Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১১ জুলাই ২০২৬

দলবিরোধী কাজের অভিযোগ, অভিষেকের নির্দেশে সরানো হল ঝালদার শহর সভাপতিকে

দলবিরোধী কাজ আর কোনভাবেই বরদাস্ত নয়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৬, ২০১৮, ২০:৩৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৬, ২০১৮, ২০:৩৩

options
link
দলবিরোধী কাজের অভিযোগ, অভিষেকের নির্দেশে সরানো হল ঝালদার শহর সভাপতিকে zoom

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: দলবিরোধী কাজ আর কোনভাবেই বরদাস্ত নয়। দলের সর্বভারতীয় যুব সভাপতি তথা দলের তরফে পুরুলিয়ার পর্যবেক্ষক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তার পর ঝালদা শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি দেবাশিষ সেনকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দিল দল। মঙ্গলবার রাতে ঝালদায় স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে দলের জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো এই সিদ্ধান্ত নেন। তৃণমূল পরিচালিত ঝালদা পুরসভায় পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে বারবার অনাস্থা আসায় দল এই সিদ্ধান্ত নিল। কারণ, গত এক বছরে এই পুরসভায় দু’দুবার অনাস্থা আনার পিছনে হাত ছিল দলেরই ঝালদা শহর সভাপতি দেবাশিষ সেনের। তাই দল তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে কড়া বার্তা দিল। সেইসঙ্গে এই অনাস্থার ঘটনায় আরও যে সকল দলের কাউন্সিলর জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দলের তরফে ইঙ্গিত মিলেছে।

তবে ওই শহর সভাপতির জায়গায় কাকে বসানো হবে তা এখনও চূড়ান্ত করেনি দল। তাই ওই শহরে তৃণমূলের কাজকর্ম আপাতত জেলা থেকেই দেখা হবে বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে। দলের জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “ঝালদা শহর সভাপতি কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঝালদা পুরসভায় অনাস্থা নিয়ে দলবিরোধী কাজ আমরা বরদাস্ত করব না।” পঞ্চায়েত ভোটে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় জেলার পাঁচ ব্লকের সভাপতিকেও সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দল। গত বছরের মত এবারও ঝালদা পুরসভায় কংগ্রেস, সিপিএম, ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শাসক দলের চার কাউন্সিলর-সহ মোট ন’জন সম্প্রতি পুরুলিয়ার ঝালদার তৃণমূল পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। এই অনাস্হার পর দলের জেলা নেতৃত্ব কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে। কারন বারবার তৃণমূল পরিচালিত ঝালদা পুরসভায় অনাস্থা এলেও দলের জেলা নেতৃত্ব কোন ব্যবস্থা নেয় নি। ফলে সম্প্রতি দলের গণসংগঠনগুলিও মুখ খুলেছিল। তাছাড়া শহর তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরা প্রকাশ্যেই সরব হন। গত বছর এই সময়ই পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা পড়েছিল। কিন্তু সেইসময় গোটা বিষয়টিতে দলের তরফে জেলার পর্যবেক্ষক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করে তাঁর প্রতিনিধি ঝালদায় পাঠানোয় ওই অনাস্থা আটকানো যায়। এবারও এই গোটা বিষয়টি তাঁর প্রতিনিধি দেখভাল করছিলেন। তবে শেষমেষ দলের নিয়ম-শৃঙ্খলায় পর্যবেক্ষকের কাছে কড়া বার্তা পাওয়ার পর দলের জেলা নেতৃত্ব ঝালদা শহর সভাপতিকে সরাল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এদিন ওই শহর সভাপতিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঝালদার পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়ালের কাছে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে আমি কিছু বলব না। তবে আমাকে দল যেভাবে নির্দেশ দেবে আমি তাই করব।” গতবার অনাস্থা আসায় এই শহর সভাপতিকে সতর্ক করেছিল দল। অভিযোগ, এই শহরে দলের সংগঠন না করতে পেরে তার ব্যর্থতা ঢাকতে বরাবর পুরসভাকে কাঠগড়ায় তুলতেন এই শহর সভাপতি। কিন্তু তারপরেও তিনি শিক্ষা নেননি। অভিযোগ, তিনি এই শহরে দল চালাতে গিয়ে বারেবারে গোষ্ঠী কলহে জড়ান। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে বারবার জেলায় এসে অভিযোগ করতেন। দল এটাকে একেবারেই ভাল চোখে নিত না। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নিতে পারত না। এবার দল কড়া হওয়ায় খুশি ওই শহরের সাধারণ কর্মীরা। এবার যারা অনাস্থা আনেন তাঁরা হলেন শাসকদলের আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা ঝালদা শহর তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি প্রদীপ কর্মকার, দু’নম্বর ওয়ার্ডের বাবি কান্দু, সাত নম্বর ওয়ার্ডের মিনু কর্মকার, তিন নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের উপপুরপ্রধান কাঞ্চন পাঠক। এছাড়া কংগ্রেসের এক নম্বর ওয়ার্ডের মহেন্দ্র কুমার রুংটা, চার নম্বর ওয়ার্ডের পিন্টু চন্দ্র, ন’নম্বর ওয়ার্ডের মধুসূদন কয়াল এবং সিপিএমের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মমতা কুইরি ও ফরওয়ার্ড ব্লকের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তপন কান্দু।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.