BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

রাজ্যের বহু স্কুল অভিভাবকহীন

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 3, 2016 11:56 am|    Updated: June 3, 2016 11:56 am

An Images

শ্রীষিতা ঘোষ: মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকে তাক লাগানো ফল করেও অভিভাবকহীনতায় ভুগছে নামী সরকারি স্কুলগুলি৷ বহু স্কুলে নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকা৷ নেই সহকারী প্রধান শিক্ষকও৷ সেক্ষেত্রে কোনও সিনিয়র শিক্ষককে দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে৷ ঘাটতি রয়েছে সহশিক্ষক ও গ্রন্থাগারিকেরও৷ রাজ্যের সরকারি স্কুলের শিক্ষক সংগঠনগুলি মনে করছে, প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক পর্যাপ্ত সংখ্যায় থাকলে আরও ভাল ফল করা সম্ভব হত৷

বর্তমানে রাজ্যে সব মিলিয়ে মোট ৪১টি সরকারি স্কুল রয়েছে৷ স্কুলশিক্ষা দফতরের রিপোর্ট বলছে তার মধ্যে ১৮টি স্কুলে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক কিংবা প্রধান শিক্ষিকা নেই৷ অর্থাত্‍ ৪৩ শতাংশের বেশি স্কুল এই সমস্যায় ভুগছে৷ সহশিক্ষকদের শূন্যপদ রয়েছে প্রায় ২৫০টিরও বেশি৷ এদিকে প্রতিবারের মতো এবছরও মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বেশ কিছু সরকারি স্কুলের পরীক্ষার্থীরা৷ তার মধ্যে বহু স্কুলেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই৷ উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের জেনকিন্স স্কুল, সুনীতি অ্যাকাডেমি, ইন্দিরা দেবী গভর্নমেণ্ট গার্লস স্কুল, সদর গভর্নমেন্ট হাই স্কুল, কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল, মালদহ জেলা স্কুল, হুগলি কলেজিয়েট স্কুল, মুর্শিদাবাদ নবাব বাহাদুর ইনস্টিটিউশন-সহ বিভিন্ন সরকারি স্কুলে এই সমস্যা রয়েছে৷ বহু স্কুলে অভাব রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যায় সহশিক্ষকেরও৷

কেন এই সমস্যা? স্কুলশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি স্কুলগুলিতে নিয়োগ করে পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও স্টাফ সিলেকশন কমিশন৷ কিন্তু এই নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ হওয়ায় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অধিকাংশ প্রার্থীই অন্য চাকরিতে চলে যান৷ ফলে শিক্ষক পদগুলি ফাঁকাই থেকে যায়৷ যে কারণে স্কুলগুলি শিক্ষকহীনতায় ভুগছে৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্রাক্তন সভাপতি দীপক দাসের কথায়, এ বিষয়ে সরকারের কাছে বহুবার আবেদন জানানো হয়েছে৷ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করার দাবি উঠেছে৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও সদর্থক সিদ্ধান্ত হয়নি৷ তাঁর অভিযোগ, শুধু প্রধান শিক্ষক-শিক্ষক পদের ঘাটতিই নয়৷ ৯৫ শতাংশ সরকারি স্কুলে গ্রন্থাগারিক নেই৷ যার ফলে স্কুলগুলির গ্রন্থাগারের কাজ ব্যহত হচ্ছে৷ সমস্যায় পড়ছে ছাত্র-ছাত্রীরা৷ পিএসসি বা এসএসসির মাধ্যমে গ্রন্থাগারিক নিয়োগের কথা ভাবনাচিন্তা হলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি৷ এর আগে ১৯৮০ সালে সরকারি স্কুলগুলিতে প্রচুর সংখ্যায় গ্রন্থাগারিক নিয়োগ হয়েছিল৷ কিন্তু তার পর থেকে আর সেভাবে গ্রন্থাগারিক নিয়োগ হয়নি৷ যাঁরা নিয়োগ হয়েছিলেন, তাঁরাও একে একে অবসর নিচ্ছেন৷ ফলে ফাঁকা হচ্ছে গ্রন্থাগারিক পদগুলি৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement