ অভেদ্য করে তোলা হচ্ছে। ওপারে চিনের পরিকাঠামো বৃদ্ধির পাল্টা হিসেবে ভারতের এই পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। সম্প্রতি বাংলাদেশে তিস্তা নদীতে ব্যারাজ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে চিনা ইঞ্জিনিয়ার ও কারিগরি কর্মীদের গতিবিধি বেড়েছে৷ ওই এলাকা ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর পাল্টা হিসেবে দিল্লি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বলয়কে আরও নিশ্ছিদ্র করতে চাইছে। 

বিএসএফ আধিকারিক ও জওয়ানদের সঙ্গে ছবি তোলেন অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী।

অন্যদিকে সীমান্তের জুম্মাগছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোজা পৌঁছে যান শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায়। সেখানে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভুয়া পরিচয় এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মতো বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে ছিলেন বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার, এসএসবি, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর এবং উত্তরের ছয় জেলা দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহের পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। বৈঠকে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনতে আধুনিক ত্রিস্তরীয় ফেন্সিং অর্থাৎ স্মার্ট কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নদী এলাকায় স্মার্ট ভার্চুয়াল ফেন্সিং এবং উন্নত থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম বসানোর কথা জানান।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.