BREAKING NEWS

০২ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৯  মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

বাবার দেহ সৎকারে কেন ভিন্ ধর্মের যুবক? তরুণীকে পিটিয়ে মাথা মোড়াল মাতব্বররা

Published by: Kumaresh Halder |    Posted: September 22, 2018 2:47 pm|    Updated: September 22, 2018 2:47 pm

The young women beat and Mollast in Hooghly

দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: বাবার দেহ সৎকার করতে ভিন্ ধর্মের যুবকদের সহযোগিতা চাওয়ায় মেয়ের মাথা মুড়িয়ে ‘শাস্তি’ দেওয়ার অভিযোগ পাড়ার মাতব্বরদের বিরুদ্ধে৷ মাস ছ’য়েক আগে ঘটনাটি ঘটলেও এখনও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে চুঁচুড়ার মতিঝিল এলাকায় নির্যাতিতা পরিবার৷ ঘটনার পর থেকে টানা ছ’মাস গৃহবন্দি থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে বেরানোর ‘অপরাধে’ ফের ওই তরুণীকে মারধর করার অভিযোগ পাড়ার মাতব্বর বিরুদ্ধে৷ পুলিশকে জানিয়েও কোনও ফল হয়নি৷ শেষ পর্যন্ত সুবিচার চেয়ে আক্রান্ত ওই তরুণী স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের দ্বারস্থ হলেন৷

[বাসের ধাক্কায় মৃত কিশোর, পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধে উত্তপ্ত সরিষা]

আক্রান্ত বছর ৩৮-এর ওই তরুণী চুঁচুড়ার মতিঝিল এলাকায় বিধবা মাকে নিয়ে থাকেন৷ বাবা করুণাময় হাটি ডানলপ কারখানার শ্রমিক ছিলেন৷ গত ছ’মাস আগে তাঁর মৃত্যু হয়৷ প্রতিবেশীরা কেউ এগিয়ে না আসায় ভিন্ ধর্মের কিছু যুবক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়৷ স্থানীয় ভিন্ ধর্মের যুবকরাই মৃত ওই ব্যক্তিকে শ্মশানঘাটে নিয়ে যান৷ সৎকারের কাজেও হাত লাগান তাঁরা৷ নির্যাতিতার অভিযোগ, ‘‘কেন বাবার সৎকারে ওই ভিন্ ধর্মের ছেলেরা গিয়েছিলেন, এই প্রশ্ন তুলে আমার মাথা মুড়িয়ে, রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে৷ পাড়ার মোড়ে এই ঘটনা ঘটলেও প্রতিবাদ করেননি কেউ৷’’ অভিযোগ, চুঁচুড়া থানয় অভিযোগ দায়ের করার পরও পুলিশ তাঁর নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি৷ স্থানীয় কাউন্সিলারকে জানিয়েও কোনেও ফল হয়নি৷ কাঁদতে কাঁদতে ওই তরুণী বলেন, ‘‘ঘরে খাবার কিছু ছিল না৷ বৃদ্ধা মা অসুস্থ৷ তাই প্রায় দু’মাস গৃহবন্দি হয়ে থাকার পর ফের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরনোর চেষ্টা করি৷ কিন্তু, পাড়ার মাতব্বরদের সেটা সহ্য হয়নি৷ রাস্তায় বেরতেই ফের আমাকে মারধর করা হয়৷’’ বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে অত্যাচারের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যাবে বলেও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়৷

[ইসলামপুর কাণ্ডে মৃত ছাত্রদের দেহ নদীর চরে পুঁতে আন্দোলনে গ্রামবাসীরা]

নির্যাতিতার মা জানান, ভিন্ ধর্মের ছেলেরা তাঁর স্বামীর সৎকারের কাজে হাত লাগিয়েছিল, এই অভিযোগ তুলে তাঁদের বাড়িটা হাতিয়ে নেওয়ারও পরিকল্পনা করা হয়৷ যেহেতু বাড়িতে কোনও এই মুহূর্তে কোনও পুরুষ সদস্য নেই, তাই পাড়ার এই মাতব্বররা তাঁদের জীবনযাপনে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে৷ দিনে দিনে অত্যাচারের সীমা বাড়তে থাকায় বিধায়ক অসিত মজুমদারের দ্বারস্থ হন তিনি৷ এ বিষয়ে অসিত মজুমদার জানান, নির্যাতিতা তাঁর কাছে এসেছিলেন৷ তিনি স্থানীয় কাউন্সিলার ও পুলিশকে বিষয়টি দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন৷ বিধায়কের আশ্বাস পেয়ে পুজোর আগে খুশি নির্যাতিতার পরিবার৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে