BREAKING NEWS

৭ মাঘ  ১৪২৮  শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

বাংলার মোমবাতিতে বিষাক্ত ইরানি প্যারাফিন!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 16, 2016 9:43 am|    Updated: May 16, 2016 9:44 am

The Truth About toxic Paraffin Wax Candles

গৌতম ব্রহ্ম: প্যারাফিন৷ পেট্রোলিয়ামজাত এই রাসায়নিক থেকেই মোমবাতি ও প্রসাধনী সামগ্রী তৈরি হয়৷ খাবারের প্যাকেট, চা-কফি খাওয়ার পেপার গ্লাস, কেকের মোড়ক , শিশুর ‘প্লাস্টিক ক্রেয়ন’ সবই তৈরি হয় প্যারাফিন থেকে৷ গবেষণায় প্রকাশ, ইরান থেকে আসা সস্তার ‘সেমি রিফাইনড’ প্যারাফিনে রয়েছে ক্যানসার সৃষ্টিকারী হরেক রাসায়নিক৷ বেঞ্জিন, অ্যাসিটোন, টলউইন, ইথাইল বেঞ্জিন, ক্লোরো বেঞ্জিন, ফেনল, স্টাইরিন, বুটানন, কার্বন-ডাই সালফাইড, মিথাইল ফ্লোরাইড, অ্যালডিহাইডস ইত্যাদি৷ এগুলো সবই ‘কারসিনোজেনিক’ বলে জানিয়েছেন দেরাদুনের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পেট্রোলিয়াম’-এর বিজ্ঞানী ড. ইউ সি আগরওয়াল৷

কলকাতা তো বটেই, সুন্দরবন, হুগলি, পুরুলিয়া সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে ‘ইরানি বিষ’-এর আতঙ্ক৷ প্যারাফিনের ছদ্মবেশে এই বিষ ঢুকছে ভারতে৷ বিষয়টি চরম বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে৷ ইরানের প্যারাফিনে তৈরি মোমবাতি ডিজেল ইঞ্জিনের মতোই দূষণ ছড়ায়৷ মোমবাতি তৈরির জন্য প্যারাফিনকে সালফিউরিক অ্যাসিডে ‘ব্লিচ’ করা হয়৷ ওই বিষাক্ত মোমবাতি জ্বললেই বাতাসের সংস্পর্শে এসে তা সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড তৈরি করে৷ যা ফুসফুসে গেলে ক্ষতি অবশ্যম্ভাবী৷ বন্ধ ঘরে এই মোমবাতি জ্বালিয়ে টানা কয়েকদিন থাকলেই হাঁফানি বাঁধা৷ এমনকী ক্যানসারও বাসা বাঁধছে ফুসফুসে৷

সম্প্রতি সুন্দরবনে সমীক্ষা চালিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে কলকাতার একটি সংস্থার হাতে৷ জানা গিয়েছে, কোন্নগরে ব্যান্ডেল, উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন অংশে এই বিষাক্ত প্যারাফিন থেকে মোমবাতি তৈরি হচ্ছে৷ আর তা ছড়িয়ে পড়ছে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে৷ বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটি জনস্বাস্থ্য মামলা দায়ের করার পথে হাঁটতে শুরু করেছে৷

রাজ্যের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যাণ কল্যাণ রুদ্র এই খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷ বলেন, “এই মোমবাতি তৈরির কারখানাগুলি  পর্ষদের অনুমোদন না নিয়েই হয়েছে৷ তাই আমাদের কাছে কোনও তথ্যপঞ্জি নেই৷ পুলিশ বা পুরসভার এগুলি অবিলম্বে দেখা উচিত৷ তবে, স্থানীয়ভাবে কেউ অভিযোগ করলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব৷”

ভারত চার রকমের প্যারাফিন আমদানি করে৷ খাবারের মোড়ক বা প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত প্যারাফিন হল ‘১’ নম্বর ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত৷ এই ধরনের প্যারাফিনে তেলের পরিমাণ ০.৫ শতাংশ অতিক্রম করবে না, এমনটাই নিয়ম৷ মোমবাতি তৈরির প্যারাফিনে (ক্যাটাগরি-২এ) তেলের সর্বোচচ মাত্রা ১.৫ শতাংশ বেঁধে দেওয়া হয়েছে৷ একমাত্র দেশলাই তৈরির ক্ষেত্রে 3.৫ শতাংশ তেলযুক্ত প্যারাফিন (ক্যাটাগরি-3) ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে৷ কিন্তু, একাধিক সংস্থা বেশি মুনাফার আশায় তিন নম্বরি প্যারাফিন দিয়ে মোমবাতি তৈরি করছে৷

এমনকী প্রসাধনী ও খাবারের মোড়ক তৈরিতেও ব্যবহার করছে৷ ২০১৩-১৪-তে ৬৫৪০ মেট্রিক টন প্যারাফিন ভারতে রফতানি করেছে ইরান-সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি৷ ইরানের মোট রফতানির আবার ৮৩.২ শতাংশই এসেছে ভারতে৷ এই ‘নন-হাইড্রোজেনেটেড’ ক্যানসারবাহী প্যারাফিনের ১২.৭ শতাংশ আবার খাবারের মোড়ক ও প্রসাধনী সামগ্রী প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়৷  ‘ইন্ডিয়ান অয়েল’, ‘চেন্নাই পেট্রোলিয়াম’-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত প্যারাফিন প্রস্তুতকারী সংস্থার আর্থিক স্বাস্থ্যহানিও ঘটাচ্ছে এই প্যারাফিন৷ ইরান থেকে সস্তায় প্যারাফিন পেয়ে যাওয়ায় কেউ আর দেশীয় ‘ফুললি রিফাইনড প্যারাফিন’কিনতে চাইছে না৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে