২৯ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  সোমবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

রাজা দাস, বালুরঘাট: বালুরঘাট পুরসভায় বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর গঠন করে, সদস্য করা হল অর্পিতা ঘোষ ও শংকর চক্রবর্তীকে। প্রতিবাদে সরব বাম-বিজেপি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরসভাকে শাসকদল কুক্ষিগত করার কৌশল নিয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। শীঘ্রই আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত লাল ও গেরুয়া শিবিরের।

জানা গিয়েছে, গত বছর অক্টোবর অর্থাৎ আট মাস আগে বালুরঘাট পুরসভায় মেয়াদ শেষ হয়েছে তৃণমূল বোর্ডের। এই কমাস ধরে পুরসভা পরিচালনা করছিল প্রশাসক অর্থাৎ সদর মহকুমা শাসক। এরমধ্যে মঙ্গলবার একটি নির্দেশিকা জারি হয় রাজ্য আরবান ডেভলপমেন্ট এন্ড মিউনিসিপ্যাল অ্যাফেয়ার দপ্তর থেকে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট ১৯৯৩-এর ১৪ নম্বর ধারার উপধারা (৪) প্রয়োগ করে বালুরঘাট পুরসভায় বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর গঠন করা হল। সেই বোর্ডে থাকছেন সদর মহকুমা শাসক-সহ প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ এবং প্রাক্তন বিধায়ক শংকর চক্রবর্তী। তাঁরা যৌথভাবে এই পুরসভা পরিচালনা করবেন। এতেই প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে বিরোধী বাম এবং বিজেপি। তারা পৃথকভাবে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে এই নির্দেশিকার প্রতিবাদে। অর্পিতা ঘোষ এবং শংকর চক্রবর্তীকে সদস্য করা নিয়েই আপত্তি তুলেছে দুই বিরোধী দল।

বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার বলেন, তৃণমূল চারিদিকে ক্ষমতা হারাচ্ছে। আইনকে অপব্যবহার করে যা খুশি তাই করে যাচ্ছে। প্রথমত, তাদের অঙ্গুলি হেলনে প্রশাসক এই পুরসভা পরিচালনায় ব্যর্থ। আবার সেখানে বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর গঠন করে মেম্বার করা হল অর্পিতা ঘোষ এবং শংকর চক্রবর্তীকে। অথচ এই এলাকার মানুষ অর্পিতা ঘোষ এবং শংকর চক্রবর্তীকে ছুঁড়ে ফেলেছে। একজন লোকসভা আরেকজন বিধানসভা নির্বাচনে হেরেছেন। মানুষ না চাইলেও, এদেরকেই আবার নিয়ে এসে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই জায়গায় সাংসদ, বিধায়ক বা কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও সৌজন্য রক্ষা হত। পুরসভা নির্বাচন না করে ইচ্ছামতো সরকারের এই ভূমিকার প্রতিবাদ তাদের। এনিয়ে তারা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

[আরও পড়ুন: ‘পুলিশ-শাসকদল একসঙ্গে কাজ করেছে’, বনগাঁয় আস্থা ভোট ইস্যুতে মন্তব্য ক্ষুব্ধ বিচারপতির]

বালুরঘাট পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বামদল আরএসপির রাজ্যনেত্রী সুচেতা বিশ্বাস একই সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, সামান্য সৌজন্যবোধ নেই এই রাজ্য সরকারের। ইচ্ছামতো বলপ্রয়োগ করে কাজ করছে। আগে তৃণমূলের বোর্ড, পরে তৃণমূলের অঙ্গুলি হেলনে চলা প্রশাসকও ব্যর্থ এই পুরসভা চালাতে। পুরনির্বাচন না করে, অনৈতিকভাবে তৃণমূল জেলা সভাপতি ও প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি দুইজনকে দায়িত্ব দেওয়া হল পুরসভা পরিচালনার। এইভাবে বেশিদিন চলবে না। মানুষ প্রস্তুত হয়ে আছে। সময়মতো জবাব দেবে।

প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ বলেন, পুরসভার বোর্ড ভেঙে গেলে গঠন করা যায় বোর্ড অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। সেখানে তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেননা পুরসভার কাজ নিয়ে প্রচুর অভিযোগ আসছিল নাগরিকদের কাছ থেকে। সেইদিকে নজর রেখে এই সিদ্ধান্ত পুরদপ্তরের। তারা সকলে মিলে পরিকল্পনা করে শহরের উন্নয়ন কাজগুলি করবেন। এতে কে কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং