সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: প্রাণে বাঁচতে চাইলে ২০ লক্ষ টাকা দিতে হবে! পুরুলিয়ার (Purulia) জঙ্গলমহল ঝালদার ইচাগ গ্রামে এরকম একাধিক পোস্টার সাঁটিয়ে বাঘমুন্ডির প্রাক্তন বিধায়ক তথা পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতোকে (Nepal Mahato) হুমকি দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে এমনই একাধিক পোস্টার (Poster) নজরে আসে এলাকার মানুষজনের। তারপর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে সেগুলি উদ্ধার করে। ওই পোস্টারে লেখা রয়েছে, ওই টাকা না মিললে যখন তিনি দলীয় সভা করবেন, তখন গুলি করে মারা হবে সবার সামনে! পোস্টার এও লেখা, গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে ঝালদা পুরসভার তৎকালীন কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুকে যেভাবে খুন করা হয়েছিল, তেমনভাবেই গুলি করা হবে। এহেন পোস্টার ঘিরে ঝালদা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। আর ওই পোস্টারের তলায় একাধিকজনের নাম এবং ফোন নম্বরও রয়েছে। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে।”

পোস্টারে টাকা দাবি করে সময়সীমাও দেওয়া হয়েছে। তবে পোস্টারের বিষয় ঘিরে নানান বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তবে এই বিষয়গুলোকে একেবারে হালকাভাবে দেখছে না পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। যেভাবে কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর (Tapan Kandu)হত্যাকাণ্ড তুলে ধরে সেভাবেই খুন করার হুমকি দেওয়া হয়েছে তাতে ঝালদার রাজনৈতিক মহল রীতিমতো হতবাক। প্রাক্তন বিধায়ক তথা জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো জানান, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। নিহত কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর স্ত্রী তথা ঝালদার উপ-পুরপ্রধান পূর্ণিমা কান্দু বলেন, ”বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”
[আরও পড়ুন: ‘ইডিকে বলুন, মোদিকে নিশানা করে লাভ নেই’, রুজিরা ইস্যুতে অভিষেককে তোপ সিদ্ধার্থনাথের]
সাদা কাগজে কালো কালিতে লেখা ওই পোস্টারে একাধিক ভুল রয়েছে। পোস্টারের শিরোনামে লেখা আছে, নেপাল মাহাতো এমএলএ। তারপরে গ্রামের নাম ‘ইছাগ।’ বর্তমানে প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতো এখন জেলা কংগ্রেস সভাপতি। সেই সঙ্গে গ্রামের নামের বানানেও ভুল। পোস্টারে রয়েছে, “তপন কান্দুকে আমি ও আমার জামাইদা গুলি করেছি। পুলিশ আমাদের হাতে ছিল তাই কোন হলো না। আমাদের অনেক টাকার দরকার আছে। হেঁসলা শিব মন্দিরের পাশে আনে দিবেন। নাইলে আপনার পরিবারকেও জীবিত থাকবেন নাই। তপন কান্দুকে আমরা টাকা চেয়েছিলাম। যখন না বলল তখন আমরা গুলি করি। ১৫ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে আপনাকে আমি গুলি করবো। আমার জানা আছে আপনার পরিবার কোথায় কোথায় থাকে।” সেইসঙ্গে পোস্টারের শেষে লেখা আছে, “আমাদের সাত দিনের মধ্যে টাকা না দিলে গুলি করতে আসবো। চিঠিটা নেপালকে দিবেন যে পাবেন।”
[আরও পড়ুন: ৭.২ শতাংশ নয়, ভারতের GDP বৃদ্ধির হার ৪ শতাংশেরও কম! কেন্দ্রের দাবি খণ্ডন স্বামীর]
পোস্টারের এহেন বয়ান দেখে রীতিমতো তাজ্জব ঝালদার মানুষজন। ২০২২ সালের ১৩ই মার্চ ঝালদা-বাঘমুন্ডি সড়কপথে গোকুলনগর গ্রামের কাছে বিকালে হাঁটতে বার হয়ে খুন হয়ে গিয়েছিলেন ঝালদা পুর শহরের দু’নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু। এই ঘটনার তদন্তভার ছিল সিবিআই-র হাতে। ওই ঘটনায় একাধিক জন গ্রেফতার হন। এই মামলা এখন আদালতে বিচারাধীন।
সর্বশেষ খবর
-
জমি দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ! পুলিশের জালে তৃণমূলের আরও এক প্রাক্তন বিধায়ক
-
যুদ্ধের ধাক্কায় বেসামাল, ফুরিয়ে এসেছে অস্ত্র! এবার হার মানবে ইরান?
-
নবদ্বীপের ‘ত্রিপলচোর’ তৃণমূল চেয়ারম্যানের মামলাই লড়লেন না আইনজীবীরা! এজলাসের বাইরে ‘চোর’ স্লোগান, পড়ল ডিম
-
৬ ঘণ্টায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি! রেলমন্ত্রীর বুলেট ট্রেন ঘোষণায় খুশির হাওয়া উত্তরে
-
রক্তারক্তি কাণ্ড! হাসপাতালে অশোক ভট্টাচার্য, কেমন আছেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা?