Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
SIR

খসড়ায় ‘মৃত’ দেখে নিজেই চলে যান শ্মশানে! চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার হিসেবে জীবন পেলেন তৃণমূল কাউন্সিলর

এসআইআরের খসড়া তালিকায় তাঁকে মৃত বলে দেখা গিয়েছিল! তিনি এলাকার জনপ্রতিনিধি। খোদ জনপ্রতিনিধি জীবিত মানুষকে 'কাগজে' মৃত বানিয়ে দেওয়ায় জোর শোরগোল পড়েছিল। শুধু তাই নয়, সেই কথা জানার পরেই তিনি সটান চলে গিয়েছিলেন শ্মশানে!

Advertisement
সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: মার্চ ১, ২০২৬, ১৬:৫৫

link
সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: মার্চ ১, ২০২৬, ১৬:৫৫

options
link
খসড়ায় ‘মৃত’ দেখে নিজেই চলে যান শ্মশানে! চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার হিসেবে জীবন পেলেন তৃণমূল কাউন্সিলর zoom
ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে তাঁর।

এসআইআরের খসড়া তালিকায় তাঁকে মৃত বলে দেখা গিয়েছিল! তিনি এলাকার জনপ্রতিনিধি। খোদ জনপ্রতিনিধি জীবিত মানুষকে ‘কাগজে’ মৃত বানিয়ে দেওয়ায় জোর শোরগোল পড়েছিল। শুধু তাই নয়, সেই কথা জানার পরেই তিনি সটান চলে গিয়েছিলেন শ্মশানে! তাঁকে যেন শ্মশানের চুল্লিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, নির্বাচন কমিশনকে সেই বিষয়ে আবেদনও করেছিলেন তিনি।

হুগলির ডানকুনি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর সূর্য দে-র এই আচরণে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল এলাকায়। এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকল তাঁর। চূড়ান্ত তালিকায় ফের নতুন করে জীবন পেলেন সূর্য। নতুন ভোটার হিসেবে তাঁর নাম উঠেছে বলে খবর। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ দিলেন সূর্য।

Advertisement

অভিযোগ উঠেছিল, ওই বুথে ২০ জন জীবিতকে ‘মৃত’ বলে নাম প্রকাশ করেছিল কমিশন। প্রতিবাদস্বরূপ, সূর্য নিজেই সদলবলে চলে গিয়েছিলেন শ্মশানে। কমিশনের কাছে আবদন করেছিলেন, তাঁকে যেন শ্মশানের চুল্লিতে ঢুকিয়ে দাহ করা হয়!

ডানকুনি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সূর্য দে। এসআইআরের খসড়া তালিকা প্রকাশিত হলে দেখা যায়, তিনি মৃত! তালিকা দেখেই  প্রবল ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, নিয়ম মেনেই এনুমারেশন ফর্মপূরণ করেছিলেন। বিএলওর কাছে কাগজপত্র জমাও দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর নাম মৃতের তালিকায় রেখেছে নির্বাচন কমিশন! শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছিল, ওই বুথে ২০ জন জীবিতকে ‘মৃত’ বলে নাম প্রকাশ করেছিল কমিশন। প্রতিবাদস্বরূপ, সূর্য নিজেই সদলবলে চলে গিয়েছিলেন শ্মশানে। কমিশনের কাছে আবদন করেছিলেন, তাঁকে যেন শ্মশানের চুল্লিতে ঢুকিয়ে দাহ করা হয়!

শুধু তাই নয়, নিজের শ্রাদ্ধের আয়োজন করেছিলেন ওই কাউন্সিলর। প্রতীকী হিসেবে এলাকায় শোকসভার আয়োজনও করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত হয়ে সূর্যকে পাশে নিয়ে এলাকার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন। ঘটনায় যথেষ্ঠ শোরগোল ছড়িয়েছিল এলাকায়। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে রাজ্যের সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল নিজে রিপোর্ট চেয়েছিলেন। ঘটনার রেশ আরও বহুদূর যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। সেই দলে ছিলেন সূর্যও। 

তিনি বলেন, “বিজেপি আর নির্বাচন কমিশন ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে লড়াই চলছে, সেজন্য আমার নাম উঠেছে।”

গতকাল, শনিবার রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। দেখা যায়, এই তালিকায় নাম আছে সূর্যের। নতুন করে জীবন ফিরে পেলেন তিনি। এই বিষয়ে তৃণমূল কাউন্সিলর বলেন, “বিজেপি আর নির্বাচন কমিশন ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে লড়াই চলছে, সেজন্য আমার নাম উঠেছে।” তিনই আরও বলেন, “মৃতদের তালিকায় নাম আসার পর ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছিলাম। নতুন ভোটার হিসাবে নাম উঠল।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.