সকলেই ঘুমঘোরে। তার মাঝে আচমকা অগ্নিকাণ্ড (Tarapith Fire)। ঘর থেকে বেরিয়েই যেন সাক্ষাৎ মৃত্যুর সঙ্গে দেখা! এমার্জেন্সি গেটের দিকে দৌড়ে যান আবাসিকরা। যদিও লাভ হয়নি। এত বড় কাণ্ড ঘটে গেলেও বন্ধ আপদকালীন দরজা। বাধ্য হয়ে রিসেপশন দিয়ে বেরনোর চেষ্টা করেন আবাসিকরা। তারই মাঝে অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান ৮ জন। আহত অনেকেই। আবাসিকদের বয়ানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। যদিও হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে অন্য কথা।
‘বিদেশিনী’ নামে ওই হোটেলটি তারাপীঠ থানার কাছে অবস্থিত। শ্রাবণের শেষ সোমবার বলে হোটেলে পর্যটকের সংখ্যা ছিল যথেষ্ট। আবাসিকদের দাবি, এত বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও ফায়ার অ্যালার্ম বাজতে শোনা যায়নি। তার উপর আবার ফাইবারের ফলস সিলিং থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। নিমেষে যেন জতুগৃহের রূপ নেয় হোটেলটি। ধোঁয়া, আতঙ্ক সব মিলিয়ে আবাসিকরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বারান্দার পাইপ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। তাতে জখমও হন বেশ কয়েকজন।
আরও পড়ুন:
মালিকের ছেলে কল্যাণ পাল হোটেলটির দেখভালের দায়িত্বে। তাঁর দাবি, ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ এসির এমসিবিতে শর্ট সার্কিট হয়। পুড়ে গিয়ে আগুন জ্বলতে শুরু করে। নিরাপত্তারক্ষীরা দেখতে পান। সকলকে সতর্ক করেন। প্রাথমিকভাবে হোটেলে থাকা ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তড়িঘড়ি পুলিশ ও দমকলকে খবর দেওয়া হয়। কল্যাণের দাবি, এমার্জেন্সি গেট বন্ধ ছিল না। তিনি জানান, হোটেলের পিছন দিকে এমার্জেন্সি এক্সিট এবং সিঁড়ি ছিল, তা নাকি বহু পর্যটক জানতেনই না। সে কারণে রিসেপশনের সামনে থাকা দরজা দিয়ে বেরতে যান অনেকে। তার ফলে আগুনে ঝলসে যান সাতজন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে প্রত্যেক আবাসিককে হোটেল থেকে বের করে নেওয়া হয়। হোটেল মালিকের ছেলেকে আটক করা হয়েছে। অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘স্ট্যান্ডিং কমিটির শীর্ষে কেন বিদ্রোহী সাংসদ?’ কাকলিতে আপত্তি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের
-
কেন কালীঘাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির নামে সিম তুলেছিলেন সুমিত? নেপথ্যে বড় লেনদেন! তদন্তে পুলিশ
-
মেসি-ম্যাচে বঞ্চিত দর্শকদের শুভেন্দুর উপহার, উরুগুয়ে ম্যাচে ২২ হাজার টিকিট মিলবে বিনামূল্যে
-
ভারতের লড়াইকে ‘বাহবা’ দিলেন ব্রাজিল কোচ, হেরে খালিদ দুষলেন মনঃসংযোগের অভাবকে
-
‘লেনিন, মার্কস, হো চি মিন, এরা কারা?’ রাস্তার নাম বদল নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী