সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: ফের ট্যারান্টুলা আতঙ্ক। এবার আতঙ্ক ছড়াল শিল্প শহর দুর্গাপুরে। সাত সকালে গ্যারাজ থেকে গাড়ি বের করতে গিয়েই ট্যারান্টুলার দেখা পান নাড়ুগোপাল মণ্ডল। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি চেঁচামেচি শুরু করেন। ভাগনের চিৎকারে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন মামা রোহিত মণ্ডল। দেখেন একটি রোমশ মাকড়সা গুটিগুটি এগোচ্ছে। ততক্ষণে উৎসাহীদের ভিড় জমেছে। তবে সময় নষ্ট করেননি রোহিতবাবু মাকড়সাটিকে তৎক্ষণাৎ কাচের জারে পুরে ফেলা হয়। খবর যায় বনদপ্তরে। খবর পেয়ে স্থানীয় বনদপ্তরের কর্মীরা এসে জার সমতে মাকড়সাটিকে নিয়ে গিয়েছেন। তবে জারবন্দি মাকড়সা আদৌ ট্যারান্টুলা কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরীক্ষার পরই জানা যাবে মাকড়সার আসল পরিচয়।
[সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল-এর খবরের জের, বাড়ির কাছে বদলি হলেন হুগলির সরকারি কর্মী]
এদিকে সাত সকালে ট্যারান্টুলার খবরে হইচই পড়েছে দুর্গাপুর নগর নিগমের অন্তর্গত শোভাপুর গ্রামে। সপ্তাহখানেক ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ট্যারান্টুলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিষাক্ত মাকড়সার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের সৌজন্যে সেই মাকড়সার ছবি দেখে ফেলেছে রাজ্যবাসী। সবাই বেশ আতঙ্কিত। রাতে মশারি ছাড়া ঘুমোনোর নামও করছেন না কেউ। পৈতৃক প্রাণটি রক্ষায় এই ভয়ঙ্কর মাকড়সাকে প্রতিহত করতে সকলেই প্রায় তৎপর। তাই নাড়ুগোপালবাবু রোমশ মাকড়সা দেখেছেন খবর চাউর হতেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। তবে দেখা পাওয়া মাকড়সাটি আদৌ ট্যারান্টুলা কি না তা নিশ্চিত নন বাসিন্দারা। কিন্তু সাবধানের মার নেই, তাই ঝুঁকি নিতে নারাজ। ওই বাড়ির সদস্য রোহিতবাবুর দাবি, ‘একটি মাকড়সা যখন পাওয়া গিয়েছে তখন আরও থাকতে পারে। দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রশাসনিক কর্তারা যাতে বিষয়টি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেন তার আর্জি জানাচ্ছি। স্থানীয় কাউন্সিলরকে ইতিমধ্যেই মাকড়সার ছবি হোয়াটসঅ্যাপ করেছি।’
এদিকে ট্যারান্টুলা সন্দেহে হুলস্থুল গোটা এলাকায়। তবে মাকড়সার চেহারা দেখে ট্যারান্টুলা বলেই দাবি করছেন বাসিন্দারা। চলতি বছরে জঙ্গলমহলের নয়াগ্রামেই প্রথম ট্যারান্টুলার দেখা মেলে। পরে ঝাড়গ্রামে। ইতিমধ্যেই ট্যারান্টুলার বিষে বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন। তারপর হুগলির আরামবাগ ও পরে বাগনানের মুর্গাবেড়িয়ায় ট্যারান্টুলার আতঙ্ক ছড়ায়। মুর্গাবেড়িয়ার বাসিন্দা ইব্রাহিম মল্লিক উঠোন পরিষ্কার করতে গিয়ে পাশের একটি ঝোপের মধ্যে একটি অদ্ভুতদর্শন মাকড়সা দেখতে পান। এরপর তিনি বিষয়টি হাওড়া জেলাপরিষদ সদস্য রেজ্জাক হাজারিকে জানান। পরে স্থানীয় যুবকরা মাকড়সাটিকে একটি জারের মধ্যে ভরে বনদপ্তরের হাতে তুলে দেন। এহেন আতঙ্কের মধ্যে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই মাকড়সাটির প্রায় ৯০০টি প্রজাতি রয়েছে৷ প্রধানত আমেরিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ায় বাস এই প্রাণীটির৷ তবে ভারতেও এর দেখা মিলেছে৷ যদিও এমন বিপুল হারে পশ্চিমবঙ্গে এই মাকড়সার বৃদ্ধি রীতিমতো গবেষণা করার বিষয়৷
ছবি : উদয়ন গুহরায়
[ফিরিয়ে আনুন মুখ্যমন্ত্রী, কাশ্মীরে ধসে আটক পর্যটকদের করুণ আর্তি]
সর্বশেষ খবর
-
প্রাক্তন মন্ত্রী টিকিট না পাওয়ায় ক্ষোভ, মধ্যপ্রদেশে পুলিশ পেটাল বিজেপি কর্মীরা, মোদি জমানায় বিরল ছবি
-
বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরে আরও এক ধাপ, রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে কমিটিতে কারা?
-
পেটখারাপ রাইসের! হালান্ডদের মুখোমুখি হওয়ার আগে চোট-কার্ড-অসুস্থতায় জেরবার ইংল্যান্ড
-
‘ছোট্ট ঘটনা বলা হবে না’, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের তরফে বিরোধিতা নয়, কামদুনি মামলায় বড় বার্তা শুভেন্দুর
-
বারুইপুর হিংসার নেপথ্যে মৌলবাদী, অতি বামেরা! শুভেন্দু বললেন ‘ভোটে হেরেই হিংসায় উসকানি’