নন্দন দত্ত, সিউড়ি: দিলদারের খানের মৃত্যুর পিছনে ফের অভিযোগ উঠল কড়িধ্যা গ্রামের বিদায়ী পঞ্চায়েত প্রধান প্রবীর ধরের নাম। মঙ্গলবার বিকেলে বিদায়ী জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরি ও সিউড়ির বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায় দিলদারের বাড়ি যান। সেখানেই তাঁর মেয়েরা প্রবীরবাবুর নামে তাঁর বাবাকে অভিযোগ করেন। যদিও সভাধিপতি বিকাশবাবু দাবি করেন, পরিবারের মাথার ঠিক নেই। এই মৃত্যুর সঙ্গে বিজেপি যুক্ত। বহিরাগতদের এনে তারা তাদের তৃণমূল কর্মী দিলদার খানকে খুন করেছে। অন্যদিকে দিলদারের বাবা তহিদ খান সিউড়ি থানায় তাঁর ছেলেকে খুনের জন্য বিজেপি নেতা শ্যামসুন্দর গড়াইয়ের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, বহিরাগতদের নিয়ে এসে শ্যামসুন্দর তাঁর ছেলেকে খুন করেছে। উল্লেখ্য সোমবার বিজেপির হয়ে মনোনয়ন দিতে যাওয়ার পথে দিলদারের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হন ছোড়া গ্রামের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতা শ্যামসুন্দর গড়াই। তাঁকে সিউড়ি থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

[মনোনয়নে বাধা দেওয়ার মাশুল, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বিজেপির হামলা]
সোমবার সিউড়ি এক ব্লকে বিজেপির মিছিলে থাকা দিলদার খান গুলিবিদ্ধ হন। কিন্তু দিলদার কার সমর্থক সে নিয়ে মৃত্যুর পর থেকেই দড়ি টানাটানি শুরু হয়ে যায়। তবে প্রথম থেকেই দিলদারের বাবা তহিদ খান দাবি করেছিলেন, প্রবীর ধর তাঁর ছেলেকে খুন করার পিছনে মূল মদতদাতা। তাই এদিন দুপুরে দিলদারের বাড়িতে তৃণমূল নেতারা গেলেও সেই দলে প্রবীর ধর ছিলেন না। বরং প্রবীরবাবুর বিরোধী হিসাবে পরিচিত উজ্জ্বল সিংকে দেখা গিয়েছে। তবে উজ্জ্বলবাবু তার ছায়াসঙ্গী দিলদার খুন প্রসঙ্গে কোনও কথা বলেননি। তবে দিলদারের মৃত্যুর পর বিজেপির মিছিলে থাকা উজ্জ্বল সিং তৃণমূলের হয়ে শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন জমা দেন। এবং কড়িধ্যার প্রাক্তন প্রধান এদিন জানিয়ে দেন তিনিই কড়িধ্যা পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের দাবিদার। তবে দিলদারকে নিয়ে যাতে আর রাজনীতি বেশি দূর না গড়ায় তাই সোমবার রাতেই সিউড়িতে তৃণমূল ভবনে এনে তাঁকে শেষশ্রদ্ধা জানিয়ে রাতেই কবরস্থ করা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে কড়িধ্যা ভাটিপাড়া গ্রামে দিলদারের বাড়ির সামনে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তাঁর বাড়ির চারিদিকে তৃণমূলের দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। বিকাশ রায়চৌধুরি জানান, দিলদারের পরিবারের পাশে দল আছে। তাঁর মেয়েদের শিক্ষার ভার নেবে দল। স্থানীয় কর্মীদের দিলদারের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলেন, গণতন্ত্র লুটের মতো মৃত্যুকে লুট করে রাজনীতি করা হচ্ছে। দড়ি টানাটানি শেষ হলে তাঁরা দিলদারের বাড়ি যাবেন। কারন ত্রিপুরায় জয়ের পর, রাম নবমীর মিছিলে যে লোকটা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে তাকে বিজেপি ভুলতে পারে না।
[দুর্গাপুরে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬ দুষ্কৃতী, দেখুন ভিডিও]
ছবি: বাসুদেব ঘোষ
সর্বশেষ খবর
-
অগ্নিমিত্রার অনস্পট অ্যাকশন! আসানসোলে ফুটপাত দখল-অবৈধ পার্কিং রুখতে ধমক মন্ত্রীর, বাসে লাগালেন কাঁটা
-
লোহার সিন্দুকে সোনার গয়না রাখা ঘোর অশুভ! কারণ জানলে চমকে উঠবেন
-
আর্জেন্টিনা ম্যাচের রেফারিকে ক্লিনচিট! ঘুরিয়ে অভিযোগকারী মিশরকে তোপ ফিফার, শাস্তি পাবেন কোচ?
-
সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে সুখেন্দুশেখর-প্রকাশ চিক বরাইক-সুস্মিতা, ফের রাজ্যসভায়?
-
‘মুক্তোর মালা’য় ভারতকে ঘিরছে চিন! ‘সাগরমালা’য় পালটা চক্রব্যূহ ভারতের