১৬ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  শুক্রবার ৩ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

মজুরির দিনে শূন্য হাতে ফিরতে হল চা শ্রমিকদের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: November 13, 2016 11:52 am|    Updated: November 13, 2016 11:52 am

Tea garden workers not paid wages due to currency crisis

সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো, উত্তরবঙ্গ: দুপুর গড়াতে কিছু এটিএম খুলল ঠিকই৷ ততক্ষণে অবশ্য ব্যাঙ্ক ফাঁকা৷ ফলে দুর্ভোগ কাটল না৷ বেশিরভাগ পোস্ট অফিসেও ভাঁড়ার শূন্য হয়ে পড়ায় খালি হাতে ফিরতে হল গ্রাহকদের৷ আর এসবের জেরে যেমনটা আশঙ্কা ছিল, সেটাই ঘটল৷ শনিবার উত্তরবঙ্গের বহু চা বাগানে সাপ্তাহিক মজুরির দিন থাকলেও তা হল না৷ ফলে শুকনো মুখ শ্রমিকদের৷ চা বাগানে মজুরি না হওয়ায় ডুয়ার্সের অনেক জায়গাতেই হাট বসেনি শনিবার৷ এরই মধ্যে এদিন কোচবিহারে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার অভিযোগ করেন, “বামপন্থী সংগঠনের ব্যাঙ্ক কর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে কাজের গতি শ্লথ করে রেখেছেন৷ এদিকে ব্যাঙ্কের বাইরে লাইনে দাঁড়ানো মানুষজনকে উসকে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল৷” যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওই দু’দলই৷

উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ জায়গাতেই এখনও নতুন নোট ঢোকেনি৷ ফলে টাকার জোগানের অভাবে প্রাপ্যটুকু মিলছে না বলে অভিযোগ৷ এরই জেরে বিভিন্ন জায়গায় গ্রাহক-বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়ায় এদিন৷

জলপাইগুড়ি শহরে শুক্রবার বেশিরভাগ এটিএম কাউণ্টার বন্ধ ছিল৷ টাকার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয় সাধারণ মানুষকে৷ এদিন দুপুরের পর কিছু এটিএম খুলতেই লম্বা লাইন পড়ে যায়৷ জেলার লিড ব্যাঙ্ক ম্যানেজার গৌর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রবিবার নতুন নোট ঢুকবে৷” টাকার আকাল ছিল ডাকঘরেও৷ জলপাইগুড়ি হেড পোস্ট অফিসের ক্যাশিয়ার উত্তম সরকার বলেন, “দৈনিক পঞ্চাশ লক্ষ টাকা প্রয়োজন৷ কিন্তু মিলছে দশ লাখ৷ ফলে কিছুটা সমস্যা তো হচ্ছেই৷”

ডুয়ার্সের ওদলাবাড়ি, ক্রান্তি, বাগরাকোট, ডামডিমে এদিনও এটিএম খোলেনি৷ ওদলাবাড়িতে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে গ্রাহকদের লাইন জাতীয় সড়কের উপর উঠে আসে৷ বাগরাকোটে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে শুক্রবার লাইনে থাকা সত্ত্বেও অনেকে টাকা তুলতে পারেননি৷ সন্ধ্যা ছ’টায় ব্যাঙ্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ তাই লাইনে যতক্ষণ লোক থাকবে, ততক্ষণ ব্যাঙ্ক খোলা রাখতে হবে দাবি করে এদিন বিক্ষোভ দেখান গ্রাহকরা৷

ডুয়ার্সের এলেনবাড়ি চা বাগানে এদিন মজুরির দিন থাকলেও তা হয়নি৷ বাগানে মোট সাড়ে সাতশো শ্রমিক কাজ করেন৷ তাঁদের মজুরি দিতে সপ্তাহে পাঁচ লক্ষ টাকা লাগে বলে বাগান সূত্রের খবর৷ ম্যানেজার ধন নারায়ণ চৌধুরি বলেন, ব্যাঙ্ক থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এক সপ্তাহে কুড়ি হাজারের বেশি তোলা যাবে না৷ মজুরির জন্য আগে কিছু টাকা তোলা ছিল৷ কিন্তু তাতে বেশিরভাগই পাঁচশো-হাজারের নোট৷ শ্রমিকরা তা নিতে নারাজ৷ বিষয়টি ডিবিআইটিএ-কে জানানো হয়েছে৷ শ্রমিকদের কাছে সোমবার পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে৷ তবে মজুরি দিতে না পারলে বাগানে সমস্যা তৈরি হবে৷ এলেনবাড়ি চা বাগানে মজুরি না হওয়ায় এদিন হাট বসেনি৷ ডুয়ার্সের সামসিং, সোনালী, দেবপাড়া চা বাগানেও মজুরি হয়নি৷

টাকা ফুরিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তর দিনাজপুরের একাধিক ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস ও এটিএম কাউণ্টারের সামনে বিক্ষোভ দেখান গ্রাহকরা৷ বিক্ষোভ হয় ইসলামপুর, রায়গঞ্জের মধ্য মোহনবাটি, হেমতাবাদে৷ কোচবিহারে ব্যাঙ্ক থেকে দেওয়া দশ টাকার কয়েন নিতে অস্বীকার করেন গ্রাহকরা৷ এনিয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়৷ গন্ডগোলের জেরে বেশ কিছুক্ষণ লেন-দেন বন্ধ থাকে৷ পরে গ্রাহকদের দেওয়া টাকার অঙ্ক কমিয়ে দেওয়া হয়৷ কোচবিহারের হেড পোস্ট অফিসে টাকা বদল হয়নি৷ গ্রাহক ক্ষোভ সামলাতে বালুরঘাটে এদিন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে লাইনে স্লিপ বিলি করা হয়৷ বলা হয়, বিকেল চারটে পর্যন্ত যাঁরা লাইনে থাকবেন, তাঁরাই লেনদেন করতে পারবেন৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে