চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: হিন্দিভাষী অধ্যুষিত আসানসোলের মন পেতে অভিনব প্রচার কৌশল শাসকদলের৷ তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেনের নির্বাচনী প্রচারসভা মাতালেন বিখ্যাত ভোজপুরী গায়ক ছ্যায়লা বিহারী৷ তাঁর গলায় ভোজপুরী সংগীতের রোল উঠতেই, তালে তালে কোমর দোলালেন আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন৷ যা দেখে এককথায় আপ্লুত শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা৷ হাততালি ও উল্লাসে ফেটে পড়লেন তাঁরা৷
[ আরও পড়ুন: তৃণমূলের জামানত বাজেয়াপ্তো হবে, কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে হুঙ্কার অধীরের ]
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই ভাবেই আসানসোল উত্তর ধাদক এলাকায় প্রচার সারলেন তৃণমূলের মুনমুন সেন৷ তাঁর প্রতিপক্ষ বিজেপির প্রার্থী তথা এলাকার বিদায়ী সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়৷ এবার লড়াইটা আরও কঠিন, তা ভাল ভাবেই জানেন বাঁকুড়ার বিদায়ী সাংসদ তথা টলিউডের এই অভিনেত্রী৷ সেকারণেই প্রচারে কোনও খামতি রাখছেন না তিনি৷ একাধিক জনজাতি, ভাষাভাষীর মানুষের বাস আসালসোলে৷ সেজন্যই এলাকাভিত্তিক প্রচারের ভিন্ন ভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে তৃণমূল নেতৃত্ব৷ বৃহস্পতিবার হিন্দিভাষী প্রবণ আসালসোল উত্তর এলাকার প্রচারে প্রধান আকর্ষণ হিসাবে রাখা হয় বিখ্যাত ভোজপুরী গায়ক ছ্যায়লা বিহারীকে৷ তিনি মঞ্চে উঠতেই আনন্দে মেতে ওঠেন সভায় উপস্থিত তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা৷ গান গাইতে গাইতে প্রার্থী মুনমুনকে তাঁর সঙ্গে তাল মেলানোর আহ্বান জানান ছ্যায়লা৷ সেই অনুরোধ ফেলতে পারেননি প্রার্থী৷ কয়েক সেকেন্ডের জন্য, কোমর দোলান তিনিও৷ হাততালিতে ভরে ওঠে সভা৷
[ আরও পড়ুন: পারিবারিক অশান্তির জেরে আত্মহত্যা! মহিলার দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য হিন্দমোটরে ]
কেবল প্রার্থী মুনমুন সেনই নন, গানের তালে তালে নাচতে থাকেন অনেকে৷ মঞ্চে উঠে নাচতে থাকেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ মিশ্র৷ কিন্তু নাচতে নাচতেই মঞ্চ থেকে পড়ে যান তিনি৷ সাময়িক বিপত্তি তৈরি হলেও, জলদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়৷ কেবল নিজের গান শোনানোই নয়, প্যারডি করে তৃণমূল প্রার্থীকে জেতানোরও অনুরোধ করতে শোনা যায় ভোজপুরী গায়ককে৷ মুনমুন সেন ছাড়াও এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক, তাঁর ভাই তথা মেয়র পারিষদ অভিজিৎ ঘটক, আসানসোল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান অমর চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ৷

“তুমি আসবে বলেই সোনালী স্বপ্ন ভিড় করে আসে চোখে। তুমি আসবে বলেই আগামী বলছে দেখতে আসবো তোকে”। শুক্রবার বিখ্যাত গানের লাইন দুটি বাস্তবরূপ দেখতে পেলেন আসানসোলবাসী। তিনি আসবেন তাই কর্পোরেট অফিসে চাকরিরত আজকের প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা গলায় কার্ড ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাস্তার ধারে। মুর্গাসোল এলাকায় অন্যদিন চারটের পর অফিস ছুটি হয়ে যায়। আজ তাঁরা দাঁড়িয়ে আছেন রাস্তার ধারে, বহুতল বিল্ডিং এর ছাদে, ব্যালকনিতে। একবার চোখের দেখা দেখবেন জননেত্রীকে। হাত মেলাবেন। সেলফি তুলবেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা নবরূপকার। তিনি স্বপ্ন দেখাতে পারেন। বাস্তবরূপ দিতে পারেন। সেই সোনালী স্বপ্নের রূপকার জননেত্রী মিশে গেলেন মানুষের সঙ্গে। স্বাধীনতার পর কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে আসানসোলের রাজপথে হাঁটতে দেখেননি কেউ। পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা তিনি হনহন করে হেঁটে গেলেন। মুখে হাসি একটুও বিরক্তি নেই। পাল্লা দিয়ে ছুটতে হিমশিম খাচ্ছেন পুলিশ কর্মীরাও। পিছিয়ে পড়ছেন তৃণমূল নেতারাও।
সর্বশেষ খবর
-
জিনিয়াস স্পোর্টস নয়, আইএসএল আয়োজনের অধিকার খুব সম্ভবত পেতে চলেছে ক্লাবগুলি
-
ফেডারেশনের বৈঠকে রণক্ষেত্র টলিপাড়া, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগানে ছোঁড়া হল ডিম
-
সমর্থকদের উপস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা, হোটেল আর ট্রেনিংয়ে ‘কারফিউ’ ব্রাজিলের
-
বন্ধুত্বের উপহার, প্রথমবার সংসদে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েও রাজ্যসভা আসন কংগ্রেসকে ছাড়লেন বিজয়
-
প্রাক বর্ষার বৃষ্টি উত্তরবঙ্গে, অস্বস্তির মাঝেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কলকাতা-সহ একাধিক জেলায়