টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: পিছনে বসে বাস ভর্তি যাত্রী। আর চালক এক হাতে বাসের ‘স্টিয়ারিং’ অন্য হাতে কানে ‘মোবাইল’ ধরে অনর্গল কথা বলতেই বলতেই সাঁ সাঁ করে ছুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন যাত্রীবাহী বাস। বেপরোয়া গাড়ি চালকদের এহেন কীর্তি কলাপ দেখলেই পুলিশে খবর দিতে বলছেন বাঁকুড়া জেলা পুলিশ।
গত সপ্তাহেই মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদে এক বাস চালকের এই বেপরোয়া আচরণের কারণে সেতু ভেঙে যাত্রীবোঝাই বাস নিয়ে খালে পড়ে সলিল সমাধি হয়েছে ৪৩ জনের। এই দুর্ঘটনার পর প্রমাণ মেলে ভোরের ঘন কুয়াশায় ঢাকা রাস্তায় যাত্রীদের নিয়ে বাস চালাতে চালাতেই মোবাইলে কথা বলছিলেন ওই বাসের চালক।
[হরিণ মেরে পিকনিকের আয়োজন, বনকর্মীদের তৎপরতায় ভেস্তে গেল ভোজ]
ইতিমধ্যেই দ্রুত গতিতে ছুটে চলা গাড়িতে নিয়ন্ত্রণ আনতে বাঁকুড়ার রাস্তা গুলিতে গাড়ির গতিবেগ বেঁধে দিয়েছেন বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। সেই গতিবেগ কোথায় কত দেখে নেওয়া যাক। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,
- রানিগঞ্জ-বাঁকুড়া ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর হেভির মোড় এলাকায় গাড়ির গতিবেগ রাখতে হবে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার।
- ওই একই রাস্তায় জনবহুল ধলডাঙা এলাকায় ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার।
- বাঁকুড়া-পুরুলিয়া ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার।
- জাতীয় সড়কের পোয়াবাগান এবং লালবাজার মোড়, ফিডার রোডে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার।
গতির উপর নজরদারির জন্য শুরু হয়েছে রাস্তায় রাস্তায় পুলিশের টহলদারি। পুলিশের একাংশ জানাচ্ছেন,ল কানে ফোনে নিয়ে গাড়ি চালানো রুখতে বেপরোয়া গাড়ি চালকদের জরিমানা নেওয়া হবে বলে জানাচ্ছেন জেলার পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরা। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য শহর জুড়ে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরার নজরদারি।
[সবার ভাল চাইত ছেলে, শহিদ জওয়ানের স্মৃতিতে শ্মশানে প্রতিক্ষালয় গড়ছেন বাবা]
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এ জেলার উপর দিয়ে যাওয়া জাতীয় সড়ক এবং রাজ্য সড়কগুলি নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সমস্ত রাস্তা দিয়েই একাধিক দূরপাল্লার ট্রাক, বাস যাতায়াত করে দিনভর। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কগুলির উপর দিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে চলা বাস, ট্রাকের চালকদের বেশির ভাগ সময়েই দেখা যায় স্টিয়ারিংয়ে হাত না দিয়েই গাড়ি ছোটাচ্ছেন চালকরা। তাদের প্রশ্ন এই সমস্ত রাস্তাগুলিতে ফোনে কথা বলতে বলতে স্টিয়ারিংয়ে হাত না দিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটিয়ে নিয়ে যাওয়া গাড়ির চলকদের উপর কিভাবে নজরদারি চালনো হবে? এই বেপরোয়া চালকদের শায়েস্তা করতে পুলিশের নিদান, গাড়ি চালাতে চালাতে চালককে ফোনে কথা বলতে দেখলেই নাগরিকরা সরাসরি তাঁদের কাছে অভিযোগ জানান। ট্রাফিক পুলিশের তরফে এজেলার নাগরিকদের কাছে আবেদন করা হচ্ছে গাড়ি চালাতে চালাতে চালকদের ফোনে কথা বলার বিরুদ্ধে সাধারণ যাত্রীরাও যাতে এগিয়ে আসেন। জেলাশাসক মৌমিতা বসু গোদার বলছেন ‘আইন ভাঙলে আমরা বরদাস্ত করবো না। তবে সাধারণ মানুষকে আগে সচেতন হতে হবে তবেই সমস্যা মিটবে।’ জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাঁকুড়া জেলা বাস মালিক সমিতির সম্পাদক অঞ্জন মিত্র। তাঁর কথায়, ‘নিয়ম মানলেই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।’
[কুকুরের তাড়া খেয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু, হনুমানের জন্য শোকমিছিল]
সর্বশেষ খবর
-
শ্যামাপ্রসাদের আত্মত্যাগ স্মরণ মোদি-শুভেন্দুর, ইকো পার্কে দিলীপ, মুরলীধর সেন লেনে শ্রদ্ধা শমীকের
-
বিক্ষোভকারীদের উপর ফের গুলিবৃষ্টি, পাক সেনার বর্বরতায় লাশ গুনছে অধিকৃত কাশ্মীর
-
কেন ভিনির বদলে পেনাল্টি নিলেন ব্রুনো? সমালোচনার মাঝে মুখ খুললেন ব্রাজিল কোচ
-
১২৫ ফুট মূর্তির শিলান্যাস-সহ একাধিক কর্মসূচি, শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী পালনে শহরে শাহ
-
‘শুধু আমেরিকা কেন, ভারতও আমাদের ভালো বন্ধু’, ভ্যান্সের দাবি উড়িয়ে বার্তা নেতানিয়াহুর