Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Bengal SIR Draft Voter List

বিজেপির আশ্বাসই সার! খসড়া ভোটার তালিকায় বাদ হাজার হাজার মতুয়ার নাম

ফের একবার উদ্বাস্তু হতে হবে? প্রশ্ন মতুয়াদের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫, ১৯:৩৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫, ১৯:৩৭

options
link
বিজেপির আশ্বাসই সার! খসড়া ভোটার তালিকায় বাদ হাজার হাজার মতুয়ার নাম zoom
প্রত্যাশিতভাবেই মঙ্গলবার সকালে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

জ্যোতি চক্রবর্তী, বনগাঁ: এসআইআরে (SIR in Bengal) কারও নাম বাদ যাবে না। বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন মতুয়া গড়ে দাঁড়িয়ে জোর গলায় আশ্বাস দিয়েছিল স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু খসড়া তালিকা প্রকাশের পরেই দেখা গেল বিজেপির সেই প্রতিশ্রুতি আদতে ভাঁওতাই! মঙ্গলবার সকালে খসড়া ভোটার তালিকা (Bengal SIR Draft Voter List) প্রকাশ্যে আসতেই দেখা গেল মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ মহকুমায় প্রায় ৮৬ হাজার লোকের নাম নেই! এঁদের মধ্যে অনেকেই মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষ রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এই তথ্য সামনে আসায় আতঙ্কে সেখানকার ভোটাররা। সেই সঙ্গে ‘মিথ্যে প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে রীতিমতো চাপে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও।

এদিন নির্বাচন কমিশনের তরফে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হতেই বিজেপিকে একহাত নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলছিলাম এসআইআরের মাধ্যমে মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষদের বিতাড়িত করার চক্রান্ত করছে বিজেপি। সেটা এবার প্রমাণিত হল।’

Advertisement

বনগাঁ মহকুমায় চারটি বিধানসভা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা এবং বাগদা৷ প্রকাশিত খসড়া তালিকায় দেখা যাচ্ছে, চারটি বিধানসভা মিলিয়ে ৮৬ হাজার ১৭৫ জনের নাম বাদ গিয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে মৃত ভোটার স্থানান্তরিত ভোটার, অন্যান্য ভোটার ও অস্তিত্বহীন ভোটার৷ বনগাঁ মহকুমার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাদ গিয়েছে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রে থেকে ৷ এখানে ২৬ হাজারের বেশি মানুষের নাম খসড়া তালিকাই নেই৷ এরপরেই রয়েছে বাগদা কেন্দ্র বাদ গিয়েছে ২৪ হাজার ৯২৭ জনের নাম৷ এছাড়া গাইঘাটা থেকে ১৬ হাজার ৬৪২ এবং বনগাঁ দক্ষিণ থেকে ১৮ হাজার ৫৬৩ জনার নাম বাদ গিয়েছে৷

খসড়া তালিকা প্রকাশের পরেই মতুয়া ঠাকুর বাড়িতে যান বংশীবদন বিশ্বাস নামে এক মতুয়াভক্ত৷ তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। স্বভাবতই একরাশ চিন্তা গ্রাস করেছে বংশীবদনকে। তিনি বলেন, ”এখন কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না ৷ সিএএতে আবেদন করেছি নাগরিকত্ব না পেলে হয়তো ডিটেনশন ক্যাম্পেই আমার স্থায়ী ঠিকানা হবে৷” তাঁর মতোই অবস্থা বাগদার রংঘাট এলাকার বাসিন্দা রমেন মণ্ডলের। তিনি বলেন, ”আমি ওপার বাংলা থেকে এসেছিলাম৷ আমার নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।” ফের একবার উদ্বাস্তু হতে হবে? প্রশ্ন রমেনবাবুর। বাগদার রানিহাটি গ্রামের চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ”১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ থেকে এখানে এসেছি৷ ছেলে মেয়ে বউ সকলে মিলে এখানেই রয়েছি৷ আমাদের নাম শুনেছি খসড়া তালিকায় নেই৷ সিএএ’তে ফর্ম ফিলাপ করেছি৷ যদি নাগরিকত্ব না পাই তাহলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাব জানি না।”

মতুয়া ঠাকুরবাড়ি গাইঘাটা বিধানসভার মধ্যেই পড়ে। আর সেই কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক ঠাকুরবাড়ির ছেলে সুব্রত ঠাকুর৷ শতাংশের নিরিখেই ওই কেন্দ্র প্রায় ১৪.৫ শতাংশ নাম নেই খসড়া তালিকায়। এই বিষয়ে সুব্রত ঠাকুরের কোন প্রতিক্রিয়া না মিললেও গাইঘাটার বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তার বেশিরভাগটাই মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটার। কোন মতুয়া উদ্বাস্তু বাদ দিয়েছে কিনা তা আমরা খোঁজ খবর করে দেখছি। এই বিষয়ে বনগাঁর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, ”ভোটার তালিকায় যাদের নাম বাদ গিয়েছে তারা অস্তিত্বহীন মৃত ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারী৷” তবে মতুয়াদের নাম বাদ গিয়েছে কিনা সেটা না দেখে কোন মন্তব্য করতে পারবেন না বলেই জানান বিজেপি নেতা।

অন্যদিকে বিষয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, ”আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে চক্রান্ত করে এসআইআর করে মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাম বাদ দেবে৷” তাঁর কথায়, ”আমাদের সেই আশঙ্কায় সত্যি হতে চলেছে ৷ এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ আন্দোলন আমরা দিল্লিতে নিয়ে যাব।” পাশাপাশি সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী মঙ্গলবার মতুয়া ঠাকুরবাড়ি গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, ”মতুয়াদের নাম যদি ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়, তার উত্তর তাদেরকেই দিতে হবে যারা মতুয়াদের ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন ৷ প্রয়োজনে আমরা আদালতে যাব।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.