সুরজিৎ দেব, ডায়মন্ড হারবার: পঞ্চায়েত ভোট শেষের পরেও অব্যাহত অশান্তি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পূর্ব গ্রাম পঞ্চায়েতের অর্জনপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন জয়ী তৃণমূল প্রার্থী। গুলিকে জখম তৃণমূল নেতার এক প্রতিবেশী। তিনি ভরতি হাসপাতালে। তাঁর অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। কে বা কারা গুলি চালাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মগরাহাট থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে।
প্রায় প্রতিদিনের মতো নির্দিষ্ট সময়ে শুক্রবার রাতে মৈমুর ঘরামি নামে তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী বাইকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ওই বাইকে ছিলেন তাঁর ভাইও। অভিযোগ, বাড়ি থেকে মাত্র ১০ ফুট দূরে তাঁকে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী ধিরে ধরে। ওই তৃণমূলের জয়ী প্রার্থীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁকে কোপানো হয় বলেও অভিযোগ। মৈমুরের চিৎকার শুনে তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন শাহজাহান মোল্লা নামে আরেক প্রতিবেশী। তাঁকেও লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায় বলেই অভিযোগ।
[আরও পড়ুন: জারি ধরপাকড়, ডায়মন্ড হারবারে বাজেয়াপ্ত বিপুল পরিমাণ খোকা ইলিশ]
এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। জখমদের উদ্ধার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মৈমুরকে মৃত বলেই জানান চিকিৎসকরা। তবে শাহজাহানের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। কে বা কারা ওই তৃণমূলের জয়ী প্রার্থীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মোট ২৭টি আসনবিশিষ্ট মগরাহাট পূর্ব গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল পেয়েছে ১৩টি আসন। সিপিএম এবং বিজেপি ৬টি করে মোট ১২টি আসন নিজেদের দখলে রয়েছে। নির্দলদের ঝুলিতে রয়েছে ২টি আসন। মৈমুর ঘরামিকে উপপ্রধান করা হতে পারে বলে জল্পনা দানা বাঁধে। রাজনৈতিক কারণে খুন নাকি অন্য কিছু, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মগরাহাট পূর্বের বিধায়ক নমিতা সাহা এই ঘটনার নেপথ্যে পরোক্ষে বিজেপিকেই দায়ী করেছে। যদিও গেরুয়া শিবিরের পালটা দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলেই খুন হয়েছেন মৈমুর ঘরামি।