BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

লালবাতির গাড়ি নিয়ে বিশ্বভারতীতে ‘তাণ্ডব’ তৃণমূল সাংসদের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 14, 2016 11:03 am|    Updated: June 14, 2016 11:03 am

An Images

ভাস্কর মুখোপাধ্যায়:  চাকরি ফেরতের দাবিতে লালবাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে প্রধান দরজা বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখিয়ে নজিরবিহীন ঘটনা ও বিতর্কে সোমবার জড়িয়ে পড়লেন বোলপুরের তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরা৷ বিশ্বভারতীর নিরাপত্তা আধিকারিকদের অভিযোগ, প্রথমত, তিনি বেআইনিভাবে ‘হুমকি দিয়ে’ চাকরি ফেরতের নামে রবি ঠাকুরের প্রতিষ্ঠানে অশান্তি সৃষ্টি করছেন৷ দ্বিতীয়ত, একজন সাংসদ হয়ে গাড়িতে ‘গভঃ অফ ইন্ডিয়া’ লিখে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে লালবাতি লাগিয়ে ঘুরছেন৷ আইনের রক্ষক হয়ে এমন ঘটনা বিশ্বভারতীর একজন প্রাক্তন অধ্যাপক ঘটিয়েছেন জেনে লজ্জিত শান্তিনিকেতনের প্রাক্তন আশ্রমিকরাও৷ দলের অনুমোদন ছাড়া এমন আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অনুপম জড়িয়ে পড়ায় যথেষ্ট বিব্রত এবং অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব৷ কারণ, দলের অনুমতি ছাড়া এভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ দেখানোর কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেয়নি তৃণমূল৷ স্বয়ং বীরভূম জেলাসভাপতি অনুব্রত মণ্ডল দলের সাংসদের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন৷ বলেছেন, ‘দল কখনওই এই কর্মসূচি ও গাড়িতে বেআইনিভাবে লালবাতি ব্যবহার অনুমোদন করে না৷’

অসম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লিয়েন নিয়ে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর একবছরের জন্য সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দেন অনুপম৷ ২০১৪ সালের মে মাসের তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ হন বোলপুর কেন্দ্র থেকে৷ ওইবছর ৩১ মে একবছরের ছুটির জন্য আবেদন করেন বিশ্বভারতীতে৷ ছুটি শেষ হতে কাজে যোগ দিতে বললে নিয়ম না মানায় অনুপমকে বরখাস্ত করে বিশ্বভারতী৷ ইতিমধ্যে সাংসদ অসম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের লিয়েনের জন্য আবেদন করেছেন৷ দিন কয়েক আগে অনুপমের বাবা দেবনাথ হাজরা ছেলের চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে উপাচার্যের অফিসে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন৷ সোমবার বেলা বারোটা নাগাদ একটি লালবাতি লাগানো গাড়িতে চেপে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় অফিসে ঢুকতে চান অনুপম৷ কিন্তু আগে থেকেই অফিসে ঢোকার দুটি গেটই বন্ধ করে দিয়েছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা৷ কারণ, সংবাদমাধ্যম মারফত কর্তৃপক্ষ জেনে গিয়ে ছিল ভিতরে ঢুকে ধর্নায় বসবেন বোলপুরের সাংসদ৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই আগেভাগে ব্যবস্থা নিয়েছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ৷

বাধ্য হয়ে অনুপম একটি গেটে নিজের লালবাতি লাগানো গাড়ি দিয়ে আটকে দেন৷ অন্য দরজায় রাজ্য সরকারের তরফে পাওয়া দুই নিরাপত্তারক্ষীকে পাহারা দিতে নির্দেশ দেন তিনি৷ সাংসদের নির্দেশ পেয়ে দুই নিরাপত্তারক্ষী গেট দিয়ে কাউকে ঢুকতে ও বাইরে আসতে দেননি বলে অভিযোগ৷ আর অন্য একটি দরজায় সাংসদ নিজে বসে একাই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন৷ মাঝেমধ্যে দলের প্রথম সারির একাধিক শীর্ষনেতাকে ফোন করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেন৷ কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন বিক্ষোভ যে দল অনুমোদন করে না তা এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বীরভূম জেলার সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল৷ উল্লেখ্য, দলের অনুমতি ছাড়া কলেজে ঢুকে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় গ্রেফতার হতে হয়েছিল ডায়মন্ডহারবারের বিধায়ক দীপক হালদারকে৷ এদিন বিকেলে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য স্বপন দত্ত অনুপমকে ডেকে পাঠিয়ে আলোচনা শুরু করেন৷ কিন্তু মাঝপথে আলোচনা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে অফিসের মধ্যেই ফের অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন সাংসদ৷ রাত ৯টায় বিক্ষোভ উঠে যায়৷ ঠিক হয়েছে, আজ নিয়োগ সংক্রান্ত সাব-কমিটির সামনে অনুপমের বক্তব্য শোনা হবে৷ তবে, গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য স্বপন দত্ত জানিয়েছেন, “সাংসদের এমন আচরণে বহু শিক্ষকই ক্ষুব্ধ হয়েছেন৷ বিষয়টি জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে আমি জানিয়েছি৷ উনি আমাকে না জানিয়ে এসেছিলেন৷”

অনুপমকে ঘিরে গত দু’বছর ধরে যথেষ্ট বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে বীরভূম জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে৷ পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে নিজের কেন্দ্রের কোথাও কোনও সভায় তাঁকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ৷ অন্যদিকে, বিশ্বভারতীতে গায়ের জোরে চাকরি করতে চাইছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্বভারতীর শিক্ষকরাও৷ গত ৪ জুন ফেসবুকে স্বয়ং অনুপম লিখেছিলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ হিসেবে লোকজন নিয়ে গিয়ে বিশ্বভারতীতে আমি ক্ষমতা দেখাতেই পারতাম৷’ কিন্তু, এদিন লালবাতি লাগানো গাড়ি দিয়ে বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠানের সদর দরজা আটকে দেওয়া এবং দেহরক্ষীদের ব্যক্তিগত-বিক্ষোভে ব্যবহারের পর অনুপমকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে৷  যদিও স্বয়ং অনুপম বলেছেন, “আমি সংসদের একটি স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক৷ তাই লালবাতি ব্যবহার করতে পারি৷ আর সাংসদেরা যেহেতু সরকার তৈরি করে তাই আমি ভারত সরকার লেখা স্টিকার গাড়িতে লাগাতেই পারি৷” বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ রামচন্দ্র ডোম জানিয়েছেন, “কোনও সাংসদই লালবাতি এবং ‘গভঃ অফ ইন্ডিয়া’ লেখা স্টিকার ব্যবহার করতে পারেন না৷”

(ছবি: রাজা ভকত)

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement