সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের রাজ্য সফরের আগেই বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি৷ তদন্তে বিভ্রান্তি ঘটাতে বিজেপি কর্মী খুনে সহায়তা নামে অভিযুক্তকে খুঁজতে পুলিশের সঙ্গেই ঘুরে বেড়াচ্ছিল ‘খুনি’! তাই ‘খুনি’ কে? এলাকার মানুষ তো দূরঅস্ত, বুঝতে পারেনি পুলিশও৷ পুরুলিয়ার বলরামপুরের সুপুরডি গ্রামের বাসিন্দা তথা বিজেপি কর্মী ত্রিলোচন মাহাতোর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তভার হাতে নিয়ে ২৩ দিনের মাথায় সেই খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি৷
রবিবার বিকালে বলরামপুরের সুপুরডি গ্রাম থেকে পাঞ্জাবি মাহাতো নামে বছর পঁয়তাল্লিশের এক যুবককে সিআইডি গ্রেপ্তার করে। সোমবার তাঁকে পুরুলিয়া আদালতে তুলে পুলিশ হেফাজত চাইবে সিআইডি। এই ধৃত ত্রিলোচনকে খুনে সহায়তা করে তার মোবাইল নিজের কাছে রেখে দিয়ে পুলিশের গতিবিধি জানতে গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে অপহৃতকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল৷ অপহরণের রাতে ত্রিলোচনের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনের তথ্য হাতে পাওয়ার পর চমকে ওঠে সিআইডি৷ তারপরই তদন্তে নেমে এই খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত পাঞ্জাবি মাহাতোকে গ্রেপ্তার করে৷
[দেশের অপরিষ্কার শহরগুলির মধ্যে অন্যতম দার্জিলিং!]
গত ২৯ মে বলরামপুর থেকে নিজের গ্রামে ফেরার পথে ত্রিলোচন অপহৃত হন৷ তারপর ৩০ মে সকালে সুপুরডি গ্রামের অদূরে খুঁদিগোড়ার একটি সোনাঝুরি জঙ্গল থেকে ওই তরুণ বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷ ত্রিলোচন বলরামপুর কলেজের ইতিহাস অনার্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার পরনে থাকা জামা গলায় ও ট্রাউজারটি গাছ ও ওই জামার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার হয়৷ এছাড়া তার পাশ থেকে সাইকেল, মোবাইল উদ্ধার করে পুলিশ৷
ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের পাশে পোস্টারে এমন সব কথা দেখে হতবাক হয়ে যায় পুলিশ। সিআইডি জানিয়েছে, ধৃত পাঞ্জাবির কাছ থেকে তার দুটি মোবাইল ও সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। তা ফরেন্সিক তদন্তের জন্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত পাঞ্জাবি আগে সিপিএম করত৷ তারপর তৃণমূলের কর্মী ছিল৷ এই ঘটনার পর থেকেই বিজেপির নানান কর্মসূচিতে যাচ্ছে৷ তবে, দীর্ঘদিন ধরেই সুপুরডির নিচ বসতির বাসিন্দা পাঞ্জাবির সঙ্গে ত্রিলোচনদের কোনও সম্পর্ক ছিল না। এমনকি এই পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবিদের কোনও কথা হত না। সেই পাঞ্জাবিই অপহরনের রাতে গ্রামবাসী ও পুলিশের সঙ্গে ত্রিলোচনকে খোঁজার কাজে ছিল। শুধু তাই নয় মৃতদেহ উদ্ধারের সময়ও তাকে দেখতে পেয়েছিলেন ত্রিলোচনের পরিবারের লোকজন৷ তবে, খুনের অভিযোগে ঘটনায় এই ধৃতের নাম ছিল না৷ কিন্তু পরবর্তীকালে তাদের পরিবারের সন্দেহ হলে সিআইডিকে জানানো হয়৷ তারপর তাকে জেরাও করা হয়৷
[১০০ কোটির অবৈধ সম্পত্তি! হোয়াটসঅ্যাপে ভাইরাল চিঠির বিরুদ্ধে সরব পুরপ্রধান]
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত আছে। তাই এদিন বিকেলের পর থেকেই সিআইডি তাকে জেরা করছে৷ তাকে জেরা করে বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাবে। ত্রিলোচনের দাদা বিবেকানন্দ মাহাতো বলেন, “ওই দিন ভাইকে খোঁজার সময় ধৃত পাঞ্জাবি ছিল। রাত দেড়টা নাগাদ তার কাছে একটি ফোন আসলে সে চলে যায়৷ বলে তার গরুর খাবার দিতে হবে। মধ্যরাতে গরুর খাবার শুনে সন্দেহ দানা বাঁধে। এই বিষয়টি আমরা পরে সিআইডিকে জানিয়েছিলাম।”
পুরুলিয়া জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, “ধৃত যুবক আমাদের কর্মী নয়। আমাদের কর্মী ত্রিলোচনের পরিবার যাঁদের নাম এফআইআরে দিয়েছে তাঁদের কাউকে জেরা করেনি সিআইডি। এই ধৃত যুবককে ধরে আমাদের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ আসার আগে নাটক করল৷ এই গোটা ঘটনাকে অন্য মোড় দিতে চাইছে তারা। আমরা এই ঘটনায় সিবিআই চাই৷’’ গত ১৮ জুন ত্রিলোচনের পরিবার এই ঘটনায় সিবিআই চেয়ে উচ্চ আদালতে যে রিট পিটিশন করেছিল তার আজ সোমবার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে৷
সর্বশেষ খবর
-
রাজের স্মৃতিচারণায় অঝোরে কান্না, স্বামীর মৃত্যুশোক সামলাতে কী করছিলেন মন্দিরা?
-
ক্যারাটে-কুংফু শেখানোর নামে হস্টেলে নাবালিকার যৌন নিগ্রহ! গ্রেপ্তার মার্শাল আর্ট শিক্ষক
-
পুলিশ কুকুরদের পাত থেকে বাদ রেড মিট! মেনুতে বাড়তি কী থাকছে?
-
‘ঘুরে দাঁড়ানো সহজ ছিল না’, প্যারিসের হতাশা ভুলে ইতিহাস গড়ে উইম্বলডনের রাজা সিনার
-
বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ‘গ্যাংওয়ার’, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি, খুন কুখ্যাত দুষ্কৃতী